শুক্রবার ১৯শে জুলাই ২০১৯ |

নতুন আয়োজনের বিশ্বকাপ শুরু আজ

 বৃহঃস্পতিবার ৩০শে মে ২০১৯ রাত ০১:৪১:০৫
নতুন

ক্ষণগণনার দিন শেষ। শেষ হয়েছে প্রস্তুতিপর্বও। যার যা রসদ, তাই নিয়ে  এবার ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবে বিশ্বসেরা ১০টি দল। ইংল্যান্ডে আজ  থেকে আগামী ১৪ জুলাই—এই ৪৬ দিন ৪৮টি ম্যাচের ভেতর একটি চ্যাম্পিয়নের খোঁজে  থাকবে ক্রিকেটবিশ্ব। নানা ঘটন-অঘটন ও হাসি-কান্নার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত  হবে আগামী চার বছরের বিশ্বসেরার মুকুট কার মাথায় থাকবে, সেটি। শ্রেষ্ঠত্ব  নির্ধারণের এ লড়াইয়ে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। নিজেদের  সামর্থ্যের শেষটুকু উজাড় করে দিয়েই দলগুলো লড়বে সোনালি রঙের ট্রফিটির জন্য।  তবে দিন শেষে নয়টি দলকে হতাশায় ভাসিয়ে শিরোপা আনন্দে মাতবে একটি দল।

বরাবরের মতো এই বিশ্বকাপেও থাকছে ফেভারিটতত্ত্ব। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া  ও ভারত পণ্ডিতদের বিবেচনায় সম্ভাব্য শিরোপা বিজয়ী দল। তবে ফেভারিট থাকলেও এ  বিশ্বকাপে নেই একেবারে সম্ভাবনাহীন কোনো দল। কাউকেই একেবারে বাতিলের খাতায়  ফেলে দেয়ার সুযোগ নেই। তাই সব পরিসংখ্যান, ফর্ম ও র্যাংকিংকে ভুল প্রমাণ  করে হিসাব ওলটপালট করে দিতে পারে অন্য যেকোনো দল। কাগজে-কলমে যে  আফগানিস্তানকে দুর্বল ভাবা হচ্ছে, তারা প্রস্তুতি ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে  পাকিস্তানকে। তাই বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াইয়ে না থাকলেও ফেভারিটদের গলার কাঁটা  হয়ে উঠতে পারে আফগানরা। সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্স বিবেচনায়  শ্রীলংকাকেও হয়তো অনেকে হিসাবের বাইরে রাখতে চাইবে। কিন্তু ১৯৯৬-এর বিশ্ব  চ্যাম্পিয়নরা যে কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না, তা বলাই বাহুল্য। আর পাকিস্তান,  ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা বাংলাদেশ হয়তো ফেভারিট নয়। কিন্তু এই দলগুলো  আন্ডারডগের চেয়ে বেশি কিছু। ১৪ জুলাই এদের কেউ যদি শিরোপা উঁচিয়ে ধরে,  সেটিও একেবারে আশ্চর্যজনক কিছু হবে না।  দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডও  নিশ্চয়ই চাইবে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার নতুন ইতিহাস লিখতে। সব মিলিয়ে  এবারের বিশ্বকাপে দলগুলোর শক্তি-সামর্থ্যের পার্থক্য কমে এসেছে অনেকটাই।  তাই কোনো দলেরই সম্ভাবনার গল্পে এখনই ইতি টেনে দেয়ার সুযোগ নেই।

এই বিশ্বকাপ নতুনের সঙ্গে নিয়ে এসেছে ঐতিহ্যের ছোঁয়াও। এ ফরম্যাটে ১৯৯২  সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন দেখেছে বিশ্ব। যেখানে প্রথমবারের মতো রঙিন  জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল দলগুলো। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে  আয়োজিত সেই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল নয়টি দেশ। সেবার আটটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের  সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলেছে আইসিসির সহযোগী দেশ জিম্বাবুয়েও। এবার সেই  জিম্বাবুয়েকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। ১৯৮৩ সালের পর থেকে কখনো  বিশ্বকাপের বাইরে ছিল না অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার-হিথ স্ট্রিকের দেশ। আরেকটি দিক  থেকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ নতুনত্ব পেয়েছে। প্রথমবারের মতো সবগুলো টেস্ট  খেলুড়ে দেশ নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। যা এর আগে কখনই দেখা যায়নি।  এছাড়া টি২০ ক্রিকেটের জয়যাত্রার প্রভাব এখন বিশ্বকাপের মঞ্চেও দেখা যেতে  পারে। যেখানে একরকম ধুয়েমুছে গেছে চিরায়ত ‘ইংলিশ কন্ডিশন’। গতি ও বাউন্সকে  ‘গুড বাই’ বলে এখন রান উৎসবের পদধ্বনিও শোনা যাচ্ছে নতুন করে। ১৯৯২ সালের  পর থেকে বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনাময় দলের তালিকায় আধিপত্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার  সঙ্গে এশিয়ার দেশগুলোর। কিন্তু সেই হিসাব ভেঙে দিয়েছে ইংল্যান্ড। এর আগে  কখনই ইংল্যান্ডের নাম এতটা জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়নি।

পাশাপাশি এ বিশ্বকাপে নতুন এক বাংলাদেশকেও দেখার অপেক্ষা টাইগারদের  ভক্ত-সমর্থকদের। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের ইতিহাসের সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপ  মিশনে যাচ্ছে মাশরাফি মর্তুজার দল। যেখানে তামিম ইকবাল, সকিব আল হাসান ও  মুশফিকুর রহিমদের মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে আছেন সৌম্য সরকার-মোসাদ্দেক হোসেনদের  মতো তরুণরাও। নতুন আয়োজনের এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরও নতুন জাগরণ  দেখার অপেক্ষায় সবাই।

এদিকে আজ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ওভালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও  দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দলই শিরোপাপ্রত্যাশী, চাইছে ইতিহাস বদলাতে। বিশ্বকাপ  জিতলে কী হতে পারে, ইংলিশ অধিনায়ক ইয়োন মরগান তা কল্পনাই করতে পারছেন না,  ‘এটা বিশাল কিছু। বিশ্বকাপ এককভাবেই খেলাটার মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দেবে। এতে  দেশের শিশুদের সামনে এমন একটি মঞ্চ তৈরি হবে, যেখানে তারা বল অথবা ব্যাট  হাতে তুলে নেয়ার জন্য একজন নায়ক কিংবা অনুপ্রেরণা পাবে। বিশ্বকাপ জয়, আমি  কল্পনাই করতে পারছি না এটা কী করতে পারে।’ এদিকে ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে ফাফ  ডু প্লেসি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলার কোনো মানে  নেই। আমরা দল তৈরি করব এমনভাবে, যেন যতটা সম্ভব ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা যায়।’  এ সময় ডেল স্টেইনকে হারানো তার দলের জন্য বড় ধাক্কা বলেও মন্তব্য করেন ডু  প্লেসি, ‘এটা আমাদের দলের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।’

সংশ্লিষ্ট খবর