মঙ্গলবার ২৫শে জুন ২০১৯ |

মধ্যপ্রাচ্যে কী হচ্ছে

 বৃহঃস্পতিবার ২৩শে মে ২০১৯ ভোর ০৪:০১:৪২
মধ্যপ্রাচ্যে

বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু আমেরিকা।  প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায় আমেরিকাকে ঘিরেই আবর্তিত হয় পৃথিবীর ঘটনাপ্রবাহ  আর তৈরি হয় নতুন নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপরই বিশ্ব  রাজনীতিতে আমেরিকার সর্বাত্মক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়ে পড়ে, তবে একচ্ছত্রভাবে  বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ও নীতিনির্ধারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ হয় দ্বিতীয়  বিশ্বযুদ্ধের পর। এখন পর্যন্ত পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার তেজ ও ক্ষমতা  ভালোভাবেই আঁচ করছে বিশ্ব। প্রায় শুরু থেকেই বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্তা  আমেরিকার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণের বিষয় হচ্ছে মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্য। এ  পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যেভাবে আমেরিকার আধিপত্য ও উপস্থিতি আছে,  তা অন্য যেকোনও অঞ্চলের চেয়ে বেশি। ষাটের দশকে এই যাত্রা শুরু হয় ইরানের  নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ড. মোসাদ্দেক আলীকে উৎখাতের মধ্য দিয়ে।  তারপর থেকে এ অঞ্চলে আমেরিকার একচ্ছত্র ক্ষমতায়ন চোখে পড়ার মতো। আমেরিকার  মদদে কখনও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ, কখনও সরাসরি সম্মুখ সমর, কখনও বা বন্ধু  দেশের হয়ে অন্য দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ, আবার কখনও বিদ্রোহী  গোষ্ঠীকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা, কখনও আবার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত, এগুলো  এ অঞ্চলের প্রায় নিয়মিত ঘটনা। এ অঞ্চলে আমেরিকার উপস্থিতি ও আধিপত্যের  সবচেয়ে বড় সমালোচক ও বিরোধী ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই  ইরানকে যেকোনও মূল্যে দমাতে চেয়েছে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার থেকে হালের  ডোনাল্ড ট্রাম্প সবাই।

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার উপস্থিতির অন্যতম কারণ উপসাগরীয় এলাকায় তেলের  কৌশলগত প্রাপ্তি সুরক্ষিত করা, ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা; মার্কিন  সামরিক ঘাঁটি বজায় রাখা, উপসাগরীয় অঞ্চলে বন্ধুত্বপূর্ণ শাসকদের রক্ষা;  এবং হামাস, আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস)  এবং ইসলামি আন্দোলন ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরোধিতা করা এবং এই অঞ্চলে  আমেরিকার ও তাদের মিত্রদের স্বার্থকে প্রভাবিত করা। এসব উদ্দেশ্য অর্জনে  ইরানই একমাত্র দেশ, যাদের সঙ্গে আমেরিকার কোনও কৌশলগত সম্পর্ক নেই। ইরান  আমেরিকার সঙ্গে কোনও বাণিজ্য করে না বা ইরান আমেরিকার মদতপুষ্ট দেশগুলোর  সঙ্গে সম্পর্কও রাখে না; বরং এই অঞ্চলে আমেরিকার শত্রু দেশগুলোকে সাহায্য  করে। ইরান এ অঞ্চলে ইসরায়েলি দখলদার চরিত্রের বিরোধিতাকারী। এ অঞ্চলে  আমেরিকান আধিপত্যকে ইরান সবসময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তুলেছে।  ভূ-রাজনৈতিকভাবে ইরানের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার সুসম্পর্ক আমেরিকার জন্য  মাথাব্যথার কারণ। এই অঞ্চলের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব ইরানের হাতে।  যেখানে আমেরিকা সিরিয়ার বাশার সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে  সেখানে সিরিয়াকে একনিষ্ঠভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে ইরান। সব অবরোধ উপেক্ষা  করে ইরান সিরিয়ায় তেল পাঠিয়েছে। সিরিয়ার ইসরায়েল বিরোধী সরকারের সঙ্গে  ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এই অঞ্চলে ইসরায়েলের জন্য হুমকিস্বরূপ।

লেবাননের হিজবুল্লাহ বা ইয়েমেনের হুথিদের পক্ষেও ইরানের অবস্থান।  হিজবুল্লাহ এ অঞ্চলে ইসরায়েলবিরোধী শক্তি হিসাবে বহুল আলোচিত, সন্দেহ করা  হয় ইরান হিজবুল্লাহকে অর্থায়ন করে। এখন পর্যন্ত ইহুদিবাদী রাষ্ট্র  ইসরায়েলের এ অঞ্চলে একমাত্র দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের বিষয় ইরান। তাই এ অঞ্চলে  ইরানের যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক, সামরিক বা রাজনৈতিক উত্থানকে আমেরিকা  ভালোভাবে গ্রহণ করে না। ইরানকে যেকোনোভাবে দমাতেই হবে এটা যখন মূল কথা তখন  ইরানের বিপক্ষে আমেরিকার অন্যতম অভিযোগ ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ  ইস্যু। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে কোনও সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। তেহরান  প্রথম থেকেই এই অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে যাচ্ছে। ইরানের  ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ সম্পূর্ণরূপে বিদ্যুৎ খাতের জন্য, কিন্তু তেহরানের এই  যুক্তি শুনতে আমেরিকা নারাজ। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৫  সালে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করার শর্তে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য  দেশগুলোসহ জার্মানিকে নিয়ে তেহরানের সাথে ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান  অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামের  চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। আন্তর্জাতিক পরিদর্শকেরা  বলছেন ইরান এখন পর্যন্ত ওই চুক্তি সম্পূর্ণভাবেই মেনে চলেছে। শুরু থেকেই  তেহরান চুক্তির প্রতিটি শর্তই মেনে আসছে বলে জানিয়েছে চুক্তির  পর্যবেক্ষণকারী, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পর্যবেক্ষকরা।

এরপরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের মে মাসে চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও  কারণটা অনেকটা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সাথে জড়িত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বারাক  ওবামা প্রশাসনের অন্যতম কৃতিত্ব হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়  চুক্তিটি। কিন্তু  ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম থেকেই মনে করতেন, এটি ছিল  যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের কাছে আত্মসমর্পণের দলিল। প্রেসিডেন্ট হলে এই চুক্তি  ভঙ্গ করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন ট্রাম্প, হয়েছেও তা-ই। এ ধরনের চুক্তি প্রণয়ন ও ভাঙার ব্যাপারে আমেরিকার জুড়ি মেলা ভার। এর  আগে   সমন্বিত পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি (সিটিবিটি), কিয়োটো  প্রটোকল, প্যারিস জলবায়ু, অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি (এটিটি) এবং আরও অনেক  চুক্তি থেকে আমেরিকা বের হয়ে গেছে কোনও কারণ ছাড়াই। এবারও চুক্তি থেকে  নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ওয়াশিংটন, সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে অবরোধের  যুদ্ধ। বর্তমানে ইরানের শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন  নিষেধাজ্ঞা চলছে। এবারে ইরানের ওপর আনীত অবরোধ হচ্ছে অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি  তেলের ক্রয় বিক্রয়কে কেন্দ্র করে। ইরানের জিডিপির ২৩ শতাংশ আসে তেল থেকে।  ইরানের তেল রফতানি কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের  রাজস্ব আয়ের শীর্ষ মাধ্যমটিকে লক্ষ্য বানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির  প্রভাব কমিয়ে আনতে ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  আপাতদৃষ্টিতে অবরোধ শুধু তেলের ওপর মনে হলেও চিত্রটি ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট   ট্রাম্পের সই করা এক নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার খাতগুলো হলো, ইরান  সরকারের মার্কিন ডলার কেনা বা সংগ্রহ, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু  কেনাবেচার ক্ষেত্রে, গ্রাফাইট, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, কয়লা ও শিল্প  কারখানার কাজে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের আমদানি, ইরানি রিয়াল সংক্রান্ত  লেনদেন,ইরানের সার্বভৌম ঋণ খাত, মোটরযান খাত, বন্দর কার্যক্রম, জ্বালানি,  জাহাজ নির্মাণ সংক্রান্ত খাত, পেট্রোলিয়াম বা জ্বালানি তেল সংক্রান্ত  লেনদেন এবং ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিদেশি বাণিজ্যিক  প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক লেনদেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মে  মাসে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলে ইরানের সঙ্গে অন্য  দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইউরোপীয় অনেক  কোম্পানি ইরানে কাজকর্ম স্থগিত করে চলে গেছে। ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি  টোট্যাল জানিয়েছে, তারা ইরান এবং চীনা কোম্পানি সিএনপিসি'র সাথে ১০০ কোটি  ডলারের যে চুক্তি করেছিল, তা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।  ডেনমার্কের শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে আর কোনও  নতুন চুক্তি করবে না। ইরানে নতুন একটি গাড়ি তৈরির কারাখানার কাজ শুরু  করেছিল ফরাসি কোম্পানি র‍্যেনঁ। তাদের সিনিয়র কর্মকর্তারা বলেছেন ইরানে  তাদের কাজ স্থগিত রাখা হবে। জেনারেল ইলেকট্রিক নামের মার্কিন কোম্পানি  ইরানের তেল ও গ্যাস খাতে কাজ করছিল। তারা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন  মানতে নভেম্বরের আগে কাজ বন্ধ করে দেবে। ইরানের দুটি কোম্পানির সাথে বিমান  বিক্রির চুক্তি করেছিল বোয়িং। তারা জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে  তারা বিমান সরবরাহ করবে না। ভারতের কোম্পানি রিলায়েন্স জানিয়েছে তারা ইরান  থেকে আর অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে না। জার্মান কোম্পানি সিমেন্স বলছে ইরানের সাথে নতুন কোনও ব্যবসা তারা করবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা তাঁর এক বক্তব্যে জানান, ২০১৮  সালের মে মাসে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসার কারণে এরই মধ্যে  অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরান। ইরানি মুদ্রার মূল্যমান  কমতে কমতে প্রায় ৮০% মূল্যহ্রাস হয়েছে। এই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও  বেড়ে গেছে। এদিকে ২০১৫  সালের জেসিপিও চুক্তিতে স্বাক্ষরিত অন্য দেশগুলো ইরানের ওপর নতুন করে  নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন এমন  একটি ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে চাচ্ছে যেখানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও  ইরানের সাথে বৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। জাতিসংঘের সাথে এ  ব্যাপারে ইইউ পরামর্শও করছে।  লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিকল্প,  এমনকি  বিনিময় প্রথার মাধ্যমে ব্যবসা করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে (সূত্র  বিবিসি)। তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান  পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে স্বাক্ষরিত  পরমাণু চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেয় ইরান। তবে চুক্তিটি  প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেই। এদিকে ৯ মে ২০১৯, তেহরান চুক্তিতে স্বাক্ষরিত  অন্য দেশগুলোকে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এবং বলা হয়েছে ইরানের দাবি  যতটা মেনে নেয়া হবে তেহরানও সে অনুযায়ী তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। এর  প্রেক্ষিতে  পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, ইরানের পরমাণু চুক্তি রক্ষায় তারা  প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ  অর্জন ইরান পরমাণু চুক্তি। সবার নিরাপত্তার স্বার্থে এর সুরক্ষা প্রয়োজন।  তবে  ‘আমরা যেকোনও ধরনের আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করছি’। কিন্তু বিষয়টি  গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে তাই ইউরোপের দেশগুলোর  প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যে  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাজকীয় বিপ্লবী  বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সব  মার্কিন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে ইরানি  পার্লামেন্টে আইন পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সব মার্কিন সৈন্য  মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এ সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক’।

যুদ্ধের আবহে এই অঞ্চলে আমেরিকান রণতরী ও বি-৫২ বোমারু বিমান এসে  পৌঁছিয়েছে। এ ব্যাপারে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেন,  ‘ইরানি সরকারকে পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা দেয়ার উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল  কমান্ড অঞ্চল সুয়েজ খালে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও  একটি বোম্বার টাস্কফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে’। তিনি সম্ভাব্য যুদ্ধ  প্রসঙ্গে বলেন, ‌‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। কিন্তু বিপ্লবী  গার্ড বাহিনী বা ইরানের নিয়মিত বাহিনীর যেকোনও হামলার জবাব দেওয়ার জন্য  আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। একই প্রসঙ্গে ইরান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি  ব্রিয়ান হুক বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনও যুদ্ধে যেতে  চাচ্ছে না। তবে তেহরান যদি আমেরিকার ওপর কোনও হামলা করে বসে তবে তার জবাব  দেয়া হবে’। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমরা  প্রস্তুত। কিন্তু এর বদলে ইরানকে তাদের আচরণ বদলাতে হবে’। মিসরের সুয়েজ  খালে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন প্রসঙ্গে হুক বলেন,  ‘আমরা ইরানের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি হুমকি পেয়েছি। আমেরিকা এবং তাদের  মিত্রদের স্বার্থের বিরুদ্ধে তারা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে আমরা আভাস  পেয়েছি। কাজেই সেখানে আমাদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে’ (সূত্র  রয়টার্স)।  আলোচনার  কোনও সুযোগ আছে কিনা এই প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট  হাসান রুহানি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ উঠিয়ে  ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘আলোচনা সম্ভব যদি চাপ উঠিয়ে তারা তাদের অবৈধ  কার্যকলাপের জন্য ক্ষমা চেয়ে পারস্পরিক সম্মানবোধ দেখায়’।

মেহেদী হাসান

মেহেদী হাসান

লেখক: শিক্ষক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। mehedihasan@ku.ac.bd

সংশ্লিষ্ট খবর