বুধবার ২১শে নভেম্বর ২০১৮ |

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস, জাকার্তায় ব্যাপক বিক্ষোভ

 শনিবার ১২ই মে ২০১৮ দুপুর ০২:৫১:৪১
জেরুজালেমে

ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে এ বিক্ষোভে সমবেত হন নানা বয়সের, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে জাকার্তায় ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ১১ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাকার্তার ন্যাশনাল মনুমেন্টে সমবেত হন বিক্ষোভকারীরা। ইসলামিক ডিফেন্ডার্স ফ্রন্টসহ (এফপিআই) দেশটির ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে এ বিক্ষোভে সমবেত হন নানা বয়সের, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজকদের একজন জানান, এই পদযাত্রার মাধ্যমে তারা জেরুজালেম ইস্যুতে ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহমর্মিতার জানান দিয়েছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নয়টি প্রস্তাবের প্রতি চরম অবজ্ঞা।

সমাবেশে ইন্দোনেশিয়ান উলেমা কাউন্সিল জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পক্ষে তাদের অবস্থান ঘোষণা করে। অন্যান্য দেশকেও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, আগামী ১৪ মে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে দখলকৃত জেরুজালেম শহরে স্থানান্তরের কথা রয়েছে। এরইমধ্যে ওই এলাকায় ‘মার্কিন দূতাবাসের’ রোড সাইন স্থাপন করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। এ নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি দেশ। তবে বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের মুখেও অনড় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে সৌদি যুবরাজও ফিলিস্তিনকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে।

২০১৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে দেশটির ইহুদি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ওই বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে যুবরাজ বলেন, সমস্যা সমাধানে আলোচনার টেবিলে বসুন। অন্যথায় অভিযোগ করা বন্ধ করে চুপ থাকুন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের শর্তগুলো ফিলিস্তিনি নেতাদের অবশ্যই  মানতে হবে। সৌদি যুবরাজ অভিযোগ করেন, কয়েক দশক ধরে শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি নেতারা একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করেছেন।

এর আগে জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী স্থানান্তরের মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তুরস্কে ওআইসি-ভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকেও শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি পাঠানো থেকে বিরত থাকে সৌদি আরব।

১৪ মে জেরুজালেমে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা, তার স্বামী ইহুদি ধর্মাবলম্বী জ্যারেড কুশনার এবং অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মোনুচিন। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রাইডম্যান এবং ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জ্যাসন গ্রিনব্লাটও এতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন

সংশ্লিষ্ট খবর