ওমান জাতীয় দলে বাংলাদেশিদের দেখা যেতে পারে

মাসকটের রুই থেকে আল আমিরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। পাহাড় কাটা আঁকাবাঁকা পিচ ঢালা আধুনিক রোড দিয়ে যাওয়া যায় ২০ থেকে ২৫ মিনিটে।

এমনই একদিন স্টেডিয়াম যাওয়ার পথে রাইডশেয়ারিং অ্যাপস ও-ট্যাক্সির ড্রাইভারকে ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বললেন, ‘আমরা ক্রিকেটকে পছন্দ করি না। ওমান দলে সব বাইরের মানুষ।’

সত্যিই তো তাই। ওমান বিশ্বকাপ দলে থাকা ১৬ জনের দলে একজন ক্রিকেটার শুধু স্থানীয়। সুফিয়ান মাহমুদ নামে এই ক্রিকেটার ওমানের বয়সভিত্তিক দলে খেলে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে। আর বাকিরা ভাড়াটে। কেউ ভারতের, আবার কেউ পাকিস্তানের। ওমান ক্রিকেটে এই দুই দেশের ক্রিকেটারদের প্রধান্যই বেশি।

৫০ লাখের বেশি জনসংখ্যার ওমানে বাস করেন প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি। সুদূর প্রবাসে এসে ধীরে ধীরে তারাও জড়াচ্ছেন ক্রিকেটের সঙ্গে। খেলছেন ওমানের ডিভিশন লিগগুলো থেকে সর্বোচ্চ লিগ প্রিমিয়ার লিগেও। তবে ভালো খেললেও বাংলাদেশিদের কদর খুব একটা নেই। তবে নজরকাড়া পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিকতা থাকলে জাতীয় দলের দরজাও খুলে যেতে পারে যে কোনো সময়।

তেমনটাই জানিয়েছেন ১৩ বছর ধরে ওমানে থাকা প্রবাসী লেগ স্পিনার মোহাম্মদ এরশাদ চৌধুরী। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তার জন্ম। এরশাদ ওমানের বয়সভিত্তিক দলগুলো থেকে ওমান প্রিমিয়ার লিগ পর্যন্ত খেলেছেন। নিয়মিত খেলেন ওমান ক্রিকেট লিগে। কিন্তু ওমানের রেসিডেন্ট কার্ডে সমস্যা হওয়ার কারণে প্রিমিয়ার লিগে তিনি নিয়মিত হতে পারেননি। এই প্রিমিয়ার লিগ থেকেই ওমান জাতীয় দলে সুযোগ হয় ক্রিকেটারদের।

এরশাদ জানিয়েছেন, ৫ জন বাংলাদেশি ওমান প্রিমিয়ার লিগে খেলতেন। তার মধ্যে দুজন চলে গেছেন দেশে। আর তিনজন এখনো খেলছেন। তারা হলেন কুমিল্লার চান্দিনার পেসার রুবেল সাত্তার, ঢাকার ওপেনিং ব্যাটসম্যান জি এম মাহবুব ও কক্সবাজারের ব্যাটিং অলরাউন্ডার মাসুদ পারভেজ। আর দেশে ফিরে আমিনুল ইসলাম পলাশ আছেন ক্রিকেট নিয়েই। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে কাজ করছেন।

যারা এখন পেশাদার ক্রিকেট খেলছেন তাদের কি সুযোগ আছে ওমান জাতীয় দলে খেলার? এরশাদ বলেন, ‘অবশ্যই আছে। তবে বিষয়টা হলো ওমান ক্রিকেট বোর্ড ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের প্রধান্য দেয়। সেটা যদি না হয় যে কোনো সময় ওমান জাতীয় দলে বাংলাদেশিরা খেলতে পারেন।’

কিন্তু প্রবাসীরা যে রেসিডেন্ট কার্ড পেয়েছেন, সেটা দিয়ে খেলতে পারবেন? এরশাদ বলেন, ‘ওমান জাতীয় দলে যারা খেলছেন তারা এখানকার স্থানীয় না। সবাই বিভিন্ন অফিসে কাজ করেন আর ক্রিকেট খেলেন। যারা ওমানের না তারা এই রেসিডেন্ট কার্ড দিয়েই সুযোগ হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।’

প্লাটিনাম সার্ভিস ডায়মন্ড (পিএসডি) নামে বাংলাদেশের একটি দল রয়েছে। এখান থেকে বিভিন্ন ডিভিশনে খেলেই প্রিমিয়ার ডিভিশনে সুযোগ পেয়েছেন প্রবাসীরা। তবে এই টিমের কয়েকজন এখন পাড়ি জমিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া। সেখানে গিয়েও ক্লাব ক্রিকেটে খেলছেন তারা।

যে এরশাদ এ সব তথ্য জানিয়েছেন তিনি লেগ স্পিন দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন ওমান ক্রিকেটে। পেয়েছেন নানা পুরস্কারও। এখনো খেলছেন নিয়মিত। হইচই ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একবার এক ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলাম। এরপর হই হই রব পড়ে যায়। দলগুলো টানাটানি করে। বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পুরস্কার পাই।’

ওমান ক্রিকেটে ওমানিরা নিজ দেশে পরবাসীর মতো। ভারতীয় ও পাকিস্তানিরা এখানে রাজত্ব করে যাচ্ছে, বাংলাদেশিরা ক্রিকেট খেলেও সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। এরশাদ তো জানিয়েছেন জাতীয় দলের দরজা খুলে যেতে পারে প্রবাসীদের, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

,