মঙ্গলবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ |

শীতের পিঠার একাল-সেকাল

গালফ বাংলা |  রবিবার ২৪শে ডিসেম্বর ২০১৭ বিকাল ০৪:০৮:২২
শীতের

গ্রামবাংলায় আগে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হতো ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব। আমন ধান কাটার পরই শুরু হতো নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের নতুন পিঠা, পোলাও, পায়েস, ক্ষীর এবং রকমারি খাবার তৈরি করা হতো কৃষকের ঘরে ঘরে। নবান্ন উৎসব উপলক্ষে গ্রামগঞ্জের কৃষক পরিবারের ঝি-জামাই এবং আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে নতুন চালের বিভিন্ন রকমের পিঠা তৈরি করে ভূরিভোজের আয়োজন করা হতো। প্রতিটি পাড়া, মহল্লা এবং বাড়ি বাড়ি নতুন চালের রান্নার মৌ মৌ ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ত। খেতেও বেশ লাগত নতুন চালের পিঠা, পোলাও, পায়েস আর ক্ষীর। তাই কৃষক পরিবারের ঝি-জামাই এবং আত্মীয়-স্বজনরা নবান্ন উৎসবের দাওয়াত পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত।

প্রাচীনকাল থেকে বাংলার কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালন করে এলেও বর্তমানে অগ্রহায়ণ-পৌষের নবান্ন উৎসব আগের মতো তেমন দেখা যায় না। নেই শীতের পিঠার ধুমধাম আয়োজন। কালের বিবর্তনে অনেক কিছু বিলুপ্ত হলেও নবান্ন উৎসব পালনের কথা ভুলতে চায় না বাংলার কৃষকরা। নবান্নের উৎসব কৃষক পাড়ায় খুব একটা দেখা না গেলেও শীতে পিঠা খাওয়ার পুরনো অভ্যাস বদলাতে পারেনি গ্রামগঞ্জের মানুষ। তাই গ্রামের অলিতে-গলিতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, স্টেশন কিংবা খেয়াঘাটে গড়ে ওঠা মৌসুমি পিঠার দোকানে অফিসগামী, পথচারী কিংবা বাড়ি ফেরার পথে অনেককেই দেখা যায় পিঠার স্বাদ নিতে।

দেরিতে হলেও এখন ভোর ও সন্ধ্যায় হিমভাব অনুভূত হচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে শীত এসে গেছে। শীত এলেই বাঙালির মনে পড়ে শীতের পিঠার কথা। পিঠা ছাড়া বাংলার শীত যেন পরিপূর্ণ হয় না। শীতে পিঠা খাওয়ার রীতি বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির অংশ। তবে শহরের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। শীতকে কেন্দ্র করে পাড়া-মহল্লা কিংবা বিভিন্ন রাস্তার পাশে ইতিমধ্যেই পিঠার দোকান নিয়ে বসছেন পিঠা বিক্রেতারা। কৌতূহলবশত কথা হল সিংগারদিঘী পুকুর পাড়ে পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে। জানা যায়, মৌসুমি শীতের পিঠার প্রতি মানুষের বেশ আগ্রহ রয়েছে। তাই পিঠার দোকানগুলো শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বেশ জমে উঠেছে। মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও তুলনামূলকভাবে সন্ধ্যায় পিঠার চাহিদা বেশি থাকে। চিতই, কুলি, চই, ভাপা, ডিমচিতই, দুধচিতই, তেলচিতই, পিরামিড ও পাটিসাপটাসহ সব ধরনের পিঠাই এখন পাওয়া যায় রাস্তার পিঠার দোকানে। তবে ভাপা ও চিতই পিঠার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পিঠা খেতে আসা একজন জানান, সন্ধ্যায় চিতই পিঠার সঙ্গে শর্ষে ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, মরিচের সঙ্গে ধনেপাতা বাটা এবং খেজুরের পাকা রসের স্বাদের কারণেই তারা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় পিঠা খেতে আসেন পুকুরপাড়ের এই পিঠার দোকানে।

বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা রাস্তার পিঠা কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত? রাস্তার পিঠার দাপটে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি নবান্ন উৎসব কি তাহলে হারিয়ে যাবে? শীত মৌসুমে নিজ নিজ বাড়িতে নির্দিষ্ট দিনে বা মাঝে মাঝে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা গেলে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব ফিরে পাবে হারানো গৌরব।

আবুল কালাম আজাদ

যুগান্তর

সংশ্লিষ্ট খবর