মঙ্গলবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ |
গৃহকর্মীদের অধিকার আরও সুরক্ষিত করা হয়েছে

কাতারে গৃহকর্মীদের জন্য নতুন আইনে আমিরের অনুমোদন

গালফ বাংলা |  মঙ্গলবার ৩১শে অক্টোবর ২০১৭ রাত ১১:০৩:০৭
কাতারে

কাতারে কাজ করছেন বিপুলসংখ্যক গৃহকর্মী

কাতারে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক গৃহকর্মী কাজ করছেন। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের এসব গৃহকর্মী কাতারের বাসা-বাড়িতে রান্না-বান্না থেকে শুরু করে বাচ্চা প্রতিপালন, ঘর গোছানো ও অন্যান্য আরও অনেক কাজ করে থাকেন। বাংলাদেশি গৃহকর্মীর সংখ্যা বর্তমানে দশ হাজারের বেশি বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

কর্মরত এসব গৃহকর্মীর জন্য বহুল প্রতীক্ষিত আইনে অনুমোদন দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানি। মন্ত্রী পরিষদ ও মজলিসে শুরার যাচাই বাছাইয়ের পর ২০১৭ সালের ১৫ নম্বর আইন হিসেবে গত ২১ আগস্ট তিনি এতে অনুমোদন দেন। ২১ আগস্টের পর ছয় মাসের সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রত্যেক ঘরের মালিক তার তত্ত্বাবধানে কর্মরত গৃহকর্মীদের জন্য নতুন নিয়ম মেনে চলার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান।

এই নতুন আইনের ফলে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভিসায় (শাখছি ভিসায়) কর্মরত গৃহকর্মী (খাদেম-খাদ্দামা), পাচক (তাব্বাখ), চালক (সায়েক), মালীসহ অন্যান্য কর্মীর অধিকার আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত হলো।

গৃহকর্মীদের বেতনভাতা থেকে শুরু করে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা যেন শুরু থেকে স্পষ্ট ও আইনিভাবে সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য এই নতুন আইনে চুক্তিপত্রের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত চুক্তিপত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে গৃহকর্মে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি গৃহকর্মীকে আনার যাবতীয় ব্যবস্থা ও খরচ গৃহকর্তা (কফিল বা মালিক) বহন করবেন। কোনোভাবেই গৃহকর্মীর বেতন থেকে এসব খরচ বাবদ কোনো অংশ কেটে রাখা যাবে না, এমনকি এর জন্য কোনো ফি চাওয়া যাবে না।

গৃহকর্মীদের বয়স নির্ধারণ করে এই আইনে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম এবং ৬০ বছরের বেশি কোনো নারী বা পুরুষকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। কোনো অদক্ষ বা প্রতারক গৃহকর্মীর দ্বারা যেন গৃহকর্তার ক্ষতি না হয়, সেজন্য তাকে যাচাই করার সুযোগ রাখা হয়েছে আইনে।

আইনে বলা আছে, কাতারের শ্রমমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবেন, যা প্রত্যেক গৃহকর্মীর বেলায় পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই বাছাইয়ের মেয়াদ হিসেবে ধরা হবে। তবে এই যাচাই মেয়াদে কাজের জন্য গৃহকর্মী তার নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবেন। এই যাচাইয়ের সময় শেষ হওয়ার পর গৃহকর্তা চাইলে তাকে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অথবা তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, কাতারে কর্মরত সব গৃহকর্মীর জন্য উপযুক্ত পরিবেশে থাকা ও তার খাবারের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব গৃহকর্তার। একইসঙ্গে গৃহকর্মীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বও গৃহকর্তার।

গৃহকর্মী এবং গৃহকর্তা- দু পক্ষ যে পরিমাণ বেতন সম্পর্কে একমত হয়েছেন, তা নিয়মিত পরিশোধ করা গৃহকর্তার উপর অবশ্য কর্তব্য হিসেবে ধরা হবে। গৃহকর্মীদের বেতন পরবর্তী মাসের সর্বোচ্চ তৃতীয় দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

আর এসব বেতন গৃহকর্মীর জন্য নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে পাঠানোর মাধ্যমে গৃহকর্তা দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবেন। যদি গৃহকর্মীর হাতে বেতন নগদ পরিশোধ করা হয়, তবে অবশ্যই কাগজে এমন স্বাক্ষর থাকতে হবে, যা দ্বারা গৃহকর্মী বেতন বুঝে পেয়েছেন বলে বোঝা যায়।

----------------------------

আইনের দ্বিতীয় অংশ পড়তে চোখ রাখুন গালফ বাংলায়।

কাতারের আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর দেখুন এখানে

কাতার ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর