আরব আমিরাতের উচ্চাভিলাষ

বিভেদে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্যের শত্রু-মিত্র খেলা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয়। ব্যক্তিস্বার্থে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের উদাহরণ এ অঞ্চলের নতুন কিছু নয়।

সৌদি-ইরান সংঘাত, কাতার-তুরস্ক বন্ধুত্ব, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের মধ্যে নীরবে অন্যতম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

চমক লাগানো সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে সেজেছে। পরস্পর বেছে নিচ্ছে নতুন নতুন মিত্র। ফলে দ্রুত বদলাচ্ছে শত্রু ও বন্ধুর তালিকা।

এমন ডামাডোলের মধ্যে যুবরাজ শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের আমন্ত্রণে গতকাল সোমবার দুদিনের সফরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পা রেখেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

সফরে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ইস্যু ছাড়াও দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় দশ বছরের বৈরী সম্পর্ক ভুলে তুরস্ক ও আরব আমিরাত আবারও নতুন করে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

যদিও দুদেশের এমন সম্পর্ক বৃদ্ধিকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ দেখছেন সন্দেহের চোখে।

এর আগে আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গত বছরের শেষ দিকে আঙ্কারা সফর করেন। ওই সফরে ১০টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি তুরস্কে বিনিয়োগের জন্য ইউএই ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল বরাদ্দ করে।

তুরস্ক-আমিরাতের সম্পর্ক উন্নয়নের আগে ২০২০ সালে আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে পরিপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আরব আমিরাত সফর করেন।

আরব এবং মুসলিম বিশ্বের বিরাট একটি অংশের রক্তচক্ষুকে পাত্তা না দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পেছনে আমিরাতের উদ্দেশ্য অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং গোয়েন্দা প্রযুক্তি জোগাড় করা।

যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেকে নেতৃত্বের আসনে বসানো যায়। এভাবেই বিগত এক দশকে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে একের পর এক চমক লাগানো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আরব আমিরাত।

ছোট, কিন্তু ধনী উপসাগরীয় এই রাজতন্ত্রের নানা রাজনৈতিক এবং সামরিক উচ্চাভিলাষ বিস্ময়ের সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মঙ্গলগ্রহে রকেট পাঠানো, দক্ষতার সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামলে প্রশংসা কুড়িয়েছে দেশটি।

কিন্তু দারুণভাবে সমালোচিত হয়েছে মুসলিম বিশ্বের সমালোচনা ও বিতর্কের তোয়াক্কা না করে আরবদের চিরশত্রু ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে।

সেই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব এবং সোমালিয়া ও লিবিয়ায় তুরস্কের প্রভাব খর্ব করতে ওই দেশগুলোর গৃহযুদ্ধে সম্পৃক্ত হতে পিছপা হয়নি ইউএই।

ইউএই প্রথম কোনো আরব দেশ যারা ন্যাটোর সমর্থনে ইউরোপে সেনা মোতায়েন করেছিল। এরপর আসে আফগানিস্তান। ২০০১ সালে তালেবানের পতনের পরপরই আমিরাত সৈন্যরা যে ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গী হয়, তা অনেকদিন পর্যন্ত বিশ্ববাসী তেমন জানতই না।

ইউএইর এমন রাজনৈতিক এবং সামরিক অভিলাষের ডানা এখন অনেকটাই বিস্তৃত। দেশটি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক একটি ব্যবসা কেন্দ্র হয়ে ওঠার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় সামরিক শক্তি হয়ে উঠেছে।

মাত্র এক কোটি মানুষের ছোট একটি দেশের মধ্যে এই সামরিক অভিলাষ দেখে সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাতিস ইউএইর নাম দিয়েছিলেন, ‘লিটল স্পার্টা’ বা ক্ষুদ্র, কিন্তু নির্ভীক।

আরব বসন্তের টালমাটাল অবস্থার পরপরই ইউএই মধ্যপ্রাচ্যের নানা জায়গায় প্রকাশ্যে নাক গলাতে শুরু করে। এখন লোহিত সাগর অঞ্চল এবং পূর্ব আফ্রিকাতেও তাদের ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে।

আফ্রিকা অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ইউএই অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তারা কিছু দেশে ‘কিংমেকার’ হয়েছে, অর্থাৎ তাদের পছন্দমতো সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। আবার অনেক জায়গায় ‘পিসমেকারের’ ভূমিকা নিচ্ছে তারা। ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে দুই দশকের বিরোধ মেটানোর পেছনে ইউএইর বিশাল ভূমিকা ছিল।

ইরান, ইরাক, জর্ডান, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, সিরিয়া, লেবানন এবং সাইপ্রাস মধ্যপ্রাচ্যের এই ১৬টি দেশের পরস্পরের সম্পর্ক জটিল মারপ্যাঁচে জড়ানো।

যার সুবিধা ভোগ করছে ইসরায়েল। তাদের কারণে আরব দেশগুলো পরস্পর যুদ্ধাবস্থায় থাকে, রাষ্ট্রপ্রধানরা একসঙ্গে বসতে পারেন না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মুসলিম সম্প্রদায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্যে আরব আমিরাতই হচ্ছে সব সমস্যার মূল। আরব আমিরাতকে বিশ্বাস করা কঠিন, তারা যদি তুরস্কের কাছাকাছি আসতে চায় তাহলে এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্য কোনো ফন্দি রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা ও পরিবর্তনগুলোকে নজরে রেখে এ মূল্যায়ন খুব সহজেই করা যায়। যেমন এক বছর আগেও সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান এবং আমিরাতের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক মধুর ছিল।

দুই যুবরাজ কার্যত তাদের দেশ শাসন করেন এবং তাদের লক্ষ্যও উচ্চাকাক্সক্ষী। অনেক বছর ধরে দুদেশের মধ্যে কৌশলগত বিষয়ে গভীর সহযোগিতা ছিল।

এমনও মনে করা হয়েছিল, তারা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবেন। কিন্তু আস্তে আস্তে সে সম্পর্কে ঘুণ ধরতে শুরু করে। ঘনিষ্ঠ মিত্র থেকে এখন শত্রুর পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন তারা। তাদের এই বৈরী সম্পর্ক প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুত্ব স্বার্থে আঘাত লাগা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার হাত গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে এই অঞ্চলের সব দেশ নতুন করে ভাবতে শুরু করে তাদের দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে। কার্যত সবাই এখন আখের গোছাতে ব্যস্ত।

সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, মিসর, জর্ডান, ইরাক, ইরান, সিরিয়াসহ প্রায় সবাই নতুন করে ভাবছে ভবিষ্যৎ নিয়ে। এতদিন আমেরিকার প্রশ্রয়ে যারা নাচত আর অন্যের নাচন দেখত; তাদেরও সে তাসের ঘর ভেঙে গেছে।

সুতরাং তুরস্ক এবং আমিরাতের সম্পর্ক নিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সবগুলো দেশের সম্পর্ককে সামনে রেখে।

২০১১ সালের আরব বসন্তের ছোঁয়ায় যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছিল, তখন তুরস্ক এবং কাতার ওইসব দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সাপোর্ট দেয়; গণতন্ত্রের বাণী শোনায়।

আরব বসন্ত অনেক দেশের শাসককে মসনদ ধরে টান দেয়। শেষ পর্যন্ত দুটো বলয় তৈরি হয়। তুরস্ক-কাতার-মুসলিম ব্রাদারহুড বলয়। আর আরব আমিরাত-সৌদি আরব-মুসলিম ব্রাদারহুড বিরোধী বলয়।

আস্তে আস্তে এই মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়। একদিকে থাকে আমিরাত-সৌদি-মিসর-বাহরাইন এবং ইসরায়েল। অন্যদিকে থাকে তুরস্ক-কাতার এবং ইরান।

সৌদি-আমিরাত বলয় আরও বাড়তে থাকে। যোগ দেয়, ভারত, গ্রিস, সাইপ্রাস, ফ্রান্স, ইরাক, সিরিয়া। আর তুর্কি-কাতার বলয়ে যোগ দেয় আজারবাইজান এবং পাকিস্তান। উভয় মেরুই একে অপরের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়।

তবে তুরস্ক-কাতার বলয়কে সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। যেমন, কাতারের বিরুদ্ধে বয়কট, তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থান ইত্যাদি। এই দেশগুলোকে পড়তে হয় চতুর্মুখী আক্রমণের মুখে।

তাদের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে ধ্বংসের প্রচেষ্টা চলতে থাকে। অন্যদিকে সৌদি-আমিরাত বলয় মুসলিম ব্রাদারহুডের কারণে অস্বস্তিতে থাকে।

সঙ্গে যোগ হয় সাংবাদিক খাশোগির হত্যা এবং ইয়েমেন যুদ্ধ আর আমেরিকার অবহেলা। উভয় মেরুই মূলত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে থাকে। আন্তর্জাতিকভাবে হয়ে পড়ে কোণঠাসা।

এমতাবস্থায় তুরস্ককে বাঁচাতে ছুটে আসে কাতারের অর্থ, আর সৌদি জোটের অবরোধ থেকে কাতারকে বাঁচাতে যায় তুরস্ক এবং ইরানের পণ্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুরস্ক-কাতার-ইরান বলয় ঝড়ঝাপটা সত্ত্বেও টিকে থাকতে সক্ষম হয়।

যদিও অর্থনীতি একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্তে আস্তে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। পশ্চিমারা কিছুটা কাতারের দিকে ঝুঁকতে থাকে।

বিশেষ করে আফগানিস্তান বিষয়ে আমেরিকা এবং তালেবানের মধ্যস্থতায় কাতার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলে যায় এক নতুন উচ্চতায়।

অন্যদিকে সৌদি আরব-আমিরাত জোট অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। তেলের মূল্যহ্রাস, করোনার হানা এবং ইয়েমেনের যুদ্ধের কারণে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়।

আস্তে আস্তে ওই বলয়ে ভাঙন ধরে। সৌদির সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক খারাপ হয়। আমিরাত-সৌদি সম্পর্কেও শুরু হয় টানাপড়েন। মিসর বেছে নেয় নিজের পথ।

ওই জোটের সবাই আবার নতুন করে সম্পর্ক গড়া শুরু করে এই তুরস্ক-কাতার-ইরান জোটের সঙ্গে। কাতারের ওপর থেকে অবরোধ উঠিয়ে নেয় সৌদি জোট। ইরানের সঙ্গে সৌদি আরব সম্পর্ক গড়তে শুরু করেছে।

মিসরের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আলোচনা চলছে। কাতারের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক প্রায় আগের জায়গায় চলে গেছে। তুরস্কের সঙ্গেও সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইচ্ছুক।

মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি-আমিরাত জোট তাদের কিছু কৃত্রিম কমন শত্রু তৈরি করে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক শক্ত করেছিল। অর্থাৎ তারা চারদিকে এমন কিছু কমন সমস্যার সৃষ্টি করেছে, যার আল্টিমেট ফলাফল দাঁড়ায় শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্য।

যেমনটি হয়েছে, ইয়েমেন যুদ্ধের শুরুতে, কাতার-তুরস্ক ও ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে। এগুলোতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও বেশিরভাগই ছিল সৌদির তৈরি সমস্যা।

এক্ষেত্রে আমিরাত সৌদির পাশে দাঁড়ায়, লড়াইয়ে আমিরাত বলতে গেলে তেমন কিছুই পায়নি। ইয়েমেন যুদ্ধে কোনো সফলতা না থাকায় ২০১৯ সালে আমিরাত তাদের সৈন্যদের একটা বড় অংশ ফেরত আনে।

এতেও ক্ষুব্ধ হয় সৌদি আরব। এখন আমিরাত সেখানে সৌদিবিরোধী একটা গ্রুপকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে, কাতারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি, তাতে ক্ষুব্ধ হয় আরব আমিরাত।

আবার আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করলে সৌদি নাখোশ হয়। এছাড়া বহুমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সৌদি যুবরাজের ঘোষিত ভিশন-২০৩০ নিয়ে বিপাকে আছে আরব আমিরাত।

দুবাইয়ের আদলে সৌদিকে একটি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাইছেন সৌদি যুবরাজ। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে উপসাগরীয় এলাকায় তাদের আঞ্চলিক সদর দপ্তরগুলো ২০২৪ সালের ভেতর সৌদিতে স্থানান্তরের আল্টিমেটাম দেয়।

না করলে সৌদি সরকার ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করবে না বলেও জানায়। ওই এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের মূলকেন্দ্র দুবাই এই হুমকি ভালো চোখে দেখেনি। তারা এটাকে আমিরাতের ওপর পরোক্ষ হামলা বলে বিবেচনা করেছে।

আরব আমিরাত ১৯৭১ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। গত ডিসেম্বরে দেশটি ৫০তম জাতীয় দিবস পার করেছে। ৫০ বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়নে দেশটি বিশ্বের উন্নত দেশের প্রথম সারিতে এবং বিশ্বের বসবাসযোগ্য নিরাপদ শীর্ষ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

সেই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের সুখী দেশের তালিকায়ও রয়েছে আমিরাত। সামরিক শক্তির দিক থেকে আরব বিশ্বের মধ্যে আরব আমিরাতের অবস্থান ইরাকের পর।

সামরিক খাতে দেশটির বার্ষিক ব্যয় ২২৭৫ কোটি ডলার। বিশ্বরাজনীতিতে তাদের সামরিক এবং রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষার কথা এখন আর চেপে রাখতেও চাইছে না ইউএই।

এক সাক্ষাৎকারে আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গারগাস বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ হতে চাই। বিশ্বে ভূমিকা রাখতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঝুঁকি নিতে হলেও আমরা তা নেব।’

বিশ্বরাজনীতি ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। এমতাবস্থায় আরব আমিরাত একটু দ্রুত এগুতে চাইছে কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। উপসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিভেন্সের মতে, ‘কোনো সন্দেহ নেই ইউএই এখন আরব বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকরী সামরিক শক্তি।

তারা যেভাবে যত দ্রুত দেশের বাইরে সেনা মোতায়েন করতে পারে, সেটা অন্য কোনো আরব দেশ এখনো চিন্তাই করতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘দেশটি খুবই ছোট এবং সক্ষমতারও অনেক ঘাটতি রয়েছে। ফলে একসঙ্গে অনেক সমস্যায় হাত দিলে তারা ঝুঁকিতে পড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে হিতে বিপরীত হতে পারে।’

আমিরাতের মতো দেশগুলোর হাতে বিপুল অর্থ থাকলেও বাস্তবে এগুলো আর্টিফিশিয়াল স্টেট। কোনো না কোনো দেশের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে হয়। রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের চরিত্র অনেকটা একই রকম। তাদের কাছ থেকে স্থায়ীভাবে নেতৃত্বসুলভ কিছু প্রত্যাশা করা কঠিন।

কোনো দেশ যখন ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দেখাতে থাকে তখন অনিবার্যভাবে দেশটি স্থানীয় নানা বিরোধেও জড়িয়ে পড়ে। আমিরাত এভাবে আরব উপদ্বীপ থেকে অনেক দূরের দেশ আফ্রিকার বিরোধেও জড়িয়েছে।

বেশ কয়েক ক্ষেত্রে আমিরাতের হস্তক্ষেপ বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখ দেখেছে। যেমন লিবিয়ায় আমিরাত তার হিসাবে ভুল করেছে। আমিরাত ভেবেছিল লিবিয়ার সংঘাতে জেনারেল হাফতার জিতবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ঘটেনি।

কাতার অবরোধও কোনো কাজে আসেনি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদের শেষের দিকে আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেও সৌদি তা করেনি। এভাবেই আমিরাত নানা দিকে জড়িয়ে চারদিকে শত্রু তৈরি করে ফেলেছে। নিজের নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলমুখী হয়েছে, আগামী দিনে এর ফলাফল হতে পারে ভয়ংকর।

হোয়াটসঅ্যাগে সব খবর পেতে চাইলে যুক্ত হোন এই গ্রুপে

কাতারের গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করে পেজে লাইক দিয়ে রাখুন

নিচের দিকে স্ক্রল করে আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়ুন

Loading...
,