রবিবার ২৪শে জুন ২০১৮ |

অবরোধকারী দেশগুলোর আচরণ ও মিথ্যাচার সব আইন ও নৈতিকতার লঙ্ঘন

 শুক্রবার ২১শে জুলাই ২০১৭ রাত ১১:১৪:৫৫
অবরোধকারী

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানি বলেছেন, কাতারের বিরুদ্ধে চলমান  অবরোধ তাঁর দেশের জন্য বড় সুযোগ বয়ে এনেছে। আমাদের দেশের জনগণ এবং  সর্বস্তরে আমাদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এর ফলে আমাদের মানবিক গুণাবরীর  বহিঃপ্রকাশ-ই শুধু নয়, বরং আমরা স্বনির্ভর হতে এবং অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের  আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সব সমস্যা ও সম্ভাবনা খুঁজে বের করছি এবং  সেসব কাজে লাগাচ্ছি। ফলে এটি আমাদের জন্য ক্ষতির চেয়ে উপকার বেশি বয়ে  এনেছে। তিনি কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, কোনো বিষয় হয়তো তোমাদের ভালো  লাগবে না কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটিই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক।

২১ জুলাই  রাত দশটায় স্থানীয় সময় কাতারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি এই ভাষণ দেন। গত ৫  জুন অবরোধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তিনি জনসাধারণের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন।

আমির  বলেন, চলমান অবরোধ ও সংকট নিরসনে কাতার সবসময় আলোচনার জন প্রস্তুত। তবে এর  জন্য দুটি শর্ত রয়েছে। প্রথমটি হলো, প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ইচ্ছার  প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। দ্বিতীয় হলো, আলাপ আলোচনায় এক দেশ অন্য দেশের  উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি এই অবরোধকে অভূতপূর্ব হিসেবে  উল্লেখ করে এটিকে চারিত্রিক পরীক্ষা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অবরোধকারী  দেশগুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা ভেবেছিল, এই পৃথিবীতে তারাই এক বসবাস  করে। তারা ভেবেছিল, অর্থ দিয়ে সবকিছু কিনে নেওয়া যায়। এটা ছিল তাদের ভুল।  সবার কাছে পরিষ্কার যে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তারা বুঝতে পারেনি,  বিশ্ববাসী এতো সহজে এই অন্যায় মেনে নেবে না। মানুষ এসব বিভ্রান্তিকর মিথ্যা  কখনোই গ্রহণ করবে না।

বিশ্বের অন্যান্য দেশ এবং সংস্থা তাদের স্মরণ  করিয়ে দিয়েছে, এই পৃথিবীতে তারাই কেবল বসবাস করে না। তাদের বুঝিয়ে দেওয়া  হয়েছে, অনেক দরিদ্র এবং অনুন্নত দেশেরও নিজস্ব মতামত থাকতে পারে। রাজনৈতিক  মতভিন্নতার কারণে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার এই নিন্দনীয় রীতি বন্ধের দাবি  জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ভাবমুর্তি  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমির বলেন, আমরা মর্মাহত হয়েছি যখন দেখেছি, আমাদের  প্রতিবেশি কয়েকটি দেশ কিভাবে আমাদের নাগরিকদের তাড়িয়ে দিয়েছে। কাতার  সম্পর্কে অব্যাহত মিথ্যাচারে মেতেছে। তিনি এসব অপপ্রচারকে সব ধরণের আইনের  লঙ্ঘন ও নৈতিকতা বহির্ভূত কান্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

জঙ্গিবাদ দমন  প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাতার কোনো বিকল্প ছাড়া সন্ত্রসবাদ প্রতিরোধে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কাতারের এই ভূমিকার প্রতি আন্তর্জাতিক বিশ্বের  স্বীকৃতি ও সমর্থন এবং প্রশংসা রয়েছে। এই সন্ত্রাসবাদ দমনে কাতারের  অংশগ্রহণ প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্যের কাউকে খুশি করার জন্য নয়। বরং এটা এই  জন্য যে, কাতার মনে করে জঙ্গিবাদ মানেই নিরীহ সাধারণ মানুষের উপর সীমালঙ্ঘন  এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ। ধর্ম কখনো জঙ্গিবাদের উৎস হতে পারে না উল্লেখ করে  আমির বলেন, বরং উগ্র মতবাদ ও চিন্তা থেকে এ সমস্যার সূত্রপাত।

তিনি প্রত্যাশা করেন, আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে অবরোধকারী দেশগুলো এগিয়ে আসবে। এ  সময় তিনি চলমান সংকট সমাধানে কুয়েতের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন এবং এটি  সুফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন।  তুরস্কসহ অন্যান্য যেসব দেশ কাতারকে  সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।  পাশাপাশি তিনি ফিলিস্তিনে চলমান মসজিদে আকসায় সংঘর্ষ বন্ধের দাবি জানান।

কাতার প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর