কাতারে যেসব ট্রাফিক অপরাধে ৩০০ রিয়াল জরিমানা

কাতারে থাকাকালে অনেকেই যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। কিন্তু ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন না থাকায় কখনো কখনো আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হন কেউ কেউ।


বিশেষ করে কোথাও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা না পেলে অনেকে নিজের গাড়িটি এমন জায়গায় রাখেন, যেটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য অনুমোদিত নয়। এ ধরণের গাড়ি পার্কিং টহলরত ট্রাফিক পুলিশের নজরে পড়লে ৩০০ রিয়াল জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে কেটে নেওয়া হতে পারে ৩ পয়েন্ট।

আবার অনেকে রাস্তার পাশে নির্মিত ফুটপাতের উপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে পার্ক করেন। এটিও কাতারের ট্রাফিক আইন অনুসারে অবৈধ ও দন্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের জন্যও ৩০০ রিয়াল জরিমানা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে ৩ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হতে পারে।

এমনিভাবে কোনো ব্রিজে বা সড়কে এমন জায়গায় গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করা যাবে না, যেখানে গাড়ি থামিয়ে রাখার অনুমতি নেই। এই ধরণের কর্মকান্ডের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে হলে চালককে ৩০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তিন পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে।

সড়কে এমন কোথাও গাড়ি থামানো বা রাখা যাবে না, যেখানে গাড়ি রাখার ফলে সড়কে স্থাপিত ট্রাফিক সাইনবোর্ড অন্যদের চোখের আড়ালে পড়ে যায়। এ ধরণের কাজ কাতারের ট্রাফিক আইনে অবৈধ। এর দায়ে অভিযুক্ত চালককে ৩০০ রিয়াল জরিমানা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তিন পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে।

এছাড়া এমন আরও বেশকিছু বিষয় আছে, যেগুলো হয়তো চালকের দৃষ্টিতে স্বাভাবিক, কিন্তু মূলত এতে অন্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ফলে ট্রাফিক আইনে এ ধরণের কর্মকান্ড সবসময় অবৈধ ও এর ফলে আর্থিক জরিমানা ও শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন অভিযুক্ত চালক।

সড়কের এক পাশে যখন গাড়ি পার্কিং করা থাকে, তখন ওই গাড়ির পাশে আরেকটি গাড়ি পার্ক করা অবৈধ।

মনে রাখবেন, কাতারে প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় গাড়ি রাখা কঠোর দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স বা যে কোনো বিশেষ কাজের জন্য নির্ধারিত জায়গায় গাড়ি রাখাও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। অপরাধভেদে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় এ ধরণের অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের।

কাতারে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। ফলে সড়কে আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক রাডার বসানো হচ্ছে, তেমনিভাবে টহলরত ট্রাফিক টিমের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ফলে ট্রাফিক আইনের খুঁটিনাটি সম্পর্কে সচেতন থাকা আমাদের সবার জন্য অবশ্য কর্তব্য।

,