বুধবার ১লা এপ্রিল ২০২০ |

হামাসকে সমর্থন করায় ৬৮ জনের বিচার শুরু করল সৌদি আরব

 বৃহঃস্পতিবার ১২ই মার্চ ২০২০ বিকাল ০৩:২৪:২৬
হামাসকে

ফিলিস্তিনের গাজাভিত্তিক শাসকদলের সংগঠন ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন ‘হামাস’-কে সমর্থন করার দায়ে সৌদি আরবে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে বিচারের মুখোমুখি করেছে।

গত রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ফিলিস্তিন ও জর্ডানের ৬৮ নাগরিককে ‘বিশেষ আদালতে’ বিচারের জন্য উঠানো হয়েছে বলে আরবি প্রেসের খবরে বলা হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে সৌদির গোপন পুলিশ তাদের আটক করে।

অভিযুক্তদের পরিবার জানায়, তাদের আইনি সহায়তা না দিয়েই বিচার করা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি নাগরিক সাবেক চিকিৎসক মুহাম্মাদ আল খুদরি (৮১) দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করে আসছিলেন। তার পরিবার জানায়, তিনি কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত।

আল খুদরির পুত্র হানি সৌদির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তির অধ্যাপক। কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার পরেও তাকে আটক করা হয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, হামাসের সাথে যোগাযোগ রাখায় ফিলিস্তিনের এই দুই নাগরিককে আটক করেছে সৌদি শাসকরা। এর মাধ্যমে দেশটিতে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের সতর্ক করেছে দেশটির শাসক গোষ্ঠী।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে ঘুরতে গেরে শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং বসবাসরতসহ ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করে কর্তৃপক্ষ।

আল খুদুরি সৌদি আরবে হামাসের প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। সৌদি আরবের রাজতন্ত্রে পরিবর্তন আসার পরে ফিলিস্তিনপন্থী সৌদি সরকার এখন অনেকটাই ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে গেছে। যদিও আরব বিশ্বে হামাসকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বৈধ প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবেই দেখা হয়।

কিন্তু বর্তমান সৌদি সরকারের ইসরাইলের প্রতি ঝুঁকে পড়াটা অনেকটাই দৃশ্যমান।

২০১৪ সালে এই ৮৪ বছর বয়সী কিং সালমানের সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে মূলত তার পুত্র ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমানের (এমবিএস) ক্ষমতায় আসার সূচনা হয়।

হামাস সোমবার এক বিবৃতিতে এই গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বলে, গ্রেফতারের ধরণ দেখে মনে হয়েছে এটি সৌদি আরবে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের উপর ‘মিথ্যা অভিযোগ’ এবং ‘অন্যায় বিচার’। সৌদির নিরাপত্তা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হওয়া ফিলিস্তিনিরা জেরুসালেম ও আল আকসা মসজিদের সম্মান রক্ষা ছাড়া অন্য কোনো অপরাধ করেনি।

সংশ্লিষ্ট খবর