শনিবার ১৬ই নভেম্বর ২০১৯ |

সৌদিআরব থেকে ৩ দিনে ৩৩২ বাংলাদেশি ফেরত

 রবিবার ৩রা নভেম্বর ২০১৯ সকাল ০৯:২৯:২২
সৌদিআরব

নভেম্বর মাসের প্রথম দিনে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ৭৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। শুক্রবার (১ নভেম্বর) রাত ১১ টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্স এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে তারা দেশে ফেরেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে কাজ করা ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান।

ইউএনবি'র একটি খবরে বলা হয়, এনিয়ে গত তিনদিনে মোট ৩৩২ জন বাংলাদেশিকে ফিরতে হলো। দেশে ফেরা এসব শ্রমিকদের বরাবরের মতো প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় বিমানবন্দরে জরুরি খাবার-পানি প্রদানসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি।

শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছ‌র এপর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ‌সেপ্টেম্বর থেকে ধরপাকড়ের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। শুক্রবার রাতে যারা ফেরত এসেছেন তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা কয়েক মাস আগে সেখানে গিয়েছিলেন। অনেকে জানিয়েছেন, তাদের যে কাজ দেয়ার কথা ছিলো সেই কাজ পাননি। দীর্ঘদিন ধরে থাকা কয়েকজন বলছেন, কেন তাদের পাঠানো হলো জানেন না। কয়েকজন বলছেন, কাজের বৈধ অনুমোদন (আকামা) নবায়নের জন্য তারা টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু নিয়োগকর্তা সেটি নবায়ন করেনি। এখন পুলিশ ধরলেও তারা দায়িত্ব নিচ্ছেন না।

এধরনের প্রতিটি ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা আদায় করা জরুরি বলে মনে করছেন শরিফুল হাসান।

ফেরত আসা নরসিংদীর সজিব হোসেন অভিযোগ করেন, তি‌নি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে আলফালা কোম্পানিতে গিয়েছিলেন মশানিধনকর্মী হিসেবে কাজ করতে কিন্তু সৌদিতে গিয়ে কাজ পান একটি সাপ্লাই কোম্পানিতে। একবছরেও তিনি কোনো বেতন পান‌নি। পরে আর কোনো উপায় না পেয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরলেন।

ফরিদপুরের মামুন মিয়া বলেন, সাড়ে চারবছর ধরে তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। আকামা নবায়নের জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকাও দিয়েছিলেন কিন্তু কফিল আকামা নবায়ন করেননি। অভিযানে গ্রেপ্তার হলে কফিল তার দায়িত্বও নেয়নি।

ফেরত আসা আরেক শ্রমিক মো. জুয়েলের বা‌ড়ি মৌলভীবাজার। তি‌নি জানান, মাত্র একমাস আগে সৌদিতে গিয়েছিলেন তিনি কিন্তু ধরপাকড়ের কারণে তাকেও শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর