এক ব্যক্তির পাসপোর্টের তথ্য নিয়ে বিদেশে দুজন

ব্যক্তি একজন। কিন্তু তার তথ্য পাসপোর্টে ব্যবহার করে দুই ব্যক্তি রয়েছেন দুই দেশে।

এমন অসম্ভব ঘটনাও ঘটে পাসপোর্ট অধিদপ্তরে। দুজনই পাসপোর্ট নিয়েছেন রাজধানীর আগারগাঁও থেকে। শুধু তাই নয় এক ব্যক্তির একাধিক পাসপোর্ট নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

এই নিয়ে অধিদপ্তর যেমন বিপাকে তেমন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রকৃত পাসপোর্টগ্রহীতাদের। অধিদপ্তর বলছে, দালালের সহায়তায় জালিয়াতি করেছেন অনেকে।

নিজের পাসপোর্টের তথ্য চুরি হয়ে গেছে রাইসুল ইসলাম নামের এক যুবকের। তার তথ্য ব্যবহার করে বিদেশ চলে গেছেন আরেকজন, মাঝখানে শুধু ছবির পরিবর্তন। বছর ধরে দফায় দফায় আগারগাঁও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে গিয়েও পাননি সমাধান। আশ্বাস আর দপ্তরের টেবিলেই আটকে আছে তার বিদেশ যাত্রা।

রাইসুল ইসলাম বলেন, এই তথ্য আমার বাবা-মা ও আমার জন্মতারিখ মিলে গেছে। আমি এক বছর ধরে পাসপোর্ট অফিসে ঘুরছি। এ সেপ্টেম্বর আমি উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু পাসপোর্টের কারণে যেতে পারছি না।

শুধুই রাইসুল নন তার মতো এমন ঘটনা আরও রয়েছে। জার্মান প্রবাসী আলমগীর তার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে। তাতেই পিলে চমকানো খবর! তার তথ্যে পাসপোর্টে নিয়ে আরেক জন চলে গেছেন দুবাই। বিভীষিকাময় দুর্ভোগ আর তিন দফা পুলিশ ভ্যারিফিকেশনের পর পেয়েছেন সোনার হরিণ পাসপোর্টের দেখা।

এখানেই শেষ নয়। ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়ে গেছেন মুসলিম। ঘুরে এসেছেন সৌদি থেকে। এখন আবার পূর্বের পাসপোর্টের আবেদন করেছেন সেই ব্যক্তি। এমন পরিস্থিতিতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে থাকা সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, দাবি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্যই ঘটেছে এমন ঘটনা।

কিভাবে ঘটল এমন তথ্য চুরির ঘটনা? দোষীই বা কারা? এমন প্রশ্নে অনেকটাই দায়সারা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের। তাদের দাবি, ২০১৪ তালে এমআরপি পাসপোর্টের আঙুলের চাপ জালিয়াতি করে এক ব্যক্তি নিয়েছেন একাধিক পাসপোর্ট। ঘটেছে তথ্য চুরির মতো ঘটনা।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধুরী বলেন, একটাযুগে একজনের পাসপোর্ট আরেকজন নিয়ে চলে গেছে, সেটা হচ্ছে হাতে লেখার যুগ। ধরুন আমার একটা পাসপোর্ট ছিল, সেটাকে আমি লুকিয়ে আগারগাঁও থেকে না করে কুড়িগ্রাম থেকে আরেকটি পাসপোর্ট করা হয়েছে। কারণ এটার সঙ্গে লিংক ছিল না তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য। এমআরপি যখন আসল তখন আঙুলের ছাপ এদিক ওদিক করে কিছু পাসপোর্ট নিয়েছে। ই-পাসপোর্ট আসার পর এ সুযোগটা আর নেই।

নামের ভুল এবং তথ্য পরিবর্তন করার জন্য সরকার নীতিমালা করে দিয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের সাপেক্ষে দেওয়া হচ্ছে পাসপোর্ট।

কোটি প্রবাসী আর বিদেশ ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট নিয়ে ভোগান্তি যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ উদ্যোগ আর দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনলেই খুলবে জটিলতার জট।

,