বুধবার ১লা এপ্রিল ২০২০ |

চট্টগ্রামে হোম কোয়ারেন্টিনে ২১ প্রবাসী

 রবিবার ১৫ই মার্চ ২০২০ দুপুর ১২:৩০:৩৫
চট্টগ্রামে

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশ থেকে চট্টগ্রামে আসা ২১ জন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টিনে  রয়েছেন। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি গতকাল সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান। সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশ থেকে চট্টগ্রামে ফেরা দুইজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জন ইতালি ও একজন দুবাই ফেরত বলে জানান তিনি। সিভিল সার্জন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে হোম কোয়ারেন্টিনের জন্য বাংলায় একটি নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে- কোনো ব্যক্তির যদি জ্বর (১০০ ফারেনহাইট/৩৮০ সেলসিয়াসের বেশি), কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি থাকে এবং তিনি বিগত ১৪ দিনের মধ্যে আক্রান্ত কোনো দেশ ভ্রমণ করে থাকেন অথবা ওই সময়সীমার মধ্যে নিশ্চিত, সম্ভাব্য কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংসপর্শে এসে থাকেন, তবে ওই ব্যক্তির কভিড-১৯ আক্রান্ত সন্দেহজনক রোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন। কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় বাইরের কোনো অতিথির সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করা যাবে না।

ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, খাওয়ার থালা, গ্লাস, কাপ, তোয়ালে, বিছানার চাদর অন্য কারো সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যাবে না। এসব জিনিসপত্র ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেয়া ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না, গণপরিবহন ব্যবহার, অন্যদের সঙ্গে একই যানবাহন অথবা ট্যাক্সি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে, বাড়ির অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে হবে, আলো বাতাসের সুব্যবস্থা সমপন্ন আলাদা ঘরে থাকতে হবে; তা সম্ভব না হলে অন্যদের থেকে অন্তত এক মিটার (তিন ফুট) দূরে থাকতে হবে (ঘুমানোর জন্য পৃথক বিছানা ব্যবহার করতে হবে)। যদি সম্ভব হয় আলাদা গোসলখানা ও টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব না হলে অধিকতর সতর্কতা ও জানালা খুলে রাখা যেতে পারে। বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েরা বুকের দুধ খাওয়াবেন। তবে শিশুর কাছে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার এবং ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
অন্যদিকে- নিজের উপসর্গগুলো সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল করা, জ্বর থাকলে নিয়মিত তাপমাত্রা পরিমাপ করা, যদি নতুন উপসর্গ দেখা দেয় বা আগের উপসর্গের অবনতি হয় (যেমন শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়), তবে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর কাছে যাওয়ার আগে তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানাতে হবে যে তিনি কভিড-১৯-এর সন্দেহভাজন রোগী। এতে অন্য সুস্থ ব্যক্তিরা যেন আক্রান্ত না হয়, সংসপর্শে না আসে এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পক্ষে সাবধানতা অবলম্বন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া যাতায়াত ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
গণপরিবহন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সম্ভব হলে এম্বুলেন্স, নিজস্ব পরিবহন ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে এবং যাওয়া-আসার সময় পরিবহনের জানালা খোলা রাখতে হবে। সর্বদা শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি (বিশেষ করে কাশি শিষ্টাচার) মেনে চলতে হবে, চলাচলের সময় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থানকালে অন্যদের থেকে এক মিটার (তিন ফিট) দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। শ্বাসতন্ত্র অন্য কোনো প্রদাহের (সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদি) কারণে যদি যানবাহনের কোনো অংশ নোংরা হয় তবে তা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মুখে মাস্ক পরা সম্ভব না হলে (যদি মাস্কের কারণে শ্বাসকষ্ট হয়) বাড়ির অন্য সদস্যরা ঘরে প্রবেশের আগে মুখে মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক পরে থাকার সময় সেটি হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। মাস্ক ব্যবহারের সময় প্রদাহের (সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদি) সংসপর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক খুলে ফেলতে হবে এবং নতুন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলতে হবে এবং সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় প্রয়োজনে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ফোন-মোবাইল-ইন্টারনেটের সাহায্যে যোগাযোগ রক্ষা করা যাবে। শিশুদের পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী দিতে হবে এবং খেলনাগুলো পরে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। দৈনন্দিন রুটিন অনুসারে খাওয়া, হালকা ব্যায়াম করতে অসুবিধা নেই। মনকে প্রশান্ত রাখতে হবে। সময় কাটানোর জন্য বইপড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা যেতে পারে।
পরিচর্যাকারী রোগীর সংসপর্শে গেলে বা তার ঘরে ঢুকলে; খাবার তৈরির আগে ও পরে, খাবার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পরে, গ্লাভস পরার আগে ও খোলার পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। রোগীর পরিচর্যার সময় এবং রোগীর মল-মূত্র বা অন্য আবর্জনা পরিষ্কারের সময় একবার ব্যবহারযোগ্য (ডিসপোজেবল) মেডিক্যাল মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। খালি হাতে ওই ঘরের কোনো কিছু সপর্শ করা যাবে না।
ঘরের মেঝে, আসবাবপত্রের সব পৃষ্ঠতল, টয়লেট ও বাথরুম প্রতিদিন অন্তত একবার পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কারের জন্য এক লিটার পানির মধ্যে ২০ গ্রাম (দুই টেবিল চামচ পরিমাণ) ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে ওই দ্রবণ দিয়ে সব স্থান ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। তৈরিকৃত দ্রবণ সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদি গুঁড়ো সাবান, কাপড় কাচা সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। নিজের এবং অন্যদের সুরক্ষায় এ নির্দেশনা মানতে হবে। কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা ভঙ্গ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর