শুক্রবার ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৯ |

ধর্ষককে সৌদি থেকে ধরে আনলেন ‘লেডি সিংহাম’

 শুক্রবার ১৯শে জুলাই ২০১৯ বিকাল ০৫:২৭:০৪
ধর্ষককে

সৌদি আরবের রিয়াদে পৌঁছানোর আগেই মনে মনে সংকল্প করেছিলেন ভারতের কেরালার এই দুঁদে আইপিএস কর্মকর্তা। যে করেই হোক অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে যাবেনই তিনি।

মাসের পর মাস ১৩ বছরের কিশোরীকে যৌন নির্যাতন চালিনোর অভিযোগ যার বিরুদ্ধে রয়েছে, তাকে ছাড়া যাবে না কোনো ভাবেই। তখনো অবশ্য জানতেন না  রিয়াদে পৌঁছানোর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু, অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়ে আছে সেখানেই। অতএব, তাকে ধরতে হবে যে কোনো উপায়ে।

অবশেষে পরিকল্পনা সফল। কিশোরী ধর্ষণে অভিযুক্ত সুনীল কুমার ভদ্রনকে (৩৮) গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ধরে নিয়ে গেছেন কেরালার আইপিএস কর্মকর্তা মেরিন জোসেফ। এখনো তদন্ত চলছে।

তাকে গ্রেফতার করে ইন্টারনেট দুনিয়া প্রশংসায় ভাসছেন মেরিন। সেই সঙ্গে তাকে ‘লেডি সিংহাম’ আখ্যা দিচ্ছে অনেকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে কেরলের কোল্লামে এক বন্ধুর বাড়িতে যায় সুনীল কুমার। তার বন্ধুর ভাইয়ের ১৩ বছরের একটি মেয়ে ছিল। বাড়িতে যাতায়াতের সুযোগে প্রায় তিন মাস ধরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে  সুনীল। প্রথমদিকে ভয়ে কিছু না বললেও পরে পরিবারের কাছে সব জানায়।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পরই সৌদি আরব পালিয়ে যায় সুনীল। এরই মধ্যে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। ওই কিশোরীর যে চাচার সূত্রে সুনীল ওই বাড়িতে যাতায়াত করতো, তিনিও আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর ইন্টারপোলে নোটিশ জারি করা  হয়। কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি।

চলতি বছরের জুনে কোল্লামের পুলিশ কমিশনারের পদে বসেন আইপিএস মেরিন জোসেফ। দায়িত্ব নিয়েই নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ঝুলে থাকা সব মামলা  দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেন। হাত দেন দুই বছর আগের এই ধর্ষণ মামলায়। যোগাযোগ করা হয় রিয়াদের ইন্টারপোলের সঙ্গে। নতুন করে আবার তৎপরতা শুরু হয়। এরপরই সুনীলকে রিয়াদে গ্রেফতার করা হয়।

২০১০ সালে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো বন্দিকে সৌদি আরব থেকে ভারতে আনা হয়নি। সুনীলই প্রথম ব্যক্তি  যাকে ভারতে অপরাধ করার অভিযোগে সৌদি আরব থেকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

সুনীলকে দেশে ফেরাতে পুলিশের একটি দল নিয়ে রিয়াদে গেছেন আইপিএস মেরিন জোসেফ। তাকে ফিরিয়ে আনতে বেশকিছু নথি আদান-প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন মেরিন।

সংশ্লিষ্ট খবর