শনিবার ২৮শে মার্চ ২০২০ |

করোনার হুমকিতে শ্রমবাজার

 সোমবার ১৬ই মার্চ ২০২০ বিকাল ০৩:৫২:৩৭
করোনার

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ আক্রান্ত দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করায় সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানি হুমকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে কাতার ও কুয়েতের এমন সিদ্ধান্তে সঙ্কটে পড়েছেন ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসীরা। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ার শঙ্কায় আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে রেমিটেন্স কমার আশঙ্কা করছেন জনশক্তি রফতানিকারকরা।

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। এর পরের অবস্থানে আছে যথাক্রমে ওমান, কাতার, জর্ডান ও কুয়েত। ভালো বেতনের কারণে নতুন বাজার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সিঙ্গাপুরও। এসব দেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ায় হোঁচট খেয়েছে কর্মী পাঠানো। এরমধ্যে বাংলাদেশসহ আক্রান্ত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করায় কাতার ও কুয়েতে কর্মী যাওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ বিশেষ করে সৌদি আরবও একই সিদ্ধান্ত নিলে জনশক্তি রফতানিতে ধস নামবে বলে আশঙ্কা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর। সেই সঙ্গে কমবে রেমিটেন্সও।

বায়রার নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা শঙ্কায় আছি সৌদি সরকার ফ্লাইট বন্ধ করে দিলে আমদের হাজার হাজার ভিসা নষ্ট হয়ে যাবে। এ মুহূর্তে আমাদের সরকারের নজর দেয়া উচিত বলে মনে করি। বিএমইটির কাজটা দ্রুত গতিতে করে দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের অন্তত ৩০-৪০ হাজার শ্রমিক চলে যেতে পারবেন।

বায়রার যুগ্ম মহাসচিব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, একমাত্র সৌদি আরব ছাড়া প্রায় বেশিরভাগ দেশেই শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে গেছে। আমরা কিছুটা শঙ্কিত কারণ চলতি বছর যে টার্গেট ছিল সেটা পূরণ হতে নাও পারে।

এ অবস্থায় জনশক্তি রফতানি সচল রাখতে দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী প্রবাসীদের করোনাভাইরাসমুক্ত সনদ দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র খোলার আহ্বান সংশ্লিষ্টদের। সাজ্জাদ হোসেন বলেন, করোনামুক্তের সার্টিফিকেটটা দ্রুত দেয়ার ব্যবস্থা করা গেলে ফ্লাইটটাও অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ছুটিতে দেশে আসা কাতার ও কুয়েত প্রবাসীদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ দিকে হওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান তাদের।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭ লাখের বেশি কর্মী বিভিন্ন দেশে চাকরি নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ প্রায় চার লাখ, ওমানে ৭২ হাজার ৬৫৪ জন ও কাতারে গেছেন ৫০ হাজার ২৯২ জন।

চলতি বছরে ১০ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও দুই মাসে বিদেশ গেছেন প্রায় ৭০ হাজার।

সংশ্লিষ্ট খবর