কাতারে আসার পর প্রথমে যা করণীয়

কাতারে আসার পর কোম্পানির মালিক বা নিয়োগকর্তা, যাকে পুরনো পরিভাষায় ‘কফিল’ বলা হয়ে থাকে, তার কাছে একজন কর্মী হিসেবে কী কী দাবি করা যেতে পারে, এ নিয়ে অনেকের স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই।

ফলে কাতারে আসার পরও ভিসার দালাল বা কোম্পানির মানদুবের কথায় ভরসা করে অনেকে লম্বা সময় নষ্ট করেন, যা কোনোভাবেই উচিত নয়।


মনে রাখবেন, কাতারে আসার পর ৩০ দিনের ভেতর আপনার আইডি তৈরি করে দেওয়ার জন্য কোম্পানির কাছে দাবি করার অধিকার আপনার রয়েছে।

৩০ দিনের ভেতর আইডি তৈরির কাজ শুরু করার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের ভেতর আপনার হাতে আইডি বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কোম্পানির। এ নিয়ে কোনোরকম গড়িমসি বা অজুহাত আপনি মেনে নিলে পরবর্তীতে আপনি নিজে ভোগান্তি বা বিড়ম্বনার শিকার হতে পারেন।

সর্বোচ্চ ৯০ দিনের ভেতর কোম্পানির মালিক বা কর্মকর্তা আপনাকে যখন আপনার আইডি বুঝিয়ে দেবেন, তখন থেকে আপনি বৈধ হিসেবে কাতারে বসবাসের সুযোগ পাবেন। নয়তো ৯০ দিন পরও যদি আপনার হাতে আইডি না থাকে, তবে আপনি অবৈধ হিসেবে গণ্য হবেন।

আইডি বুঝে নেওয়ার সময় অবশ্যই আপনার পাসপোর্ট ফেরত নেবেন। কোনোভাবেই কখনো নিজের পাসপোর্ট কোম্পানির মালিকের কাছে জমা রাখবেন না। কোনো কর্মীর পাসপোর্ট মালিকের কাছে জমা রাখা কাতারের আইনে অবৈধ। বরং কোম্পানির কর্মকর্তা যদি আপনার পাসপোর্ট আপনাকে না দিয়ে আটকে রাখে, তবে সেক্ষেত্রে আপনি তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে থানায় অভিযোগ জানাতে পারেন।


তবে আপনি নিজে যদি স্বেচ্ছায় পাসপোর্ট হেফাজতের জন্য কোম্পানির মালিকের কাছে রাখতে চান, তবে লিখিত আবেদনসহ সেটি রাখতে পারেন।

আপনার লিখিত আবেদন ছাড়া কখনো কোনো কোম্পানির মালিক বা ম্যানেজার আপনার পাসপোর্ট তার কাছে রাখতে পারেন না। লিখিত আবেদনসহ পাসপোর্ট কোম্পানির কাছে জমা রাখার সময় জানিয়ে দেবেন, আপনার যখনই প্রয়োজন হবে, তখনই যেন আপনি নিজের পাসপোর্ট ফেরত পেতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।


যদি আপনার কোম্পানির মালিক বা কোনো প্রতিনিধি আপনার পাসপোর্ট আটকে রাখে, তবে সেক্ষেত্রে দেরি না করে আপনি কাছের পুলিশ অফিস বা থানায় যোগাযোগ করুন।

এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন এবং দশ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে বাধ্য হবেন। চাইলে আপনি থানায় না গিয়ে সরাসরি পাবলিক প্রসিকিউশনের অফিসেও অভিযোগ করতে পারেন।

কাতারে কাজের জন্য আসা মানে এই নয় যে কোম্পানির সব অনিয়ম আপনাকে মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। বরং কাতারের আইনে আপনার অধিকার পুরোপুরি সুরক্ষিত। আপনার অভিযোগের কারণে যদি কোম্পানির মালিক আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, সেক্ষেত্রে কাতারের আইন আপনাকে সাহায্য করবে।

তাই কখনোই কোম্পানির কোনো বেআইনি কাজকে সমর্থন দেবেন না, মেনে নেবেন না।

,