সোমবার ৬ই এপ্রিল ২০২০ |

ইরানি হামলায় ৩৪ মার্কিন সেনার মস্তিষ্কে আঘাত

 শনিবার ২৫শে জানুয়ারী ২০২০ দুপুর ০২:১১:১৩
ইরানি

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মস্তিষ্কে আঘাত (ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি) পাওয়া ৩৪ সেনাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র জানান, আহত আরও ১৭ জন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ইরানের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য হতাহতের কথা অস্বীকার করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় কোনো মার্কিন নাগরিকের কোনো ক্ষতি হয়নি।

৮ জানুয়ারি ইরানের হামলার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি করেন। এর আগে ওই হামলায় ৮০ জন নিহত হয় বলে দাবি করে ইরান।

হোয়াইট হাউস থেকে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ইরান গুটিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলায় কোনো মার্কিন বা ইরাকির প্রাণহানি হয়নি। ঘাঁটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত সপ্তাহে পেন্টাগন বলেছে, আক্রান্ত হওয়ার পর ১১ জনকে মাথার নানা সমস্যার চিকিত্সা করা হয়েছিল।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্পকে হামলার ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি কারও মাথাব্যথা বা অন্য কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে আমি অবশ্যই জোর দিয়ে বলতে পারি তা গুরুতর কিছু নয়।’

সম্ভাব্য ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি (টিবিআই) প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, `আমি অন্যান্য যেসব আহত হওয়ার ঘটনা জানি, সে তুলনায় এগুলো মারাত্মক কিছু নয়।'

পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সব সেনা বাংকারে ছিলেন বলে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।

গত শুক্রবার প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র জোনাথন হফম্যান বলেছেন, আহত ৮ সেনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ৯ জনকে জার্মানিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ১৬ জনকে ইরাকে ও একজনকে কুয়েতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁরা আবার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন।

হামলার ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে আহত লোকজন সম্পর্কে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জানতেন না।

ইরাক অ্যান্ড আফগানিস্তান ভেটেরান্স অব আমেরিকা নামের একটি অলাভজনক সংস্থা হতাহতের মাত্রা প্রকাশে দীর্ঘ সময় নেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নিন্দা জানিয়েছে।

ওই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পল রিকফ বলেন, এটা অনেক বড় কিছু। মার্কিন নাগরিকদের অবশ্যই তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারকে বিশ্বাস করতে হবে। যুদ্ধে ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

গতকাল শুক্রবার ইরাকের হাজার হাজার মানুষ দেশটিতে ৫ হাজার বিদেশি সেনার উপস্থিতি নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

ইরাকের পার্লামেন্ট যুক্তরাষ্ট্রসহ সব বিদেশি যোদ্ধাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র:- প্রথম আলো

সংশ্লিষ্ট খবর