মঙ্গলবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ |

কাতারের এলএনজিতে জেগে উঠছে চট্টগ্রাম

 মঙ্গলবার ১১ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ সকাল ১০:২৪:১৬
কাতারের

কাতার থেকে দ্বিতীয় দফায় এলএনজি পেল বাংলাদেশ। ৮ সেপ্টেম্বর ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মিত এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছেছে বহনকারী জাহাজ।

এর মাধ্যমে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) পাইপ লাইনে যুক্ত হয়েছে আরও ২শ’ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি। আর এই সংযুক্তির মধ্য দিয়ে এলএনজি সরবরাহ দৈনিক ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। 

গ্যাসের অভাবে শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রাউজান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল।  এখন সরবরাহ দেওয়ার পর ২০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।  একইভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে রাউজান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও।

কক্সবাজারের মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল থেকে এই ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয় চট্টগ্রামের আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় নির্মিত সেন্ট্রাল জেনারেটিং স্টেশনে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সেই গ্যাস সংযোজিত হয় কর্ণফুলীর পাইপ লাইনে।

চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলক এলএনজি সরবরাহ শুরু হয় গত ১৮ আগস্ট। প্রথমে ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং পরে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ হচ্ছিল। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে থেকে তা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে বলে দাবি করেছে কেজিডিসিএল ।

এর আগে প্রথম দফায় গত ২৪ এপ্রিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯শ’ ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে প্রথম জাহাজটি মাতারবাড়ি উপকূলে পৌঁছেছিল। এই জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তরের কাজ চলছে বাংলাদেশ রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায়। দৈনিক ৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্রহণ ও সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে এই সংস্থাটির। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুট যুক্ত হয়েছে। মূলত চট্টগ্রামের চাহিদা মেটাতে কাতার থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে গ্যাস সঙ্কট নিরসনে শিল্পোদ্যোক্তা ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এলএনজি আমদানির দাবি ছিল দীর্ঘদিন ধরে। গ্যাসের অভাবে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন ব্যাহত হচ্ছিল। স্থাপনা করা অনেক শিল্প কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছিল না। এই সঙ্কট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার কাতার থেকে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

২০১০ সালে প্রাথমিকভাবে গৃহীত হয় এলএনজি প্রকল্প। এরপর ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়। এর দুই বছরের মধ্যেই মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মিত হয় এলএনজি টার্মিনাল।

সংশ্লিষ্ট খবর