বৃহঃস্পতিবার ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ |

রমজানের বাজারে স্বস্তি মিলবে?

 বুধবার ৯ই মে ২০১৮ সন্ধ্যা ০৬:৩৬:০৮
রমজানের

দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক অজুহাত দিয়ে থাকেন

মজানের বাতাস লেগেছে বাজারে। সামান্য একটি পণ্য দিয়ে তুলে ধরা যায় বিষয়টি। রোজার ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুর একটি, যেটি বাংলা খেজুর নামে পরিচিত, সেটি সারা বছর ধরে প্রতি কেজি বিক্রি হয়ে থাকে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকায়। চলতি সপ্তাহে এই খেজুরের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে কমবেশি ২০-৩০ টাকা। আসন্ন রমজান ছাড়া এই দাম বৃদ্ধির আর কোন কারণ নেই। যতদূর জানি পবিত্র রমজান উপলক্ষে সরকার তথা রাজস্ব বোর্ড খেজুরসহ কয়েকটি আমদানিকৃত ফলমূল ও মসলাপাতির ওপর থেকে শুল্ক একদম প্রত্যাহার করে নেয় অথবা হ্রাস করে থাকে। তাহলে হঠাৎ করে দাম বেড়ে গেল কেন খেজুরের? তদুপরি, মতিঝিল-দিলকুশা এলাকায় বিবিধ ফলমূলের মধ্যে প্রায় অর্ধেকাংশই জুড়ে রয়েছে খেজুর। আর কতই না তাদের নাম ও দামের বাহার! প্রতি কেজি সর্বনিম্ন দেড় শ’ থেকে সর্বোচ্চ দুই-তিন হাজার টাকা মূল্যের খেজুর পাওয়া যায় ফুটপাথ কিংবা ভ্যানে রকমারি খেজুরের পসরা সাজিয়ে বসা একজন বিক্রেতার কাছে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, টিসিবি খোলা ট্রাকে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে ন্যায্যমূল্যে খেজুরও বিক্রি করে থাকে। তবে তা প্রায়ই পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রায়ই মশকরা করে বলে থাকে, ‘টিসিবির পণ্য পেলে হই ধন্য’!

