মঙ্গলবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ |
আইনি পরামর্শ

কাতার থেকে দেশে যেতে পারছেন না?

গালফ বাংলা |  বুধবার ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ দুপুর ০১:৩০:২৬
কাতার

কাতারে থাকাকালে একজন বিদেশি কর্মী হয়তো বিভিন্ন কারণে দেশে যাওয়ার বেলায় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। সেক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট সমাধান জানা থাকলে এ ধরণের সমস্যা খুব সহজে কাটিয়ে ওঠা যায়।

প্রথমত: যদি আপনার নিয়োগকর্তা (প্রতিষ্ঠানের মালিক বা ব্যবস্থাপক কর্মকর্তা) আপনাকে ছুটি নিয়ে দেশে যেতে অথবা চাকরি ছেড়ে চিরতরে কাতার ত্যাগে বাধা দেয়, তবে আপনার জন্য রয়েছে বিদেশি কর্মীদের বর্হিগমন সম্পর্কিত অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি। মদিনা খলিফা এলাকায় পুরনো ট্রাফিক অফিসের একটি অংশে এই কমিটির দপ্তর রয়েছে। সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয়ত তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করে অভিযোগ জানাতে হবে। সর্বোচ্চ তিনদিনের মধ্যে আপনার অভিযোগ যাচাই করে সমাধান দেবে এই কমিটি।

দ্বিতীয়ত: আপনি কথিত ফ্রি ভিসায় এসেছেন এবং যে প্রতিষ্ঠানের নামে আপনার ভিসা, সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো অফিস খুঁজে পাচ্ছেন না অথবা ছিল, কিন্তু এখন বন্ধ হয়ে গেছে, কিংবা ওই প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ না থাকায় তারা চাইলেও আপনাকে সুযোগ দিতে পারছে না- এক্ষেত্রে আপনি দেশে যেতে চাইলে যেতে হবে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তদন্ত ও অনুসন্ধান (সিআইডি) বিভাগে। এই বিভাগের কর্মকর্তারা আইনি ক্ষমতাবলে আপনাকে দেশে যেতে সহায়তা করবে।

যদি আপনার পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে, অথবা যদি আপনার পরিচয়পত্র (ইকামা) একদমই না থাকে, সেক্ষেত্রেও আপনাকে সিআইডি অফিসে হাজির হতে হবে। তবে যাওয়ার আগে যে প্রতিষ্ঠানের ভিসায় আপনি এসেছিলেন, কিন্তু তারা আপনাকে কাজের সুযোগ দেয়নি কিংবা ইকামা তৈরি করে দেয়নি- তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শ্রম মন্ত্রণালয়ে ও সিআইডির কাছে অভিযোগ করে যাবেন। এতে এ ধরণের অসাধু ও অবৈধ বাণিজ্যে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো শাস্তি ও জরিমানার মুখোমুখি হবে এবং অন্যরা তাদের প্রতারণা থেকে বাঁচার সুযোগ পাবে।

কাতারে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী দেশে যেতে হলে (নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের) সম্মতিপত্র (খুরুজিয়া) সঙ্গে রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই। বরং কেবলমাত্র নিয়োগকর্তাকে জানিয়ে আপনি দেশে যেতে পারেন। আপনার প্রতিষ্ঠান আপনাকে দেশে যেতে সম্মতি দিয়েছে কিনা- প্রয়োজনে যাত্রার আগে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের আইডি নম্বর দিয়ে তা অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন, কেন বিদেশি কর্মী দেশে যেতে হলে প্রতিষ্ঠানের বা নিয়োগকর্তার অনুমতি লাগবে? 

এর উত্তরে বলা যেতে পারে, ধরুন- একজন বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বাড়ি-গাড়ি ব্যবহার করেন, অথবা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব নিকাশের কোনো পদে তিনি কাজ করেন- এমন কর্মী যদি প্রতিষ্ঠানের সম্মতি ছাড়া নিজ দেশে চলে যাওয়ার সুযোগ পান- তবে সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বিপদে পড়ার শঙ্কা থেকে যায়। অনেকে প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বা তাদের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকেন, তারাও যদি না জানিয়ে চলে যাওয়ার সুযোগ পান- তবে সেক্ষেত্রে এসব ক্ষতির দায়ভার কে নেবে! 

ফলে এককথায় বলা যেতে পারে, দেশে যেতে হলে প্রতিষ্ঠানের বা নিয়োগকর্তার সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকারের উপায় নেই। বরং এতে দু পক্ষেরই স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষিত হয়ে থাকে। আর যদি অযৌক্তিকভাবে কেউ দেশে যেতে বাধার শিকার হন, তবে তো সমাধানের পথ আছেই, ঠিক যেমনটি উপরে তুলে ধরা হলো।

তামীম রায়হান

কাতারপ্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট খবর