শুক্রবার ১৯শে জুলাই ২০১৯ |

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র নাম দিয়েছে বাংলাদেশ

 শুক্রবার ৩রা মে ২০১৯ রাত ১১:২৩:৫৪
ঘূর্ণিঝড়

ঘূর্ণীঝড় ফণীর থেকে নিরাপদ থাকার আহ্বান জানিয়ে ভারতের ওড়িশার পুরী উপকূলে বালুর শিল্প তৈরি করেছেন এক ব্যক্তি। ছবি: এনডিটিভি।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ নামটি দিয়েছে  বাংলাদেশ। এর অর্থ সাপ বা ফণা তুলতে পারে এমন প্রাণী। ইংরেজিতে (Fani) লেখা  হলেও এর উচ্চারণ ফণী। 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি  একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে। যেমন ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই  সংস্থার আটটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার,  মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ওমান, যাদের প্যানেলকে বলা হয়  WMO/ESCAP।

এক সময় ঝড়গুলোকে নানা নম্বর দিয়ে  সনাক্ত করা হতো। কিন্তু সেসব নম্বর সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হতো। ফলে সেগুলোর পূর্বাভাস দেয়া, মানুষ বা নৌযানগুলোকে সতর্ক করাও কঠিন মনে হতো।

এ কারণে ২০০৪ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোয় ঝড়ের নামকরণ শুরু হয়।

সে সময় আটটি দেশ মিলে মোট ৬৪টি নাম প্রস্তাব করে। সেসব ঝড়ের নামের মধ্যে এখন ‘ফণী’ ঝড়কে বাদ দিলে আর সাতটি নাম বাকী রয়েছে। এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে ঝড়ের নামকরণ করা হতো।

ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা  হলেও আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় হারিকেন, প্রশান্ত  মহাসাগরীয় অঞ্চলে বলা হয় টাইফুন।

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর উপকূলের আটটি দেশের  প্রস্তাব অনুসারে একটি তালিকা থেকে একটির পর একটি ঝড়ের নামকরণ করা হয়।  আঞ্চলিক এই আটটি দেশ একেকবারে আটটি করে ঝড়ের নাম প্রস্তাব করেছে। প্রথম  দফায় মোট ৬৪টি নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

যেমন ফণী নামটি বাংলাদেশের দেয়া। এরপরের  ঝড়ের নাম হবে ভারতের প্রস্তাব অনুযায়ী ভায়ু। তারপরে আরো ছয়টি ঝড়ের  জন্য এখনো নাম তালিকায় রয়েছে।

সেগুলো হলো হিক্কা, কায়ার, মাহা, বুলবুল,  পাউয়ান এবং আম্ফান। এই নামগুলো শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারা আবার বৈঠকে বসে  নতুন নামকরণ করবে। ফণীর মাধ্যমে শেষ সাইকেল শুরু হলো। এরপরে আরো সাতটি ঝড়ের পর বাংলাদেশ আবার  চারটি ঝড়ের জন্য নাম দেবে।

এর আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা  নামগুলো ছিল হেলেন, চাপালা ও অক্ষি। তবে বেশির ক্ষেত্রে ঝড়ের নামকরণে  মেয়েদের নামের প্রাধান্য দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর