বুধবার ১লা এপ্রিল ২০২০ |

অনন্তলোকে সোনালী কাবিনের আল মাহমুদ

 শনিবার ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রাত ০২:৪০:৪৬
অনন্তলোকে

আল মাহমুদ। ছবি-সংগৃহীত

আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শক্তিধর পুরুষ আল মাহমুদ আর নেই। গতকাল রাত  ১১টার দিকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ  নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। কবির পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি  সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আল মাহমুদের পুরো নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কুমিল্লার  দাউদকান্দি ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লেখাপড়া করা আল মাহমুদ বেড়ে ওঠেন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তরুণ বয়স থেকেই লেখালেখিতে জড়িয়ে পড়া শক্তিধর এ কবি  পঞ্চাশের দশকের শুরুতে ঢাকায় আসেন। তখন থেকে সত্তর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত  তিনি সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন।

আধুনিক কবিতায় লোকজ উপাদানের ব্যবহার ব্যাপকতা পেয়েছিল আল মাহমুদের  কলমে। খড়ের গম্বুজ নির্মাতা এ কবি শস্যের শিল্পীদের আড্ডা দেখেছেন, চরের  মাটির ভাঁজ খোলা দেখে বিমোহিত হয়েছেন, শৈশবে দেখে আসা মক্তবের মেয়ে আয়েশা  আক্তারের ছবি মনে করিয়ে দিয়েছেন কবিতাপ্রেমীদের।

কৈশোরে পাকিস্তানের জন্ম দেখা আল মাহমুদ ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন জাতিগত পীড়ন  ও বঞ্চনা। আন্তর্জাতিক সাম্যবাদী আন্দোলনে প্রাণিত কলমে তিনি জানিয়েছেন:  লুলিত সাম্যের ধ্বনি ব্যর্থ হয়ে যায় বারবার/বর্গিরা লুটেছে ধান, নিম খুনে  ভরে জনপদ/তোমার চেয়েও বড়ো, হে শ্যামাঙ্গী, শস্যের বিপদ।

কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো/ আর আমি মাকে  জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো—‘প্রত্যাবর্তনের  লজ্জা’ কবিতার স্রষ্টা আল মাহমুদ ব্যাধি ও বার্ধক্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের  লড়াইয়ে ক্ষান্ত টেনে অনন্তলোকে ফিরে গেছেন। আর যাওয়ার আগে বাংলা কবিতার  পাঠককে আটকে গেছেন দেশজতা, মানবিকতা, সাম্যবাদ ও বিশ্বাসে মগ্ন থাকার  আকুতিতে। কাব্যচর্চায় আধুনিকতাবোধের সঙ্গে তিনি চিরকালীন বাঙালিয়ানার পরিণয়  পাকা করে গেছেন সোনালী কাবিনে।

কাতার ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর