বৃহঃস্পতিবার ৫ই ডিসেম্বর ২০১৯ |

প্রবাসীরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে যেসব সুবিধা পান

 শনিবার ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ সকাল ১১:৩৩:৪১
প্রবাসীরা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসীদের সেবার লক্ষ্যে কাজ করে থাকে। শুধু প্রবাসী নয়, এই বোর্ডের সেবা পরিবারের সদস্যদের জন্যও সম্প্রসারণ করা হয় পরবর্তীতে। বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীর প্রাক বহির্গমন ব্রিফিং থেকে শুরু করে আহত ও অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা, মৃত কর্মীর লাশ দেশে আনা, প্রবাসী কর্মীর সন্তানের জন্য শিক্ষাবৃত্তিসহ নানা সুবিধা দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রবাসীদের বীমা সুবিধা এবং বিদেশ ফেরত নারী কর্মীদের পুনর্বাসনে কাজ করছে এই বোর্ড।

যেসব সুবিধা পান প্রবাসীরা 
দেশের তিনটি বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থাপন করা হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক। প্রবাসীদের বিদেশ গমনে আর্থিক সহায়তা পেতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। মৃত প্রবাসী কর্মী ও তার পরিবারের জন্য রয়েছে বোর্ডের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা। মৃত কর্মীর লাশ দেশে আনার সম্পূর্ণ খরচ বহন করে এই বোর্ড। লাশ দেশে আনার পর পরিবহন ও দাফন বাবদ ১৫ হাজার টাকা এবং মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া অসুস্থ কর্মীকে দেশে আনার পর অ্যাম্বুলেন্সসহ চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ওয়েজ আর্নার্স  কল্যাণ বোর্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সাল থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রবাসীদের প্রায় ৪০ হাজার লাশ এসেছে। মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ও লাশ দাফনের খরচ বাবদ ১৯৭৭ সাল থেকে এই বছরের আগস্ট পর্যন্ত অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে ৬০৯ কোটি ৮১লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের জন্য রয়েছে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা। অস্বচ্ছল প্রবাসী কর্মীর সন্তানকে শিক্ষিত জনসম্পদে পরিণত করতে তাদের মেধাবী সন্তানদের ২০১২ সাল থেকে পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমান ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হয়। বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে, পিইসি তিন বছর মেয়াদি, জেএসসি ও এসএসসিতে দুই বছর এবং এইচএসসিতে  তিন বছর মেয়াদি শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয় যার পরিমাণ বছরে জনপ্রতি ১৪ হাজার,  ২০ হাজার ৫০০, ২৭ হাজার ৫০০ এবং ৩৪ হাজার টাকা। ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত  শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৪৩২ জন শিক্ষার্থীকে।

এছাড়া প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিদেশের মিশনগুলোতে সেফ হোম, আইনগত সহায়তা, প্রবাসে কর্মীর সন্তানদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মতো কাজও করে থাকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। এর পাশাপাশি বিদেশে বিপদগ্রস্থ কর্মীকে দেশে আনা, বিদেশে আটক কর্মীর মুক্তির ব্যবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিদেশে অবস্থান অনিরাপদ হলে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে করা হয়। অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসাসেবার জন্য  অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হয়।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান করতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্থাপন করা হয়েছে প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার। ফোনে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি পরামর্শও নিতে পারেন প্রবাসীরা। এছাড়া অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়াকে নিরুৎসাহিত করতে প্রচার-প্রচারণার কাজও করে থাকে এই বোর্ড। প্রবাসী কর্মীর বিদেশে নিয়োগকর্তা অথবা অন্য কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ, ইন্স্যুরেন্স, বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট আদায় করে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয় এই বোর্ড। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৬৫৩ জন কর্মীর ক্ষতিপূরণ, ইন্স্যুরেন্স, বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ আদায় করা হয়েছে প্রায় ৬৬০  কোটি টাকা।

এ বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী  মোহাম্মদ জুলহাস বলেন, ‘প্রবাসীদের কল্যাণে ওয়েজ আর্নার্স  বোর্ড নানা ধরনের কাজ করে আসছে। সচরাচর সেবার পাশাপাশি আমরা এখন প্রবাসীদের বীমা সুবিধা নিয়ে কাজ করছি। প্রবাসীদের বীমার আওতায় আনা হবে। এটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।’ তিনি বলেন, ওয়েজ আর্নার্স বোর্ড বিদেশ ফেরত নারী কর্মীদের পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করবে। তবে এটা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। গত তিন বছরে যেসব নারী কর্মী বিদেশ থেকে ফেরত এসেছেন তাদের প্রাথমিক একটি তালিকা করা হয়েছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’

এক কোটির বেশি প্রবাসী
বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রফতানি শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৬০টি দেশে এক কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রবাসী কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯০ সালে ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল’ গঠন করে।
কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ পর্যায়ের  আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে এই  বোর্ড পরিচালিত হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের  সচিব পদাধিকার বলে বোর্ডের চেয়ারম্যান। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ  ব্যুরো (বিএমইটি), বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ  মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল  রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) এবং একজন নারীসহ তিনজন অভিবাসী কর্মীসহ  মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এ বোর্ড গঠিত। এই বোর্ড থেকে সুবিধা পেতে বিদেশগামী কর্মীকে ‘কল্যাণ ফি’ বাবদ তিন হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে নিবন্ধিত হতে হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর