কাতারে আমার প্রবাসী স্বামীকে হত্যা করেছে তাঁর ভাইয়েরা, এখন আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে সব অধিকার থেকে- অভিযোগ কাতার প্রবাসীর বিধবা স্ত্রীর

আমার কাতারপ্রবাসী স্বামীকে হত্যা করে তাঁর লাশ দেশে পাঠিয়েছে তার অন্য প্রবাসী ভাইয়েরা।  কাতারে পরিকল্পিতভাবে তাকে ঘরের ভেতর হত্যা করার পর হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে গত প্রায় এক বছর ধরে।

আর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মধ্যস্থতার দোহাই দিয়ে আইনের দ্বারস্থ হওয়া থেকেও বিরত রাখা হয়েছে আমাকে। নাবালক সন্তানদের নিয়ে আমার দুর্বিষহ জীবন কাটছে এখন।

কুলাউড়ার শরীফপুর ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামের বাসিন্দা কাতার প্রবাসী মরহুম আমিরুল ইসলাম সিমু চৌধুরীর স্ত্রী রোজিনা আক্তার সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানান।

লিখিত বক্তব্যে রোজিনা আরও বলেন বলেন, আমার স্বামী আমিরুল ইসলাম সিমু চৌধুরী দীর্ঘদিন কাতারে কর্মরত ছিলেন। তিনি দোহায় যে বাসায় বসবাস করতেন, সেখানে তার চার মামাতো ভাই উজ্জ্বল, খায়রুল, আজহারুল ইসলাম ও খছরু একই সঙ্গে বসবাস করতেন।

গত বছরের ৪ এপ্রিল উজ্জ্বলসহ চার ভাই মিলে সিমু চৌধুরীকে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার ৭ দিন পর স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ ফোনে জানায় উজ্জ্বল ও অন্যরা।  তখনই আমার পরিবারের সন্দেহ হয়।

এমন অবস্থায় আমার প্রবাসী স্বামীর লাশের আশায় সবকিছু চাপা দিয়ে তাদের সঙ্গে কৌশলে যোগাযোগ করলে মৃত্যুর ৯ দিন পর লাশ দেশে পাঠায় সিমু চৌধুরীর মামাতো ভাইয়েরা। ১৩ এপ্রিল কাতার থেকে দেশে লাশ আসার পর তারা বার বার ময়নাতদন্তের অনুরোধ করলেও তা না করেই দ্রুত লাশ দাফন করা হয়।

ওইদিন স্থানীয় চেয়ারম্যান জনাব আলী, চাঁনপুর গ্রামের নাসির উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে একটি অঙ্গীকারনামা করা হয়। তাতে লেখা ছিল, মৃত্যুর ৪০ দিন পর সবাইকে নিয়ে উচিত বিচার করা হবে।

পরে গত ২৩ জুলাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আলীর সভাপতিত্বে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সিমু চৌধুরীর স্ত্রী, সন্তানদের ভরণপোষণ বাবদ নগদ ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। আজও সেই টাকা পরিশোধ করেনি উজ্জ্বল ও অন্যরা।

কিছুদিন আগে উজ্জ্বলদের নিকটাত্মীয় সরকারি চাকরিজীবী কর্নেল শায়েদ মিনহাজ সিদ্দিকী পল্লব ও নাসির উদ্দিন এক লাখ টাকার চেক নিয়ে এলে রোজিনা তা প্রত্যাখ্যান করে পুরো টাকা দাবি জানান।

এমনি পরিস্থিতিতে সরকার এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনাসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রোজিনা আক্তার।

এ ব্যাপারে প্রবাসী উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের পারিবারিক। যারা এতিম হয়েছে, সেই ছোট ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ আমরা দেখব।

সূত্র: সমকাল

আপনার জন্য আরও খবর

Loading...
,