মঙ্গলবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ |
আইনি পরামর্শ

কাতারে এসে কফিল খুজে পাচ্ছেন না?

গালফ বাংলা |  মঙ্গলবার ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বিকাল ০৫:২৫:২৯
কাতারে

কাতারের দাফনা এলাকা থেকে তোলা ছবি

অনেকে প্রশ্ন করেন, আমি ফ্রি ভিসায় এসেছি। কিন্তু এখন কোনো কফিল খুঁজে পাচ্ছি না। যার কাছ থেকে ভিসা কিনেছি, সে বারবার ঘোরাচ্ছে, কিন্তু কোনো বৈধ পরিচয়পত্র এবং কাজ করার কোনো পথ পাচ্ছি না।

এর উত্তর হলো, মনে রাখতে হবে, কাতারের আইনে ফ্রি ভিসা বলতে কিছু নেই। কাতারের শ্রম আইনে বলা আছে, যে কোম্পানি বা ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে আপনার নামে ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, আপনাকে সেখানেই কাজ করতে হবে। নিজ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যত্র কাজ করা অবৈধ। 

কাতারে আসার পর যে কোম্পানির নামে ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে যেতে হবে কাতার পুলিশের তদন্ত ও অনুসন্ধান বিভাগের অফিসে। এই অফিসকে সংক্ষেপে সিআইডি অফিস বলা হয়ে থাকে। এই অফিসে একটি আলাদা বিভাগ রয়েছে, যেটিকে টেকনিক্যাল বিভাগ বা আরবিতে ‘মাকতাব ফন্নি’ বলা হয়ে থাকে। সেখানে ভিসার কপি দেখানোর পর তারা ওই কোম্পানির মালিক এবং অফিসের নম্বর বের করে দেবে। এরপর আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। 

মনে রাখবেন, আপনি যে ব্যক্তি বা কোম্পানির ভিসায় এসেছেন, ওই কোম্পানি বা ব্যক্তি ছাড়া আপনি বৈধ পরিচয়পত্র বা আইডি (ইকামা) পাবেন না। যদি ওই কোম্পানি বা ব্যক্তি আপনাকে সহযোগিতা না করে অথবা ফোনে সাড়া না দেয়, তবে আবারও সিআইড অফিসে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে কাতার পুলিশ আপনাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। নিজে আরবি না জানলে আরবি ভাষায় একটি আবেদনপত্র টাইপ করিয়ে ভিসার কপিসহ নিয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন, সাধারণত বাংলাদেশি কর্মীদের মনে কাতার পুলিশ সম্পর্কে যে ভয় রয়েছে, তা অমূলক। ভয় পেয়ে সিআইড অফিসে না গিয়ে কারও ওপর ভরসা করে লুকিয়ে থাকলে আপনি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বরং কাতারে আসার পর তিনমাসের মধ্যে যদি আপনার ভিসায় উল্লেখিত কোম্পানি বা ব্যক্তি আপনার জন্য আইডি ইস্যু করার ব্যবস্থা না করে, তবে সেক্ষেত্রে আপনার উচিত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা।

আরও পড়ুন : কাতার থেকে দেশে যেতে সমস্যায় পড়লে কী করবেন?

এই বিষয়ে কখনো কোনো অবহেলা করবেন না, আপনার পাশে কাউকে অবহেলা করতে দেখলে সতর্ক করবেন। কারণ, আপনার জন্য আইডি ইস্যু করা ও আপনাকে কাজ দেওয়া ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর অবশ্য কর্তব্য। এটি না করলে কাতারের আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আপনি যত দেরি করবেন, তত আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অনেকে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে আসার আগে ছয়-সাত লাখ টাকা খরচ করেছেন। যেহেতু এই টাকা আপনি বাংলাদেশে দিয়েছেন, কাজেই এর বিরুদ্ধে কাতারে অভিযোগ করে সুফল নাও পেতে পারেন। কারণ, ভিসা বিক্রি একটি দন্ডনীয় অপরাধ। আর কাতারের সীমানার বাইরে সংঘটিত অপরাধে কাতারের আইনি কর্তৃপক্ষ চাইলেও কিছু করার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশে এ সম্পর্কিত লেনদেনের প্রমাণ থাকলে আপনি সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

বিদেশে কাজ করতে এসে কারও ভয়ে অবৈধভাবে লুকিয়ে থাকবেন না। কারও মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না।  

আরও পড়ুন: দেশে যাওযার আগে প্রবাসীদের জন্য করণীয় জরুরি বিষয়

তামীম রায়হান

লেখক ও সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট খবর