শুক্রবার ১৮ই অক্টোবর ২০১৯ |

কাতারে মাদক মামলায় শাস্তি বা জরিমানা কত

তামীম রায়হান |  বৃহঃস্পতিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ সকাল ১১:০৩:১৪
কাতারে

মাদক জীবনের ধ্বংস ডেকে আনে। কেবল মাদকসেবী নয়, বরং মাদকের অভিশাপে নরকে পরিণত হয় পুরো পরিবার। একজন মানুষের মেধা ও মন এবং শরীর চিরদিনের জন্য নষ্ট করে দিতে মাদকের বিকল্প নেই। আর তাই পৃথিবীর দেশে দেশে মাদকের ভয়াল নেশা থেকে সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে নানা রকমের কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম আধুনিক ও নিয়ম শৃঙ্খলার দেশ কাতার। এখানে মাদক সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই কোথাও। মাদক আমদানি থেকে শুরু করে বিক্রি, সরবরাহ, পরিবহন এবং গ্রহণ- প্রতিটি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

কাতারে মাদক প্রতিরোধে যে আইন প্রণীত রয়েছে, তাতে মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে। যেমন আইনটির ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, আদালত কর্তৃক মৃত্যুদন্ড, বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা সর্বনি¤œ তিন লাখ রিয়াল এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে ওইসব ব্যক্তিকে, যে বা যারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে মাদক উৎপাদন করে বা বানায় কিংবা এমন কোনো নেশাকর দ্রব্য তৈরি করে যা মানুষের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। 

অথবা যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মাদক প্রতিরোধ আইনে নিষিদ্ধ কোনো উদ্ভিদের চাষ করে ব্যবসার উদ্দেশ্যে, বা সেসব যে কোনো আকারে বা আকৃতিতে থাকাকালে আমদানি করে তা দিয়ে ব্যবসা করে, তবে সে বা তারাও উপরে উল্লেখিত শাস্তির মুখোমুখী হবে।

এ ধরণের অপরাধে শাস্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে যদি একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার এসব কর্মকান্ডে জড়িত হয়, তবে সেক্ষেত্রে অপরাধীকে মৃত্যুদন্ড অথবা সর্বনি¤œ তিন লাখ রিয়াল ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হতে পারে।

মাদকের যে কোনো পণ্য- চাই তা যে কোনো নামেই হোক, যে কোনো উদ্দেশ্যে রাখা হোক, সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য। এ ধরণের অপরাধে জেল, জরিমানা থেকে শুরু করে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।

কাতারের কারাগারে বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি মাদক সম্পর্কিত মামলায় আটক রয়েছেন। এঁদের বিরুদ্ধে মাদকপণ্য আমদানি, কেনাবেচা, সেবন, পরিবহনসহ নানা রকমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে জীবিকার উদ্দেশ্যে দেশ ও পরিবার ছেড়ে তারা এখন আটক আছে বিদেশের কারাগারে। এতে কেবল নিজেরই ক্ষতি নয়, বরং নিজের পরিবার ও সর্বোপরি দেশের ক্ষতি হচ্ছে।

মাদক নিজে সেবন বা কেনাবেচায় জড়িত না হয়েও অপরাধী হতে পারেন। যেমন, যদি কোনো ব্যক্তি বিনামূল্যে অথবা অর্থের বিনিময়ে মাদকসেবনের জন্য জায়ঘার ব্যবস্থা করে দেয়, অথবা নিজের কাছে অন্যের মাদক জমা রাখে, তবে এসব ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিও অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।

দেখা গেছে, কাতারে আসার পর অনেকে সাধারণত তিন কারণে মাদক সম্পর্কিত অপরাদে জড়িয়ে পড়ে। প্রথমত, বাড়তি আয়ের আশায় মাদক কেনাবেচায় জড়িত হওয়া। দ্বিতীয়ত, পারিবারিক বা আর্থিক হতাশার কারণে মাদক সেবনে উৎসাহী হওয়া ও পরে আসক্ত হয়ে যাওয়া। তৃতীয়ত, অন্যের প্ররোচনায় বা উৎসাহে মাদক গ্রহণ করতে গিয়ে তাতে আসক্ত হয়ে পড়া।

কাতার সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বর্তমানে মাদক প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে প্রতিনিয়ত মাদকের বিপুল পরিমাণ চালান জব্দ করা হচ্ছে এবং যাদের কাছে এসব পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। এছাড়া যে কোনো জায়গায় বা সড়কে সন্দেহভাজনদের বাসাবাড়ি এবং যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কারও কাছে মাদক পাওয়া গেলে কোনো অজুহাতে তা থেকে ছাড় পাওয়া যাবে না। ফলে কাতারে থাকাকালে কোনো পরিস্থিতিতেই মাদক সেবন তো দূরের কথা, মাদক পরিবহন, কেনা বা বেচা কিংবা অন্য যে কোনো কাজে জড়িত হওয়া উচিত নয়।

তামীম রায়হান

সংশ্লিষ্ট খবর