শুক্রবার ১৮ই অক্টোবর ২০১৯ |
নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে আপনি কি চাকরি নিয়ে বিদেশ যেতে চান? তাহলে জেনে নিন দরকারি যত তথ্য

জেনে নিন বিদেশে চাকরি করতে গেলে আপনাকে কি কি করতে হবে?

 শুক্রবার ২৬শে জুলাই ২০১৯ রাত ১২:২৩:৪০
জেনে

বাংলাদেশের কত লোক এখন বিদেশে থাকেন, সেই সংখ্যাটি কি আপনার জানা আছে? সংখ্যাটি প্রায় এক কোটি। শুনে হয়তো চমকে উঠতে পারেন। কিন্তু ভালো করে  ভেবে দেখুন, আপনারই কোনো না কোনো স্বজন বিদেশে আছেন। এই পৃথিবীর এমন কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে বাংলাদেশিরা নেই। অল্প কিছু মানুষ লেখাপড়া বা স্থায়ীভাবে আবাস গড়তে গেলেও অধিকাংশই গেছেন চাকরি নিয়ে।
বৈদেশিক এ কর্মসংস্থান কেবল যে বেকারত্ব দূর করছে তা-ই নয়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রাই এখন সচল রাখছে দেশের অর্থনীতি। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। এর মধ্যে প্রতিবছর পাঁচ থেকে ছয় লাখ লোকের কর্মসংস্থানই হচ্ছে বিদেশে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।

আপনিও যদি বিদেশে গিয়ে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর চিন্তা করে থাকেন, সেটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আপনার অভিবাসন যেন অবশ্যই নিরাপদ হয়। আর সে কারণেই বিদেশে যাওয়ার আগে ভালো করে জেনে নিন কিছু তথ্য। অন্যথায় প্রতারণার শিকার কিংবা বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

যাঁরা চাকরি নিয়ে বিদেশে যান তাঁরা সাধারণত সুনির্দিষ্ট সময় পর চলে আসেন। জটিলতা আর দালাল এড়িয়ে একজন মানুষের স্বল্প খরচে বিদেশে যাওয়া, নিরাপদে সেই দেশে পৌঁছানো, ঠিকমতো কাজ পাওয়া এবং ভালোভাবে আবার দেশে ফিরে আসাই নিরাপদ অভিবাসন।

আপনি যদি নিরাপদে বিদেশে যেতে চান তাহলে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিন। প্রথমত, আপনি সরকারের বৈধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই বিদেশে যাচ্ছেন কি না? যে কাজে যাচ্ছেন সেই কাজে আপনি দক্ষ কি না। কোন দেশে যাচ্ছেন, কত টাকা বেতনে? খরচের সেই টাকা কত দিনে তুলতে পারবেন? এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব পেলে তবেই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিন।

প্রয়োজন প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে যান তাদের পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ এবং অদক্ষ এই চারটি শ্রেনীতে ভাগ করা হয়। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যারা বিদেশে গেছেন তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অদক্ষ শ্রমিক। পেশাজীবীর সংখ্যা এক ভাগেরও কম। বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে যেতে চায় তাদের বেশির ভাগই অদক্ষ শ্রমিক। কিন্তু তারা একটু প্রশিক্ষণ নিলেই দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। আর দক্ষতা বাড়লে তাদের বেতনও অনেক বেড়ে যাবে। কাজেই আপনি যে কাজে যেতে চাইছেন সেই কাজে দক্ষতা অর্জন করুন। এরপর বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন।
বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণ দিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) রয়েছে। সেখানে নানান ধরনের কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ বিদেশে গেলে তাঁর দক্ষতা যেমন বাড়বে তেমনি চাহিদাও বাড়বে। বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তালিকা।

পাসপোর্ট করা
আপনি যে দেশেই যেতে চান না কেন, প্রথমেই দরকার নিজের পাসপোর্ট। এখন আর দালাল ধরে পাসপোর্ট করা যায় না। তাই নিজেই পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে এমআরপি পাসপোর্ট করুন। সরকারের পাসপোর্টসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে (www.passport.gov.bd) পাসপোর্ট আবেদনের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা আছে। চাইলে অনলাইনেও আবেদন করা যাবে পাসপোর্টের জন্য। এই প্রক্রিয়া জটিল মনে হলে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আবেদন করাই ভালো। বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের তালিকা পাওয়া  যাবে এই  লিংকে- www.dip.gov.bd/?q=node/29 মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) আবেদন ফরম পাওয়া যাবে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dip.gov.bd)।  

অনেক চাকরিপ্রার্থীই জানেন না- কোন পেশায় চাকরি নিয়ে তিনি বিদেশে যাবেন। জটিলতা এড়াতে চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই তাঁদের পাসপোর্টে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেন 'প্রাইভেট সার্ভিস'। তবে কোনো নির্দিষ্ট কাজে প্রশিক্ষিত বা দক্ষ কর্মীরা তাঁদের সম্ভাব্য 'পেশা' নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন না।

নাম নিবন্ধন করুন

নতুন যে আইন করা হয়েছে তাতে সরকারিভাবে নিবন্ধন করা ছাড়া এখন আর কারও বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই। কাজেই বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আপনাকে শুরুতেই ঢাকার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কিংবা আপনার জেলার জনশক্তি কার্যালয়ে গিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে। নাম নিবন্ধনের পর আপনি দালাল এড়িয়ে বৈধ যেকোনো রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রায় এক হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি আছে, যাদের প্রত্যেকের একটি করে লাইসেন্স নম্বর আছে। www.hrexport-baira.org এ তালিকায় গিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নাম জানা যাবে। বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ছাড়া আর কারও চাকরির জন্য বিদেশে লোক পাঠানোর সুযোগ নেই। কাজেই কেউ অন্য কোথাও টাকা দিয়ে প্রতারিত হবেন না।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বিদেশে চাকরির জন্য টাকা জমা দেওয়া হয়ে গেছে। যখন ভিসাপ্রক্রিয়া শুরু হলো তখন মেডিক্যাল ফিটনেস পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা গেল আনফিট। অনেক সময় পুরোপুরি ফিট হতে সময় লাগে, এমনটি হলে ভিসাপ্রক্রিয়ায় জটিলতা হতে পারে।

দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিক্যাল টেস্টে ফিট, কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর মেডিক্যাল টেস্টে দেখা গেল আনফিট। তখন কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান। তাই সম্ভব হলে দেশে থাকতেই পুরোপুরি ফিট থাকতে হবে। শরীর-স্বাস্থ্যের ছোটখাটো সমস্যা থাকলে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েই ভিসার জন্য চেষ্টা করুন।

বিদেশে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের নির্ধারিত মেডিক্যাল কিংবা ক্লিনিকের মাধ্যমে মেডিক্যাল টেস্ট করাতে হয়। ভিসার আবেদনপত্রের সঙ্গে এই মেডিক্যাল রিপোর্ট যুক্ত করতে হয়।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
বিদেশে যাওয়া বা বিদেশে চাকুরির ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর অর্থ হচ্ছে, যাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেয়া হচ্ছে তিনি কোন অপরাধী নন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগও নেই।

আবেদনকারীকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে ট্রেজারি চালান সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে থানার ওসি/এএসপি বা পুলিশ কমিশনারের কাছে সেই  ট্রেজারি চালানসহ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য আবেদেন করতে হবে। আবেদন  পাওয়ার পর দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যাচাই বাছাই করে একটি প্রতিবেদন প্রদান  করবেন। প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের দেয়ার জন্য  সুপারিশ করা হবে। তারপর আবেদনকারী থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট  সংগ্রহ করতে পারবেন।

অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে যে কেউ নিজের জন্য অথবা অন্যের পক্ষে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করতে পারবে। নিবন্ধন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

চুক্তিপত্র
বিদেশে যে কোম্পানিতে চাকরি করতে যাচ্ছেন সেখানকার চাকরির শর্ত জেনে নিন। চুক্তির শর্তে বেতন-ভাতা, থাকা–খাওয়া, ছুটি, চিকিৎসাসহ কোম্পানির সব সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন। যেই দেশে যাচ্ছেন পাসপোর্টে সেই দেশের ভিসা আছে কি না দেখে নিন। চাকরি নিয়ে যেতে হলে ‘এমপ্লয়মেন্ট ভিসা’ লাগবে। ভিসা ছাড়া কেউ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিমানবন্দরেই আটক হতে পারেন। ভিসার প্রফেশন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে।

বিমান টিকেট
বিদেশে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট করতে হয়। টিকিট করার সময় অবশ্যই প্লেন ছাড়ার সময় ও এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর সময় জেনে নিন। পথে কোথাও যাত্রাবিরতি বা ট্রানজিট আছে কি না সেটিও জানুন।
বিদেশে যাত্রার কয়েক দিন আগে ভিসা সিলসহ পাসপোর্ট, মেডিকেল সনদ, বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র, স্মার্ট কার্ড, চাকরির চুক্তি,  যে দেশে যাবেন সেই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা এগুলো যত্ন করে রাখুন। প্রয়োজনে এগুলোর ফটোকপি পরিবারের কাছে দিয়ে যান।

ব্যাংকে হিসাব খুলা

বিদেশে যাওয়ার সব বিষয় চূড়ান্ত হয়ে গেলে বাড়ির কাছে সুবিধাজনক কোনো ব্যাংকে দুটি হিসাব খুলুন। একটি নিজের নামে এবং অন্যটি পরিবারের কারও নামে খুলুন।  একটি অ্যাকাউন্টে পরিবারের বা সংসারের খরচের অর্থ পাঠান। আর নিজের হিসাবে টাকা জমাতে পারেন।
বিদেশে থাকা অবস্থায় একটি বড় সমস্যা টাকা পাঠানো। মনে রাখবেন, শুধু সরকার অনুমোদিত ব্যাংক প্রতিষ্ঠান বা মানি একচেঞ্জের মাধ্যমেই টাকা পাঠানো বৈধ। কখনোই হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন না। বিদেশে থাকা অবস্থায় অবশ্যই সে দেশের প্রচলিত আইন-কানুন মেনে চলুন। সে দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের নম্বর রাখুন। কোনো প্রয়োজন হলে দূতাবাসে যোগাযোগ করুন।

আরও যা জানতে হবে

কোথায় যাবেন, কত খরচ? 
প্রশ্ন হলো, বিদেশে যেতে কত টাকা খরচ হয়? এর কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। আপনি কোন দেশে যাচ্ছেন, কী কাজে যাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে অনেক কিছু। তবে যত বেশি দালালদের এড়িয়ে চলতে পারবেন, ততই খরচ কমবে। ঢাকায় এসে সরাসরি যদি কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা বোয়েসেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন, তাহলে খরচ কম পড়বে। তবে খরচ কত পড়বে তার চেয়েও বেশি জরুরি আপনি কত টাকা বেতনে যাচ্ছেন। একটি বিষয় মাথায় রাখুন, যত টাকা খরচ করে যাচ্ছেন, সেই টাকা যেন তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে তুলতে পারেন। 

এবার সিদ্ধান্ত নিন কোন দেশে যাবেন? বাংলাদেশ থেকে যাঁরা বিদেশে যান, তাঁদের একটি বড় অংশই হুট করে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা ভাবেন, বিদেশে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, ঘুরে যাবে ভাগ্যের চাকা। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। ঠিকমতো ভেবেচিন্তে না গেলে আপনার লাভের চেয়ে সংকটই বেশি হতে পারে। কাজেই বিদেশে যাওয়ার আগে সময় নিয়ে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে। কখনোই কোনো দালালের সহায়তা নেবেন না।

বাংলাদেশ থেকে যাঁরা বিদেশে যেতে চান তাঁদের বেশির ভাগই অদক্ষ শ্রমিক। কিন্তু তাঁরা একটু প্রশিক্ষণ নিলেই দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। আর দক্ষতা বাড়লে তাঁদের বেতনও অনেক বেড়ে যাবে। কাজেই যাঁরা বিদেশে যেতে চাইছেন, তাঁদের উচিত কোনো একটা কাজে দক্ষতা অর্জন করা।

মেয়েদের জন্য সুযোগ
মেয়েরা যেতে পারেন জর্ডান ও লেবাননে। ১৯৯০ সাল থেকে পুরুষের পাশাপাশি মেয়েরাও বিদেশে চাকরি নিয়ে যাচ্ছেন। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো নারী চাকরি নিয়ে বিদেশে যেতে পারবেন না। তবে গৃহকর্মী ও পোশাকশ্রমিকদের ক্ষেত্রে বয়স ২৫ হতে হবে। সরকারি একমাত্র জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল বিনা খরচে মেয়েদের বিদেশে পাঠানোর সহায়তা দেয়। কাজেই কোনো প্রতিষ্ঠান বা দালাল এড়িয়ে বোয়েসেলে যান এবং সেখান থেকে সঠিকভাবে তথ্য জেনেই কেবল মেয়েদের বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

নিতে পারেন ব্যাংক ঋণ
বিদেশগামীদের অনেককেই বিদেশে যাওয়ার জন্য জমিজমা বিক্রি করতে হয়। অনেককে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। তবে এই সমস্যার সমাধানের জন্য সরকার প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক চালু করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে বিদেশগামীরা ঋণ নিতে পারবেন। এ জন্য তাঁকে বিদেশে চাকরির নিয়োগপত্র দেখালেই চলবে। এ ছাড়া সোনালী, অগ্রণী, জনতাসহ সরকারি-বেসরকারি আরও অনেক ব্যাংকই এখন বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বল্পসুদে ঋণ দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়েই টাকা দিন

চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ রিক্রুটিং এজেন্সির সাহায্য নেয়। এদের মধ্যে প্রতারণার শিকারও হন অনেকে। বিভিন্ন দেশে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাইনবোর্ডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে কর্মী নিয়োগ দেয়। এরপর দালাল বা অসাধু এজেন্টদের মাধ্যমে কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে এসব কর্মীর নিয়োগ দিয়ে পরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কম বেতনে স্থানান্তর করে দেয়। বিদেশে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখা যায় পত্রিকায়। বিভিন্ন এজেন্সির নামে এসব বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করে এসব এজেন্সি। কোনো এজেন্সির সহযোগিতা নেওয়ার আগে কর্মীদের যাচাই করতে হবে, সরকারের জনশক্তি ব্যুরো থেকে এজেন্সিগুলো বিদেশে কর্মী পাঠানোর 'নিয়োগপত্র' পেয়েছে কি না। 

একটু সতর্ক হলে এসব প্রতারণা এড়ানো যায়। এসব ক্ষেত্রে প্রতারণার এড়ানোর প্রথম উপায়ই হলো সরকার অনুমোদিত বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া। আর টাকা লেনদেন অবশ্যই ব্যাংক বা রসিদের মাধ্যমে করবেন। পারলে কয়েকজন  সাক্ষী রাখবেন। রসিদ না রাখতে পারলে যত টাকাই দিন না কেন তার কোনো বৈধতা  থাকে না।

বৈধ এজেন্সির তালিকা পাওয়া যাবে বিমেটের ওয়েবসাইটে- www.bmet.org.bd/BMET/raHomeAction ছাড়পত্র মিলল কি না!

সুদের ওপর টাকা না নেওয়া

অনেকে  বিদেশে যাওয়ার জন্য সুদের ওপর টাকা নেন। বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক  ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের হয়, তাই  সুদের ওপর টাকা নেওয়া বোকামি। ভুক্তভোগীদের অনেকেই জানান, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ভিসা হয়ে যাবে, আর তা হলেই ফ্লাইট- এজেন্সির এমন কথা শুনে তাঁরা  সুদের ওপর টাকা নিয়ে এজেন্সিকে দেন। পরে দেখা  গেল, ভিসা মাস কয়েক দেরি হলো। এদিকে সুদও বাড়তে থাকল। বিদেশে গিয়ে তখন কর্মীদের বাড়তি টেনশনে থাকতে হয়। আয় করে মূল টাকা দিতেই হিমশিম, তার ওপর আবার সুদের টাকা। আবার এমনও দেখা যায়- সুদের ওপর টাকা নিয়ে এজেন্সিকে দেওয়া  হলো, কিন্তু ভিসা হলো না। পরে দেনদরবার করে না হয় এজেন্সিকে দেওয়া টাকা তোলা যাবে, কিন্তু এই টাকার সুদের অংশ লোকসান হিসেবেই গুনতে হবে।

কখনোই যা করবেন না
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আপনি কখনোই দালালদের কাছে যাবেন না। কখনো কোনো অবস্থাতেই অগ্রিম অর্থ লেনদেন করবেন না। বিনা রসিদে কাউকে টাকা দেবেন না। রিক্রুটিং এজেন্সি বাদে কারও কাছে পাসপোর্ট দেবেন না। যে কাজ পারেন না সেই কাজ করতে যাবেন না। ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দেবেন না। মাদকাসক্ত অবস্থায় বিদেশে যাবেন না।

প্রয়োজনীয় কিছু নম্বর ও ঠিকানা
প্রবাসীকলাণ ভবন, ৭১-৭২, পুরোনো এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডেন, ঢাকা। www.probashi.gov.bd
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) : ৮৯/২, কাকরাইল ঢাকা, www.bmet.org.bd
বোয়েসেল: ৭১-৭২ এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডের ঢাকা। ৯৩৬১৫১৫,৯৩৩৬৫৫১ www.boesl.org.bd 
বায়রা: বায়রা ভবন, ১৩০ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা। টেলিফোন: ৮৩৫৯৮৪২, ৯৩৪৫৫৮৭ www.hrexport-baira.org

সিফাত খান

সংশ্লিষ্ট খবর