বুধবার ২০শে নভেম্বর ২০১৯ |

‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে... ’

 শনিবার ২৫শে মে ২০১৯ রাত ০১:২১:০৬
‘আজ

সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে আলোড়ন তুলেছেন বাংলা সাহিত্যে। না শাসকের তর্জন-গর্জন, না অন্ধকার কারাপ্রকোষ্ঠের ভীতি-কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি। শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দ্রোহের মন্ত্র উচ্চারণ করে গেছেন বারবার। মাথা নত করেননি কখনো। অন্যদিকে আবার প্রেমিকার সঙ্গে আসন্ন বিচ্ছেদের সম্ভাবনাও তার লেখনিতে ঝরেছে হাহাকার হয়ে। তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আজ তার ১২০তম জন্মবার্ষিকী।

১৮৯৯ সালের ২৫ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। জীবনের প্রতিপদে সংগ্রাম করেছিলেন বলেই হয়তো পদে পদে বিদ্রোহের ডাক দিয়ে গেছেন তিনি। ছোটবেলায় তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। অকালে পিতৃহারা হয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে তাকে নেমে পড়তে হয় জীবনসংগ্রামে।

কোনো গণ্ডিতেই তাকে বাঁধা যায়নি কখনো। মন সর্বক্ষণই ছুটেছে ‘বল্গাহারা পাগলা গাজন উচ্ছ্বাসে’। তবু ভাবনায় প্রতি মুহূর্তে এসেছে মনুষ্যত্ব, স্বদেশ আর স্বদেশবাসীর প্রতি ভালোবাসা। সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে গিয়ে ঘোষণা করেছেন  ‘গাহি সাম্যের গান। মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’। রাধিকার আগমনে উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রেমিক শ্যামের মতো গেয়ে উঠেছেন ‘রুমঝুম রুমঝুম নূপুর  বাজে, আসিল রে প্রিয় আসিল রে’। সেই প্রেমিক কণ্ঠই আবার নিষিদ্ধ হয়ে যায়  স্বদেশের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় ভৈরবকণ্ঠে ‘আনন্দময়ীর আগমনে’র বার্তা ঘোষণা  করে। কঠোর-কঠিন পর্বতের দর্পচূর্ণ করে তার উচ্চারণ ‘বল বীর, বল উন্নত মম  শির। শির নেহারী আমারি নতশির ঐ শিখর হিমাদ্রীর’। রুশ বিপ্লবের অনুরণনে  নিপীড়িতের প্রতি তার জেগে ওঠার আহ্বান ‘জাগো অনশন বন্দী ওঠ রে যত, জগতের  লাঞ্ছিত ভাগ্যহত!’ এ জেগে ওঠার পরিণতিও ঘোষণা করছেন তিনি নিজেই, ‘ছিনু  সর্বহারা, হব সর্বজয়ী...’। বিদ্রোহে-প্রেমে-শোষণমুক্তির লড়াইয়ে-মানবাত্মার  মাহাত্ম্য ঘোষণাকারী এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে কাজী নজরুল ইসলামের  প্রাসঙ্গিকতাকে কোনোভাবে অস্বীকার করা যায়।

ব্রিটিশরাজের চোখে উপমহাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে নজরুলের চেয়ে বিপজ্জনক কেউ  ছিল না। এ কারণে তাদের নিপীড়নের খড়্গ তার ওপর নেমে এসেছে বারবার। অন্যদিকে  ব্রিটিশরাজকে সমূলে উচ্ছেদের জন্য স্বদেশবাসীর কাছে বারবার আহ্বান জানিয়ে  গেছেন তিনি।

১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন নজরুল।  এখানেই তার সাহিত্যজীবনের অবসান ঘটে। ১৯৭২ সালে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা  হয়। কবির শেষ জীবন এখানেই কাটে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন  আজন্ম বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এ বছর  নজরুলজয়ন্তীর প্রধান উৎসব অনুষ্ঠিত হবে কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে।

সাহিত্য ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর