শুক্রবার ২৩শে আগস্ট ২০১৯ |

প্রাচীনকালে আলবিদা এবং আজকের দোহা

তামীম রায়হান |  মঙ্গলবার ২৩শে জুলাই ২০১৯ রাত ০৯:১৪:০৭
প্রাচীনকালে

এককালে যে নগরীর নাম ছিল ‘আলবিদা’, সেটিই আজকের দোহা। প্রচলিত শব্দে ‘দোহা’ বলা হলেও এর আরবি উচ্চারণ ‘দাওহা’। ভাষাবিদদের মতে, দোহা শব্দের অর্থ ‘বড় বৃক্ষ’।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এবং শক্তিশালী অর্থনীতি ও প্রাচুর্যের দেশ কাতারের রাজধানী দোহা। এই দেশের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের বসবাস এই শহরেই। বলা হয়ে থাকে, কাতারের ৭০ ভাগ জনসংখ্যা বাস করেন রাজধানী দোহায়। স্থানীয় নাগরিক ছাড়াও বিপুলসংখ্যক অভিবাসী এর অন্তর্ভুক্ত।

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যখন শেখ জাসেম বিন মুহাম্মদ আলথানি এই দোহাকে তাঁর শাসন পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নেন, তখন থেকে দোহার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ১৮৬৮ সালে যখন ব্রিটেন এক স্বাক্ষরিত চুক্তিতে শেখ মুহাম্মদ বিন থানির নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেয়, তখন থেকে দোহা আরব ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে ব্যাপকভাবে। তবে কোন গোত্র প্রথমে এসে দোহায় বসতি গেড়েছিল, সে বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। তবে একটি নির্ভরযোগ্য মত হলো, ১৬ শতকের শেষে আলসুদান গোত্র আবুধাবি থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছিল। তারাই এর নামকরণ করে আলবিদা নামে।

আজকের দোহা বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, গণমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে একটি আলোচিত নাম। বিশেষ করে ২০২২ সালে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে চলমান উন্নয়নযজ্ঞের সুবাদে দিনদিন দোহা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিশ্ববাসীর কাছে। বিশ্ব পর্যটনেও এখন দোহা বেশ আলোচিত নাম। আধুনিক সুযোগ সুবিধা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সুবাদে পর্যটকদের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে পছন্দের অবকাশ যাপন কেন্দ্র হয়ে উঠছে দোহা।

এক সময় দোহায় বসবাস ছিল হাতেগোনা কিছু মানুষের। সাগরে মাছ ধরা এবং ডুব দিয়ে মুক্তা অনুসন্ধান-ই ছিল তাঁদের জীবিকা উপার্জনের প্রধান দুটি মাধ্যম। অথচ আজকের আধুনিক ও ব্যস্তনগরী দোহার দিকে তাকালে এসব কেবলই রূপকথার মতো মনে হবে। উঁচু উঁচু বাণিজ্যিক বহুতল ভবন, প্রাসাদতুল্য অট্টালিকা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নামী দামী হোটেল দোহাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং খেলাধুলার আসর দোহাকে কর্মব্যস্ত করে রাখে সারা বছর। এই দোহায় ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়ান গেমস, এরপর ২০১১ সালে প্যান আরব গেমস এবং এএফসি এশিয়ান কাপের আসরও বসেছিল দোহায়। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম কাউন্সিল, ইউএনএফসিসিসি’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বর্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে দোহায়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স সিটিস- এর তালিকায় জায়গা করে নেয় দোহা।

পর্যটকদের জন্য দোহায় রয়েছে সুক ওয়াকিফ, ইসলামি আর্ট মিউজিয়াম, অ্যরাবিক মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম, কাতারা, এডুকেশন সিটিসহ বেশ কয়েকটি দর্শনীয় জায়গা। এছাড়া রয়েছে সাগরতীরে কেঁটে বেড়ানোর জন্য কর্নিশ, আলবিদা পার্ক, অ্যাস্পাায়ার পার্কসহ আরও অন্যান্য প্রাকৃতিক সবুজ উদ্যান ও অবকাশ যাপন কেন্দ্র।

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবস্থিত দোহায়। কাতারের আমিরের দফরত দিওয়ানে আমিরি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়, ব্যাংক, অফিস, আদালতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবন দোহাকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে সব দিক দিয়ে।

কাতারের সাতটি পৌরসভার অন্যতম একটি হচ্ছে দোহা। দোহার সীমানা বলতে বোঝায় উত্তরদিকে খিরাজ এবং ওয়াদি আলবানাত পর্যন্ত, পূর্ব দিকে কর্নিশ এবং বিমানবন্দর, পশ্চিমে শিমাল সড়কসহ দক্ষিণে আলইব হয়ে থুমামা পর্যন্ত। কাতারের অন্যান্য পৌরসভার মধ্যে রয়েছে ওয়াকরা, রাইয়ান, শাহানিয়া, উমসালাল, জাআয়েন, আলখোর ও শিমাল।

তামীম রায়হান

সংশ্লিষ্ট খবর