রবিবার ২৯শে মার্চ ২০২০ |

‘গণধর্ষণ হওয়ার সময় ছেলেকে পুড়িয়ে মারতে দেখেছি’

 সোমবার ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০৮:৪৭:৪৪
‘গণধর্ষণ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে অত্যাচার ও গণধর্ষণের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলিম নারী রাজুমা বেগম। সম্প্রতি কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নৃশংস সেই সময়ের কথা তুলে ধরেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণী।

রাখাইনের তুলা টোলিতে স্বামী-সন্তান নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতেন তিনি। তবে গত বছরের ৩০ আগস্ট সেখানে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সৌভাগ্যক্রমে সেই অভিযান থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও হারাতে হয়েছে অনেক কিছু।

রাজুমা জানান, গ্রামবাসীদের সাথে নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। সেখানে পুরুষদের নারী ও শিশুদের থেকে পৃথক করা হয়। তারপর তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়, অনেককে হত্যা করা হয় রাইফেলের বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে।

তিনি তখন তার ছেলে মোহাম্মদ সাদিককে নিজের হাতেই ধরে রেখেছিলেন। এরপর কিছু সেনা নারীদের দলে দলে ভাগ করে নিয়ে গিয়েছিল জোর করে।

রাজুমা বলেন, “তারা আমাকে বাড়ির ভিতরে আরও চার মহিলার সঙ্গে নিয়ে যায়। আমার ছেলেকে তারা আমার বাহু থেকে ছিটকে ফেলে দেয় মাটিতে, আমি দেখেছি তার মধ্যে একজন সেনা আমার শিশু পুত্রকে আগুনের দিকে ছুঁড়ে মারে, আমি শুনতে পেলাম যে সে জ্বলন্ত অবস্থায় চিৎকার করছে - মা বাঁচাও।”

তিনি আরো বলেন, “আমার একটি ছোট ভাই ছিল যার বয়স ১০ বছর। তার কথা ভাবলে আমার খারাপ লাগে,কারণ তাকেও ধরেছিল তারা এবং আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি।”

রাজুমাকে তিনজন মা, এক কিশোরী মেয়ে এবং এক প্রবীণ মহিলার সঙ্গে একটি ঘরে রাখা হয়েছিল। তাকে দুই-তিন ঘণ্টা ধরে দু’জন সেনা অত্যাচার ও নির্যাতন করে। এরপর, সেনারা বাকি মহিলাদের কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে। তারা মারা গেছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের উপর তিনবার মশালও জ্বালায় সেনারা। এরপর সেনারা তাদের বাড়ির ভিতরে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়।

জলন্ত আগুনের তাপে রাজুমার পুনরায় জ্ঞান ফিরে আসলে সে বাঁশের বেড়া ভেঙে পালাতে সক্ষম হন ও প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তিনি পাহাড়ে লুকিয়ে থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে তারই গ্রামের আরও তিন নারী ও এক অনাথের দেখা হয়।

রাখাইন থেকে পালানোর সময় তিনি লজ্জা সংবরন করতে অন্য রোহিঙ্গাদের পরিত্যাক্ত পোশাক পরেছিলেন। তিনি যখন সীমান্ত পেরিয়েছিলেন, তখন বাংলাদেশ সরকার তাকে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে পৌঁছাতে সহায়তা করে। সেখানে একটি ক্লিনিকে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেই শরণার্থী শিবিরেই তিনি তার স্বামীকে খুঁজে পান। তবে আজও মা ও ভাই-বোনের সন্ধান পাননি তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর