মঙ্গলবার ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ |
অযথা বিতর্ক ও কাঁদা ছোড়াছুড়ি

কমিউনিটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ নিয়ে অভিযোগ

 বুধবার ১২ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ সকাল ১০:৩৭:৪৬
কমিউনিটি

কাতারে বাংলাদেশ কমিউনিটি কাতার নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক গ্রুপে সাম্প্রতিক সময়ে পারস্পরিক রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছুড়ি ও বাণিজ্যিক এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের চর্চা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এতে বিরক্তিবোধ করছেন অন্য সদস্যরা।

বেশ কয়েকজন প্রবাসী অভিযোগ করে জানান, এ গ্রুপে ভালো কিছুর চেয়ে মন্দের চর্চা বেশি হচ্ছে, ফলে তারা প্রায়ই বিরক্তবোধ করেন। কমিউনিটির সবার জন্য উপকারী, এমন তথ্য ও বার্তা জানার আশায় তারা এই গ্রুপে সংযুক্ত থাকতে চান, পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক চর্চার হাত থেকে মুক্তিও চান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রুপটির অ্যাডমিন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি কাতারের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আমিন রসুল সাইফুল বলেন, মূলত কিছু লোক এটিকে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায়। এর মধ্যে বেশিরভাগই রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত থাকেন। ফলে যারা রাজনীতি করে না, তাদের জন্য এটা বিরক্তির কারণ বলে তিনি স্বীকার করেন। যারা এই গ্রুপে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক বিষয় শেয়ার করেন এবং মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্যে ব্যস্ত থাকেন, তাদেরকে নিয়মিত সতর্ক করা হয়।


জানা গেছে, গ্রুপটিতে বর্তমানে ১৫০-২০০ জন প্রবাসী সংযুক্ত আছেন। এটির অ্যাডমিন সাইফুল বিভিন্ন সংগঠনের নেতা এবং তার পরিচিতজনদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। দু-আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে এটি চালু রয়েছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে একজন প্রবাসী জানান, রাজনৈতিক অনুসারী এবং কয়েকজন সাংবাদিক প্রায়ই এই গ্রুপে পারস্পরিক বিভেদে লিপ্ত হন। শ দুয়েক সদস্যের এই গ্রুপে গুটি কয়েক মানুষের কর্মকান্ডে অনেকে অতিষ্ঠ হচ্ছে, কিন্তু তারপরও কেউ থামছে না।

গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য গোলাম মাওলা হাজারি বলেন, গ্রুপে যেসব বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ও রাজনৈতিক বিষয় শেয়ার করা হয়, তা বিরক্তিকর। বর্তমানে এখানে আঞ্চলিকতা ও রাজনৈতিক চর্চা বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব না করে কল্যাণমূলক এবং সবার জন্য উপকারী কিছু বিষয় শেয়ার করা হলে ভালো হতো।

গোলাম মাওলা আরও বলেন, আমি প্রায়ই যুক্তিসঙ্গত এমন কিছু বিষয় শেয়ার করি, যা অনেকের জন্য কষ্টের কারণ হয়, তারা আমার এসব কর্মকান্ডে বিরক্ত হতে পারেন।

বাংলাদেশি কমিউনিটি কাতারের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, এটি তৈরি করা হয়েছিল যে কারণে, তা কেউ জানতে চায় না। কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটির যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সে ব্যাপারে দ্রুততম সময়ে সবাইকে জানাতে এটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন অনেকে ব্যক্তিগত জন্মদিন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করছে, যা বিরক্তিকর।

কমিউনিটির এই নেতা আরও বলেন, যারা বিরক্তিবোধের অভিযোগ করছেন, তারা শতভাগ সত্য কথা বলছেন। আমি মনে করি, ব্যক্তিগত কোনো অর্জনও এখানে দেওয়া উচিত না। বরং সবার জন্য যা উপকারী, সেসব এখানে তুলে ধরা উচিত।

প্রকৌশলী আনোয়ার বলেন, আমি একবার বের হয়ে গিয়েছিলাম, তারপর আবারও আমাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। অ্যাডমিন সাইফুলকে আমি বেশ কয়েকবার এটি নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছি। কিন্তু সদস্যরা নিয়ন্ত্রিত না হলে তো অ্যাডমিন একা কিছু করতে পারবে না।

প্রবীণ প্রবাসী নজরুল ইসলাম বলেন, কার কথা কে শোনে। ব্যক্তিগত বিষয় থেকে শুরু করে খবরাখবরসহ অনেক কিছু এখানে চলে আসে। কেউ যেন এখানে অপ্রয়োজনীয় বিষয় না দেয়, সেজন্য গ্রুপের অ্যাডমিনকে আরও কঠোর হতে বলব। রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আরও অনেকে নিজেদের স্বার্থে এই গ্রুপকে ব্যবহার করতে চায় এবং সেটাই হচ্ছে।

সূত্র: প্রথম আলো সাপ্তাহিক উপসাগরীয় সংস্করণ

সংশ্লিষ্ট খবর