শুক্রবার ১৮ই অক্টোবর ২০১৯ |

খাশোগি হত্যার আগে ‘হাস্যরসে মেতে উঠেছিলো’ খুনিরা

 শনিবার ৫ই অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ০১:০৫:৩৪
খাশোগি

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত সৌদি  সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার আগে তাকে নিয়ে হাস্যরসে মেতে উঠেছিলো তার  খুনিরা। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে সম্প্রচারিত একটি  ডকুমেন্টারিতে এক অডিও বার্তা প্রকাশ করে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বিবিসি  জানায়, অডিও টেপটি শুনেছেন জাতিসংঘের তদন্তকারীরাও।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তানবুলের  সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। খুনের  নির্দেশদাতা হিসেবে আঙুল ওঠে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের  বিরুদ্ধে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথমে এ হত্যাকাণ্ডের খবর অস্বীকার করা  হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে  যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার খবর অস্বীকার করা হয়। ওই ঘটনায়  দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান।

তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ওই হত্যাকাণ্ডের অডিও  রেকর্ডিং সংগ্রহে সমর্থ হয়েছে। এতে হত্যার ঠিক আগে খাশোগি ও ১৫ সদস্যের  কিলিং স্কোয়াডের মধ্যকার কথোপকথনের চূড়ান্ত মুহূর্তের অডিও অনুলিপি প্রকাশ  পেয়েছে। হত্যার সময় এবং আগে-পরে রেকর্ড হওয়া ৪৫ মিনিটের অডিও টেপ জাতিসংঘের  বিশেষ তদন্ত দলের হাতে তুলে দিয়েছে তুরস্ক। কনস্যুলেটে আড়িপাতার যন্ত্রের  মাধ্যমে ওই অডিও রেকর্ড করা হয়।

জাতিসংঘের তদন্ত দলকে সহায়তা করছেন ব্রিটিশ আইনজীবী  হেলেন কেনেডি। তিনিও ওই অডিও রেকর্ডটি শুনেছেন। বলেছেন, ‘একজন ফরেনসিক  প্যাথলজিস্ট খাশোগির দেহ কেটে টুকরা করেন বলে ধারণা আমাদের।’

অডিও টেপে খুনিদের কৌতুক করতে শোনা গেছে। হত্যার আগে  খাশোগিকে তারা ‘কুরবানির পশু’ বলে সম্বোধন করেন। জাতিসংঘের বিশেষ তদন্ত  প্রতিবেদক অ্যাগনেস ক্যালামার্ড রেকর্ডিংটি শুনেছেন বলে জানায় কয়েকটি  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তিনি বলেন, “অডিওতে আমি খাশোগিকে বলতে শুনি,  ‘তোমরা কী আমাকে ইনজেকশন দিতে যাচ্ছ?’। জবাবে তাদের কেউ একজন বলেন,  ‘হ্যাঁ’।”

মৃতদেহ কাটা নিয়ে ওই ব্যক্তি বলছিলেন, ‘ময়নাতদন্তের  জন্য মৃতদেহ কাটাছেঁড়া করার সময় আমি সাধারণত গান শুনি। কখনও আমার হাতে  এককাপ কফি এবং একটি সিগারেটও থাকে’।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত এই সাংবাদিক সৌদি  আরবে ফেরার বিষয়ে রিয়াদের চাপ অগ্রাহ্য করে আসছিলেন। সৌদি সরকারের কঠোর  সমালোচক ছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাশোগি।

সংশ্লিষ্ট খবর