এবার আসি আসল বাজারের কথায়। ঠাটারীবাজারÑবামাচরণ চক্রবর্তী রোড একদিকে, অন্যদিকে কাপ্তানবাজার মিলে সুবিশাল বাজার, বনেদি তথা পুরনো। তবে নোংরা, পূতিগন্ধময়, ঘিঞ্জি, ঘনবসতি ও কোলাহলপূর্ণও বটে। সম্ভবত এই বাজারটি রাজধানী তথা দেশের সবচেয়ে বড় মাংসের বাজারও বটে। ঠাটারীবাজারে মহিষ, গরু, ছাগল, পাঁঠা, হাঁস, মুরগি, টার্কি বা তিতির, কোয়েল ইত্যাদি প্রায় সবই পাওয়া যায়Ñ জ্যান্ত অথবা জবাইকৃত, পাইকারি ও খুচরা মূল্যে। তবে ক্রেতার অবশ্যই ঠিক ঠিক মাংস চিনে কিনে নেয়ার সক্ষমতা থাকা চাই। কেননা, এই বিশাল বাজারের কসাইখানায় প্রায়ই মহিষ হয়ে যায় গরু, বৃহৎ গরু হয়ে যায় বাচ্চা গরু, ছাগী হয়ে যায় খাসি, এমনকি মরা মুরগি হয়ে যায় জ্যান্ত। সম্প্রতি ভাগাড়ে ফেলে দেয়া মৃত গরু-মহিষ-ছাগল ও মুরগির মাংস গোপনে সংগ্রহ করে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও মাংসের দোকানে দেদার বেচা-বিক্রির খবর নিয়ে চলছে তুলকালাম কা-কারখানা। এ নিয়ে কলাম পর্যন্ত লিখেছেন বিখ্যাত সাংবাদিক সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত, যা ছাপা হয়েছে বাংলাদেশের পত্রিকায়ও। সুখ্যাত ঠাটারীবাজারে ওই রকম অশৈলী ও পশুসুলভ কা-কারখানা চলে কিনা, এমন কথা জোর দিয়ে বলতে পারি না। তবে একাধিকবার রিক্সাভ্যানে চড়িয়ে অসুস্থ ও মৃতপ্রায় গরু-মহিষকে স্বচক্ষে নিয়ে যেতে দেখেছি এই বাজারের কসাইখানায়। বিভিন্ন মাংসের দোকান ও জবাইখানার গলি-ঘুঁজিতে ঘুরে যা দেখেছি তা হলো জবাইকৃত পশু, তা সে হাঁস-মুরগি-ছাগল-ভেড়া-গরু-মহিষ যা-ই হোক না কেন, হেন কিছু অবশিষ্ট থাকে না, যা বিক্রি করা হয় না এই বাজারে। এখানে সামান্য একটি নমুনা তথা উদাহরণ দিই। একদিন এক ক্রেতাকে এক বস্তাভর্তি ব্রয়লার মুরগির ঠ্যাং কিনতে দেখে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই এত পরিমাণ মুরগির পা নিয়ে কি করেন? ক্রেতা বেচারা মালিবাগের একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। অবলীলাক্রমে বললেন এত বিপুল পরিমাণ ঠ্যাং কেনার রহস্য। তিনি জানালেন, এগুলো নিয়ে ক্রাশার মেশিনে গুঁড়া করে মসলা দিয়ে জ্বাল দিই। এরপর পেঁয়াজ-আদা-কাঁচা মরিচ-কাসুন্দি-ধনেপাতা-সরষের তেল-টমেটোকুচিসহযোগে বানিয়ে থাকি ঝালমুড়ি। ঝালমুড়ির কুড়মুড়ে ভাবটা আসে এ থেকে। আমার তো আক্কেল গুরুম। ঝালমুড়ি একটি খুবই সুস্বাদু ও মুখরোচক ¯œ্যাকস, সন্দেহ নেই। আর তাতে মুরগির ঠ্যাংয়ের গুঁড়া মেশালে যে আরও সুস্বাদু ও প্রোটিন সংযুক্ত হয়ে ওঠে, এতে তো দ্বিমত পোষণ করা চলে না। আর এটাও তো সত্যি যে, পাবলিক খায় বলেই বেটা বানিয়ে থাকে নতুন রেসিপির ঝালমুড়ি। মাংসের ব্যাপারে আপাতত এটুকুই থাক।

তাই বলে শেষ মুহূর্তে মনে পড়ে যাওয়া কথাটাও না বললেই নয়। মাংসের বাজারে তেজীভাব কিন্তু বিরাজ করছে শব-ই-বরাতের আগে থেকেই। প্রতি বছর ঘটা করে দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয় গরু-খাসির মাংসে দাম বেঁধে দেন সংবাদ সম্মেলন করে। এটি একটি নিতান্তই হাস্যকর প্রচেষ্টা। বেঁধে দেয়া দামে কেউ কখনোই ভাল মাংস পাবেন না, এটুকু গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। আর সরকার তথা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঘুমও ভাঙ্গে বড্ড দেরি করে। তারা বরং এখনই হাঁস-মুরগি-ডিম-গরু ও খাসির মাংস আমদানির দিকে নজর দিতে পারে। প্রসঙ্গত বলি, ভারত থেকে কিন্তু শুধু গরু নয়, গরুর মাংসও আমদানি হচ্ছে, তবে বাজারের চাহিদার তুলনায় পরিমাণে কম।

এবারে মুদিপণ্য নিয়ে একটু বলি। ঠাটারীবাজারের প্রায় প্রতিটি দোকান কিন্তু বিবিধ পণ্যে বোঝাই, এমনকি উদ্বৃত্তও। শুধু দোকান নয়, গুদামও ঠাসা রকমারি পণ্যে। বেশ বোঝা যায় যে, রোজার আগে বিপুল মজুদ গড়ে তুলছে প্রায় সব পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী। দামও অন্তত চলতি সপ্তাহে সহনশীল। অন্তত কোন পণ্যের ঘাটতি তথা দামে উল্লম্ফন প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়া নিয়ে যে রিপোর্ট হলো, তাতে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কেননা, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি প্রচুর। দেশী পেঁয়াজও কম না। রমজানে অন্তত পাঁচ-ছয়টি নিত্যপণ্য খুব বেশি চলে থাকে। যেমনÑ ছোলা, ডাবলি, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ। বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ। আমদানি ও মজুদ যথেষ্ট গড়ে তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। সুতরাং দাম বাড়ার আদৌ কোন কারণ নেই, যদি না পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা রমজানকে সামনে রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুটা ‘অসৎ’ হন। এ প্রসঙ্গে আরও একটি তথ্য জানিয়ে রাখি। বর্তমানে বিশ্ববাজারে এসব নিত্যপণ্যের দামও বেশ কম, অন্তত সহনশীল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনের খবর, রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়, সেসবের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানি যথেষ্ট সন্তোষজনক। তদুপরি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় প্রতিদিনই নতুন জাহাজ ও কন্টেনার ভর্তি করে আসছে রোজার পণ্য। চালের বাজারেও রয়েছে স্বস্তি। বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে সারা দেশে। ধান কাটা ও মাড়াইও শুরু হয়েছে। এখন বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলেই রক্ষা। তবে বাংলাদেশের মতো অত্যধিক জনসংখ্যাবহুল দেশে শেষ পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত করে বলা যায় না। বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যা বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৭৬ ডলার। অসৎ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা এর সুযোগ নিতে পারেন বৈকি।

স্থানীয় শাক-সবজির বাজারে এখন থেকেই বিরাজ করছে তেজীভাব। আলু, পেঁয়াজের বাইরে প্রায় কোন সবজিই ৪০-৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। অসময়ে বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও ঝড়ঝঞ্ঝা এর আপাত কারণ হতে পারে। তবে মানতে হবে যে, গ্রীষ্ম-বর্ষার মৌসুমে এমনিতেই সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ কম। বৈচিত্র্য তো ততোধিক কম। তদুপরি ভারি বৃষ্টিপাতে ভেসে যায় সবজিতলা। ফলে দাম বাড়ে শাক-সবজির। এর পাশাপাশি ইফতারির উপকরণ হিসেবে শসা, টমেটো, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ ইত্যাদির দাম আরও বাড়তে পারে চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত থাকার কারণে। ব্যবসায়ীরা এর সুযোগ নেবেই। ভরা মৌসুম থাকায় লেবুর দাম থাকবে সহনশীল।

রমজানকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য দেশে শুরু হয়েছে মূল্যহ্রাস ও মূল্য প্রত্যাহারের প্রতিযোগিতা। আর আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টো। সব ব্যবসায়ী অসৎ ও অসাধু এ কথা বলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে কিছুসংখ্যক অতিরিক্ত মুনাফালোভী মজুদদার ও ব্যবসায়ীর কারণে প্রতি বছর রমজানের বাজারে একটা হুলস্থুল পড়ে যায়। এবার তার ব্যতিক্রম হবে, এমনটা আশা করা বাতুলতা।

রমজান আসতে কয়েক দিন বাকি। বাজারে প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দামে উত্তাপ লক্ষ্য করে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, রমজান আসন্ন। রোজাদারদের প্রায় জিম্মি করে নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় যেন নেমে পড়তে চাইছেন সব আমদানিকারক, প্রস্তুতকারকসহ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছরই একই চিত্র লক্ষ্য করা যায় রমজান, ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। গত বছর সিলেট ও কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে ব্যাপক ফসলহানির আগে থেকেই নানা কারসাজি করে চালের দাম বাড়াতে থাকে ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যুক্ত হলে সর্বাধিক দাম বাড়ার চাপ পড়ে চালের বাজারে। তাই বলে আটা, চিনি, ভোজ্যতেল, গুঁড়া দুধ, লবণও কিছু কম যায়নি। দাম বাড়ানোর জন্য সংস্কারের নামে চিনির কারখানা বন্ধ করে দেয়ারও খবর আছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে ভোগ্যপণ্যের দাম কমতির দিকে। সে অবস্থায় দেশে প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়া কিছু নয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, গুঁড়া দুধ, ছোলা, লবণ ইত্যাদির দাম কমলেও দেশে বাড়ছে এসব নিত্যপণ্যের দাম। এর একটি আপাত কারণ হতে পারে রমজান। এ নিয়ে নানা কারসাজি ব্যবসায়ীরা করে থাকেন প্রতিবছরই। দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক অজুহাত দিয়ে থাকেন। কখনও বলছেন, আকস্মিক মৌসুমী বৃষ্টিপাত, কখনওবা বৈশাখ মাস, কখনও বলছেন চাহিদা বেশি, যোগান কম ইত্যাদি। কেউ কেউ বলছেন, ভারত থেকে চাল আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করায় ব্যবসায়ীরা চাল আনছেন না। ফলে চাপ পড়েছে দেশীয় চালে। অথচ ধান-চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পর এমনটি হওয়ার কথা নয়। সর্বশেষ, বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, বিশ্বে সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে চতুর্থ এবং গবাদিপশু ও পোল্ট্রিতে উৎপাদন বাড়লেও ক্রেতাকে এসব পণ্যই কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। ফলে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে আর অসহায় হয়ে পড়েছে গরিব ক্রেতারা।

প্রভাব পড়েছে শাক-সবজির বাজারেও। তবে সর্বাধিক উল্লম্ফন পরিলক্ষিত হচ্ছে গরু ও খাসির মাংসের দামে। গাবতলীসহ গরুরহাট এবং সীমান্তে গরু চোরাচালান নিয়ে প্রবল টানাপোড়েন চলতে থাকায় মাংসের বাজার বেশ চড়া। জনগণের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, প্রয়োজনে বিদেশ থেকে মাংস আমদানি করা হোক। মাংসের দামের অনিবার্য প্রভাব পড়েছে মাছ, ডিম ও দুধের বাজারেও। অথচ বাস্তবতা হলো আন্তর্জাতিক বাজারে, এমনকি প্রতিবেশী দেশেও ভোগ্যপণ্যের দাম বর্তমানে নিম্নমুখী। এ থেকে যা বোধগম্য হয় তা হলো রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে প্রায় অবাধে সুযোগ নিচ্ছেন ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকসহ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। আর জনগণ বহুল উচ্চারিত এই সিন্ডিকেটের সামনে অনেকটা অসহায়, প্রায় জিম্মি হয়ে পড়েছে। অথচ বিদেশে উৎসব, পালা-পার্বণ উপলক্ষে ব্যাপক ছাড় দেয়া হয় ভোগ্যপণ্যে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমতির দিকে। অথচ আমাদের দেশে ঠিক এর উল্টো। কোন কারণ ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে সম্প্রতি। জাত ও মান ভেদে মুসুরি বাদে অন্যান্য ডালের দাম ২৮ শতাংশ এবং লবণের দাম ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। কোরবানির ঈদে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিপুল পরিমাণ লবণের চাহিদা থাকলেও আকস্মিক লবণের দামের এই মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেয়া যায় না কিছুতেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে দুই লাখ টন লবণ আমদানি করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল, ডাল, লবণ, গুঁড়া দুধ, চিনি ইত্যাদি ভোগ্যপণ্যের দাম কমা সত্ত্বেও দেশীয় বাজারে কেন অযৌক্তিকভাবে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে, তার কারণ অনুসন্ধান করে দেখতে হবে সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের। গরম মসলার দামও মনিটরিং করা বাঞ্ছনীয়।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নানা কারণের মধ্যে অন্যতম হলো দুর্বল বাজার মনিটরিং, অসাধু আমদানিকারক, উৎপাদক, পরিবেশক, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, অকার্যকর টিসিবি, সর্বোপরি ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে আদৌ কোন সমন্বয় না থাকা। যে কারণে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ অধিকার এবং সংরক্ষণ বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সিন্ডিকেট তথা মুুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী চক্রের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফা লুটে নেয়ার কথা প্রায়ই উচ্চারিত হয়। এফবিসিসিআই, ঢাকা চেম্বার, মেট্রো চেম্বারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো খুবই শক্তিশালী এবং সরকারের ওপর তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তিও অস্বীকার করা যায় না। জাতীয় সংসদেও ব্যবসায়ীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ একরকম উপেক্ষিত ও অনালোচিত থাকছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি থাকবেই। তবে এসবই হতে হবে নীতি-নৈতিকতা, সততা ও নিয়মকানুনের আওতায়, যেক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি রয়েছে বহুলাংশে। সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হতে হবে বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে।

জনকণ্ঠ

সংশ্লিষ্ট খবর