শনিবার ২৮শে মার্চ ২০২০ |

দেশে আরও ৩ জন করোনায় আক্রান্ত ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন

 রবিবার ২২শে মার্চ ২০২০ রাত ১০:২৩:৩৩
দেশে

বিশ্ব জুড়ে মহামারী করোনাভাইরাসে দেশে আরও তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭-এ। আর এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুজনের। রোববার সংবাদ সম্মেলনে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

আইইডিসিআরের পরিচালক জানান, ভাইরাস এখনও কমিউনিটির মধ্যে ছড়িয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কি না তা যাচাই করতে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিউমোনিয়া রোগীদেরও আমরা করোনাভাইরাস পরীক্ষা করি। সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে আমরা বলতে পারব না কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কি না। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হলে তা বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা মানবে না বলেও মত দেন তিনি।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী। তাদের বয়স ২০-৪০ বছরের মধ্যে। নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশ থেকে এসেছেন। আর একজন আগে আক্রান্ত এক রোগীর সংস্পর্শে ছিলেন। নতুন আক্রান্ত দুজনের মধ্যে একজনের কো-মরবিডিটি বা একাধিক প্রাণঘাতী ব্যাধির উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক। তিনি বলেন, নতুন আরও দুজন সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন। সব মিলিয়ে আক্রান্ত ২৭ জনের মধ্যে পাঁচজনের  ক্ষেত্রে এখন আর সংক্রমণ নেই। দুজন মারা গেছেন। অর্থাৎ দেশে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০।

বিশ^ জুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মেয়ের মাধ্যমে তার দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল। সেটাই ছিল বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু। এরপর কয়েক দফায় শুক্রবার নাগাদ দেশে মোট ২০ জন করোনাভাইরাস রোগী ধরা পড়ে। তারা কেউ বিদেশফেরত, কেউ তাদের স্বজন। দেশে নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে ১৯ মার্চ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় সব দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রোববার মধ্যরাতে সিলেটে মারা যাওয়া নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তার পরীক্ষা চলছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে যেহেতু সন্দেহ করা হচ্ছিল যে তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাই প্রটোকল অনুসরণ করেই তার সৎকার করা হয়েছে। এ ছাড়া শনিবার মিরপুরে মারা যাওয়া ব্যক্তির দেহে কীভাবে করোনাভাইরাস এসেছে সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

ওই ব্যক্তির রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১৪ দিন আগে থেকে কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন আমরা সেসব তথ্য নিচ্ছি। তিনি যেসব জায়গায় গিয়েছিলেন সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তারা সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যেন পরবর্তী সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হয়।


ঢাকা ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট খবর