কাতারে বৈঠকে আফগান সরকার ও তালেবান

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সেনাদের প্রত্যাহার শুরুর পর হামলা বাড়িয়েছে স্বশস্ত্র সংগঠন তালেবান।

এমন পরিস্থিতিতে আজ শনিবার (১৭ জুলাই) তালেবান ও আফগানিস্তান সরকারের প্রতিনিধিরা দোহায় বৈঠকে বসছেন।

জানা যায়, বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যে কাতার গেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, সরকারের সাবেক প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ। এছাড়া আফগানিস্তান সরকারের ওই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন নাজিয়া আনওয়ারি। প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

নাজিয়া আনওয়ারি জানান, কাতারে দুই পক্ষের আলোচনা হবে। আফগানিস্তানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, আশা করছি, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এর মধ্য দিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি আসবে। দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা সরানোর শেষ ধাপে একের পর এক অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে তালেবান।

আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে আফগান সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ মুহূর্তে তালেবানের যুদ্ধ চলছে।

আলোচনায় বসার আগে তালেবানের মুখপাত্র মুহাম্মদ নাঈম আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা আলোচনা ও সমঝোতার জন্য প্রস্তুত।

‘আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান আমাদের অগ্রাধিকার। আলোচনার অপর পক্ষ সংকট নিরসনে আন্তরিক হবে বলে আশা করছি।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান সীমান্তে আফগান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা আহত হয়। তারা সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সীমান্ত থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানের চমন শহর থেকে মোল্লা মোহাম্মদ হাসান নামে তালেবানের এক যোদ্ধা এএফপিকে বলেন, ‘সংঘর্ষে আমাদের এক যোদ্ধা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।’

স্পিন বলদাক সীমান্তে সংঘর্ষ চলাকালে শুক্রবার নিহত হন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফটোসাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি। ২০১৮ সালে পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছিলেন ভারতীয় নাগরিক দানিশ।

আফগানিস্তানের জন্য স্পিন বলদাক সীমান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পুরোপুরি স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তান বাদাম, শুকনা খাবারসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য এই সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে রপ্তানি করে। অন্যদিকে পাকিস্তান থেকে তৈরি মালামাল এই সীমান্ত দিয়েই আফগানিস্তানে প্রবেশ করে।

স্পিন বলদাক সীমান্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে তালেবান। কারণ প্রতিদিন এই সীমান্ত দিয়ে চলাচল করা হাজার হাজার যানবাহন থেকে বড় অঙ্কের কর পাবে সংগঠনটি।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্কের জেরে আফগানিস্তানে সে সময় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।

মিত্র বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে ওই বছরই আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করা হয়।

তালেবান উৎখাত হলেও আফগানিস্তানে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র ন্যাটোভুক্ত দেশের সেনারা।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরাতে নিজেদের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এপ্রিলে বাইডেনের ওই ঘোষণার পর ন্যাটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোও আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কথা বলে এবং ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি থেকে বিদেশি সেনা সরতে শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১ জুলাই বিদেশি সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ বাগরাম বিমানঘাঁটি ছেড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনী।

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার-প্রক্রিয়ার মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালানো শুরু করে তালেবান। আফগান সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষ বাধছে সংগঠনটির।

,