শনিবার ২৮শে মার্চ ২০২০ |

আবুধাবির পথে প্রধানমন্ত্রী

 রবিবার ১২ই জানুয়ারী ২০২০ রাত ১০:৫৭:৩৮
আবুধাবির

তিনদিনের সরকারি সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার বিকাল ৫ট ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফ্লাইটটি আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে অবতরণ করবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ ইমরান প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে দুবাইয়ের শাংরি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। ইউএই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

শেখ হাসিনা সোমবার সকালে আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারের (এডিএনইসি) আইসিসি হলে ‘আবুধাবি সাসটেইনেবল উইক’ এবং ‘জায়েদ সাসটেইনেবল অ্যাওয়ার্ডস সেরিমনি’তে যোগ দেবেন। পরে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তার হোটেলে আয়োজিত এনভয়ে’স কনফারেন্সে যোগ দেবেন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের নয়টি দেশ নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

মঙ্গলবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউএই প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহম্মদ বিন জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান ও ইউএই’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্টের পত্নী শেখ ফাতিমা বিনতে মুবারক আল কেতবির সঙ্গে দেখা করবেন।

বিকালে প্রধানমন্ত্রী এডিএনইসির হল-১১তে আয়োজিত ‘দ্য ক্রিটিক্যাল রোল অব উইমেন ইন ডেলিভারিং ক্লাইমেট অ্যাকশন’ সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার অধিবেশনে যোগ দেবেন।

ইউএইতে তিনদিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এ দিকে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আবুধাবি সফর এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ক্রাউন প্রিন্স শেখ মুহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের আমন্ত্রণে আবুধাবি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ‘আবুধাবি সাসটেইনেবিলিটি উইক’ অনুষ্ঠানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩০-৪০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং মন্ত্রীরাও অংশগ্রহণ করবেন। এবারের আবুধাবি সাসটেইনেবিলিটি উইকের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি, অভিগমন, মহাশূন্য, জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রভাব এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

তিনি আরও জানান, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বাস্থ্য, খাদ্য, জ্বালানি, পানি ও শিক্ষা ক্ষেত্রগুলোতে উদ্ভাবনী এবং অনুপ্রেরণা সৃষ্টিকারী প্রয়াসের জন্য ‘জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি অ্যাওয়ার্ড’ দিচ্ছে। এ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ৭৬ জনকে তাদের উদ্ভাবনী অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাখতুম, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মুহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থপতি প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতির স্ত্রী শেখ ফাতিমা বিনতে মুবারকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারকরণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও দুই দেশের দূতাবাসের জমি বিনিময় নিয়ে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ১৩ জানুয়ারি পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত দেশের মধ্যে বাহরাইন, ইরান, ইরাক, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতদের অংশগ্রহণে একটি ‘রাষ্ট্রদূত সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাষ্ট্রদূতরা মিশনগুলোর প্রাধিকারভুক্ত কার্যাবলী, কর্মপরিকল্পনা-বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তমবার্ষিকী উদযাপন, অর্থনৈতিক, কূটনীতি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অভিবাসন, মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা উন্নয়ন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণসহ বিবিধ বিষয় উপস্থাপন করবেন।

সম্মেলনে রাষ্ট্রদূতরা সংশ্লিষ্ট দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুযোগ এবং বিভিন্ন অভিলক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা-বিপত্তির ব্যাপারেও অবহিত করার সুযোগ পাবেন। ‘রাষ্ট্রদূত সম্মেলন’র মাধ্যমে মিশনপ্রধানরা সরকারের প্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলোতে যথাযথ দিকনির্দেশনা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

আবুধাবিতে এনভয় কনফারেন্স বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অনেক স্বার্থ আছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের উপদেশ, দিকনির্দেশনা দেবেন এবং তারাও তাদের সমস্যা তুলে ধরবেন।

তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মিশনের কার্যাবলী, কর্মপরিকল্পনা, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন, বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতাবার্ষিকী উদযাপন, অর্থনীতি, কূটনীতি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয় বাধা-বিপত্তিগুলো উপস্থাপন করার সুযোগ পাবেন রাষ্ট্রদূতরা।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা বিনিয়োগ বাড়াতে চাই, বাণিজ্য বাড়াতে চাই, দক্ষ লোক পাঠাতে চাই। কিছু কিছু অসুবিধা হচ্ছে এবং আমাদের রাষ্ট্রদূতরা সেটি তুলে ধরবেন।

সূত্র:- যুগান্তর

সংশ্লিষ্ট খবর