শুক্রবার ২৩শে আগস্ট ২০১৯ |

অভিবাসী শ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিকারের উপায়

 বুধবার ২২শে মে ২০১৯ রাত ১২:২৬:২১
অভিবাসী

বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত যা ‘থ্রি ডি চাকরি’ (ঝুঁকিপূর্ণ, নোংরা ও জটিল) নামে পরিচিত। স্বাভাবিকভাবে তাই এধরনের কাজে শ্রমিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি। শ্রমিকের উচিত নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যথেষ্ট যত্নবান হওয়া ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। সুস্বাস্থ্য কাজের প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধি করবে এবং অভিবাসনের মূল লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিক সক্ষম হবে।

সুস্বাস্থ্য কী

স্বাস্থ্য বলতে একসাথে শারীরিক ও মানসিক উভয়কেই বুঝায়। উভয়ই একে অন্যের সাথে পারস্পরিকভাবে জড়িত। আর সুস্বাস্থ্য বলতে শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে বুঝায়। উভয় স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে প্রবাসে অভিবাসী শ্রমিকের কর্মজীবন ব্যাহত হয় এবং অভিবাসনের লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

অভিবাসী শ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্য

প্রবাস জীবনে একজন অভিবাসী শ্রমিক সাধারণত গৃহপীড়া/হোমসিক্নেস (Home sickness) ও হতাশা/বিষণ্নতা এ দুই মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হন।  নিম্নে এ নিয়ে আলোচনা করা হলো:

গৃহপীড়া/হোমসিক্নেস (home sickness)

শ্রমিক প্রবাসে যাবার পর পরই নিজ পরিবার, বিশেষ করে সন্তান, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ছেড়ে যাওয়ার কারণে মানসিকভাবে প্রচন্ড অস্থিরতায় ভোগেন। এ সময়ে তাদের কিছু ভালো লাগেনা ও দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা হয়। এ ধরনের মানসিক অবস্থাকে গৃহপীড়া/হোমসিক্নেস (home sickness) বলে। মনে রাখতে হবে, প্রবাস জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে অধিকাংশ মানুষ হোমসিক্নেস সমস্যায় ভোগেন এবং কয়েক মাস অতিবাহিত হবার পর এটি ঠিক হয়ে যায়। তবে এ সমস্যা দ্বারা বেশি মাত্রায় প্রভাবিত না হয়ে এ থেকে পরিত্রাণের চেষ্টা করতে হবে।

হোমসিক্নেস/গৃহপীড়া থেকে পরিত্রাণের উপায়গুলো হলো:

বিদেশে সময় কাটানোর জন্য লক্ষ্য স্থির করা। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজেকে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া এবং ভালো কাজের মাধ্যমে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সুনাম অর্জন করা-এরূপ প্রতিজ্ঞা নিয়ে অভিবাসী শ্রমিককে নতুন কর্মক্ষেত্রে জীবন শুরু করতে হবে। এ ধরনের লক্ষ্য বিদেশে কর্মীর কাজে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

শ্রমিক নিজেকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখতে পারলে বাড়ির জন্য মন খারাপ কম হবে। ব্যক্তিগত ও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলে সময় কেটে যাবে এবং দেশের কথা কম মনে পড়বে।

শারীরিক ব্যায়াম আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

নিজ দেশে পরিবার ও বন্ধু স্বজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ভালো, তবে অতিমাত্রায় যোগাযোগ কর্মীকে বিষন্নতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সন্তান বা পরিবারের আপনজনের ছবি সাথে রাখা ভাল। অবসর সময়ে তাদের ছবি দেখলে মন ভালো হয় এবং কাজে উৎসাহ বাড়ে।

গৃহকর্তার মনোভাব বুঝে, তার অনুমতি সাপেক্ষে সাথে নেয়া মোবাইল ফোন সেটটি চালু করা যাবে এবং তা নিজ খরচে করা উচিত।

ইন্টারনেটে অডিও এবং ভিডিও কলে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

চিঠি লেখার মাধ্যমেও পরিবার ও বন্ধু-স্বজনদের সাথে যোগাযোগ রাখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে চিঠি পাঠানোর ঠিকানা জেনে যেতে হবে ও গৃহকর্তার বা ঐ পরিবারের সদস্য বা কর্মচারীর মাধ্যমে অথবা সুযোগ থাকলে নিজেই চিঠি পোস্ট করা যেতে পারে।

কর্মস্থলে সহকর্মী এবং নিয়োগকর্তার সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। বিদেশে অবস্থিত অন্যান্য স্বদেশী কর্মীদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে।

একাকীত্ব এড়ানোর জন্য বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হবে।

সম্ভব হলে দেশি পত্রিকা পড়া ভাল (বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও ইন্টারনেটে অনেক বাংলা পত্রিকা পাওয়া যায়)।

টিভিতে বা ইউটিউবে এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেল দেখা যায়। অবসর সময়ে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো দেখলেও মন ভালো থাকে।

আপনি কেন একাকীত্ব বোধ করেন সে ব্যাপারে জানুন

প্রতিটি মানুষের একাকীত্বের কারণ আলাদা।  কেউ হয়ত শারীরিকভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন, আবার কেউ হয়ত শিকার  হয়েছেন বৈষম্যের, কারও পক্ষে অন্যকে বিশ্বাস করা কঠিন, আবার অনেকেই জানেন না নিজের মন মানসিকতার সঙ্গে মিল আছে এমন মানুষ কোথায় পাবেন।

একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসার সমাধান বের  করার সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হল, কেন একাকীত্ব অনুভব করছেন সেটা আগে জানা। এক্ষেত্রে আপনার সমাধান যদি কাজ না করে তাহলে অন্য কিছু চেষ্টা করুন।

অপেক্ষা করুন

আমরা জানি যে একাকীত্বের এই অনুভূতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্থায়ী। তবে যারা দীর্ঘস্থায়ী একাকীত্বে ভুগছেন তাদের জন্য হয়ত অন্য কোন সমাধান কার্যকর হতে পারে। ,যারা একাকীত্বে ভুগছেন  তাদের বেশিরভাগই জানিয়েছেন যে একাকীত্বের এই অনুভূতি সময়ের সঙ্গে চলে  যায়।

তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করা তাদের ক্ষেত্রে কাজে দিয়েছে। জরিপে দেখা গিয়েছে যে একাকীত্বের অনুভূতি সময়ের সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যায়।

আরও জেনে রাখুন

নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য যা যা করণীয়

হঠাৎ আঘাত পেলে

ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা থেকে সাবধান

কোথায় গাড়ি থামালে কত জরিমানা

কফিলের কোম্পানি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করার নিয়ম

পরামর্শ ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর