অভ্যন্তরীণ রুটে ৭০ শতাংশ টিকিট বিক্রি সম্পন্ন

ঈদযাত্রায় গত কয়েক বছর ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আকাশপথে যাত্রা। সড়ক, নৌ ও রেলপথের সীমাহীন ভোগান্তি এড়াতে উড়োজাহাজে ঝুঁকছেন যাত্রীরা।

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনসগুলো।

সময় যত ঘনিয়ে আসছে টিকিটের দামও তত বাড়ছে। চাহিদার শীর্ষে রয়েছে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী ও বরিশালের টিকিট। তবে আগ্রহ কম আন্তর্জাতিক রুটের।

কাতারের সব খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

দেশে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলোর কয়েক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাত্রী চাহিদা বাড়লে অভ্যন্তরীণ রুটের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

ঈদের পাঁচ-সাত দিন আগে ফ্লাইটের এ চাহিদা বোঝা যাবে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ঈদের ছুটিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের চাহিদা কম।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এখন রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এয়ারলাইনসগুলো দিনে প্রায় সাত হাজার যাত্রী বহন করে। এর মধ্যে আসন্ন ঈদুল ফিতরে নীলফামারীর সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী ও বরিশালের টিকিটের চাহিদা বেশি।

চট্টগ্রাম ও সিলেটে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় টিকিটের চাহিদা কিছুটা বাড়ছে। যাত্রী চাহিদা না থাকায় ঈদের আগে ফ্লাইট কমছে কক্সবাজারে। তবে ঈদের পর টানা এক সপ্তাহ কক্সবাজারে টিকিটের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়ছে।

গত কয়েক বছরের তুলনায় দেশে উড়োজাহাজে যাত্রী চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। যাত্রীদের স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে কাজ করছে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কয়েকটি এয়ারলাইনস টিকিটে মূল্যছাড়ও দিচ্ছে। তবে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় টিকিটের দাম ক্রমেই বাড়ছে। সরকার জেট ফুয়েলের দাম কমালে ফ্লাইটে যাতায়াত আরও জনপ্রিয় হবে বলে মনে করছে এয়ারলাইনসগুলো।

এদিকে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ।

যেগুলো দিয়ে অভ্যন্তরীণ সাতটি রুট (চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল ও রাজশাহী) এবং ২০টি আন্তর্জাতিক রুটে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, টরন্টো, রিয়াদ, জেদ্দা, মদিনা, দাম্মাম, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ, কুয়েত, দোহা, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, ক্যান্টন (গুয়াংজু), কলকাতা, দিল্লি, কাঠমান্ডু যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে গত ৩০ মার্চ থেকে ‘রমাদান অফার’ সেবা চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ সেবার আওতায় অভ্যন্তরীণ রুটের সাত গন্তব্যে বিভিন্ন পরিমাণে ভাড়া কমিয়েছে বিমান।

এ সেবা আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২২ বা ২৩ এপ্রিল ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর মধ্যে যাত্রী চাহিদা বাড়লে ভাড়াও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে সূত্র।

বিমান সূত্র জানায়, এখন রমজান উপলক্ষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে একমুখী সর্বনি¤œ ভাড়া তিন হাজার ৬০০ টাকা, চট্টগ্রাম দুই হাজার ৪০০ টাকা, বরিশাল দুই হাজার ২০০ টাকা, যশোর দুই হাজার ২০০ টাকা, রাজশাহী দুই হাজার ২০০ টাকা, সিলেট দুই হাজার ২০০ টাকা ও সৈয়দপুর দুই হাজার ২০০ টাকা।

এছাড়া স্বাভাবিক সময়ে বিমানের প্রমো কোড ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের টিকিট কিনলে ৫ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার।

ইউএস-বাংলা-দেশের বৃহত্তম বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুটি উড়োজাহাজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি।

এখন এয়ারলাইনসটির বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ। আটটি অভ্যন্তরীণ ও ৯ দেশের ১১টি আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন করছে ইউএস-বাংলা।

শিগগির ঢাকা-দিল্লি-ঢাকা এবং ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা, ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা, ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ বা ২৩ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ধরে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি চলছে।

এক মাস আগ থেকে এসব রুটে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ টিকিট বিক্রি শেষ।

এর মধ্যে ঈদের চার দিন আগ থেকে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট টিকিট চাহিদা বেশি আছে। ঈদের পর এক সপ্তাহ পর্যন্ত কক্সবাজারে চাহিদা বেশি।

তবে ইউএস-বাংলার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের মতোই টিকিট বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা ৯ আন্তর্জাতিক (গুয়াংঝু, কলকাতা, চেন্নাই, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, দোহা, মালে, মাস্কাট, দুবাই, শারজাহ) রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

এসব রুটে স্বাভাবিক সময়ের মতোই টিকিট বিক্রি হচ্ছে। যদিও গত বছরের তুলনার এবার আন্তর্জাতিক রুটে টিকিট বিক্রি কম।

ঈদের ছুটিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে টিকিট বিক্রি কমের কারণ জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম বলেন, দুই বছর ধরে জেট ফুয়েলের দাম ক্রমেই বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে টিকিটের দাম বেড়েছে।

এজন্য হয়তো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ট্যুরিস্টদের চাহিদা কম। তবে ঈদের পাঁচ-সাত দিন আগে চাহিদা বাড়তে পারে।

নভোএয়ার-দেশের বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা নভোএয়ার ২০১৩ সাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। গত ১০ বছরে ধারাবাহিকভাবে এক লাখের বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে নভোএয়ার।

এ সময়ে সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটের সেবা দিয়েছে সাড়ে ৫৫ লাখের বেশি যাত্রীর। বর্তমানে নভোএয়ারের বহরে ৭২ আসনের এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের সাতটি নিজস্ব উড়োজাহাজ রয়েছে।

এসব উড়োজাহাজ দিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে প্রায় ২৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এবার ঈদে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী ও বরিশালে টিকিটের চাহিদা বেশি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ ও ২৫ এপ্রিলের আগে ও পরে ফ্লাইটের টিকিট গড়ে ৭০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে। যে টিকিট আছে, সেগুলোর ভাড়া ক্রমেই বাড়ছে।

যেমনÑস্বাভাবিক সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে টিকিট সর্বনিম্ন ৩০০০ টাকা থাকলেও এখন তা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এভাবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, টিকিটের দামও বাড়ছে

এর বাইরে নভোএয়ার ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে এই রুটে ঈদের কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছে নভোএয়ারের সংশ্লিষ্টরা।

এয়ার অ্যাস্ট্রা ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর দুটি এয়ারক্রাফট দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে এয়ার অ্যাস্ট্রা।

ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে প্রতিদিন চারটি ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে প্রতিদিন চারটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ১৮ জানুয়ারি আধুনিক টার্বোপ্রপ প্রযুক্তির এয়ারক্রাফট এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের আরেকটি এয়ারক্রাফট এয়ার অ্যাস্ট্রার বহরে যোগ হয়েছে। এখন এটি দিয়ে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা এবং ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা চলছে।

ঈদে টিকিট চাহিদা সম্পর্কে জানতে চাইলে এয়ার অ্যাস্ট্রার উপ-ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) সাকিব হাসান শুভ বলেন, আরও সপ্তাহখানেক আগ থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের অগ্রিম টিকিট বুকিং শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি শেষ।

এসব টিকিট ঈদের তিন দিন আগে যাওয়া এবং ঈদের পরদিন ঢাকায় ফেরার জন্য বুকিং দেয়া। তবে কক্সবাজারের অধিকাংশ বুকিং ঈদের পর।

আরো পড়ুন

Sharebiz

Loading...
,