কাতার প্রবাসীর আত্মহত্যা: পরিকল্পিত হত্যার সন্দেহ

মায়ের পছন্দের কনেকে বিয়ে করে সংসার বেঁধে ছিলেন কমলগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাতার প্রবাসী সাইফ বিন করিম। লন্ডন প্রবাসী কন্যা কাতারে এসে বিয়ে করেছিলেন এই তরুণকে।

আগামী সপ্তাহে স্ত্রীর সঙ্গে তার লন্ডন যাওয়ার কথা ছিলো। তার আগেই লাশ হলেন এই কাতার প্রবাসী।

স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটের ওসমানীনগরের গলমুকাপন গ্রামের নানা শ্বশুরের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিয়ের এক বছরের মাথায় পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিলেন কাতার প্রবাসী সাবেক এ ছাত্রলীগ নেতা।

রোববার রাতে নানা শ্বশুরের বাড়ি থেকে সাইফের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

গুগল নিউজে গালফ বাংলার খবর পেতে এই লিংকে ক্লিক করে ফলো দিয়ে রাখুন

পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে স্ত্রী তাছমিনাকে সঙ্গে নিয়ে নানা শ্বশুর মুক্তার মিয়ার সিলেটের উসমানীনগরের গলমুকাপন গ্রামে যায় সাইফ। রোববার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পায় তার পরিবার।

তাছমিনার এক মামা টেলিফোনে সাইফের বাবাকে জানান, সাইফ বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে বিছানার চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

খবর পেয়ে ছুটে যান সাইফের বাবা সহ স্বজনরা। তার আগেই লাশ নামিয়ে ফেলা হয়। তারা গিয়ে দেখেন নিথর দেহ পালংয়ে রয়েছে।

কাতার প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির খবর

লাশ দেখে এবং পরিবারের সদস্যদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে রোববার রাতেই লাশ উদ্ধার করে উসমানীনগর থানা পুলিশ

নিকাহ রেজিস্টার অনুযায়ী তাছমিনা ছিলেন তালাকপ্রাপ্ত। তার বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সদর নবীগঞ্জ ইউনিয়নের চইতপুর গ্রামে। কিন্তু এ নামে কোনো গ্রাম নেই ওই ইউনিয়নে। তবে চৌশতপুর নামে ওই ইউনিয়নে গ্রাম রয়েছে।

তাছমিনার বাবার নাম কামাল আহমেদ, মাতা রুনা আহমেদ। জানা গেছে সাইফের নানা বাড়িও উসমানীনগরে। তাছমিনার মা রুনা হলেন সাইফের মা শাহানারা করিমের বান্ধবী। তাছমিনার প্রথম সংসার ভেঙে যাবার পর ছেলে সাইফের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি।

পূর্ব পরিচিত থাকায় বিয়ের সেই প্রস্তাব সহজে লুফে নেন তাছমিনার মা রুনা। বিয়ের কথা বার্তা যখন চলে তখন সাইফ বিন করিম ছিলো কাতার আর তাছমিনা আহমেদ ছিলো লন্ডনে।

কথাবার্তা ফাইনাল হলে সাইফকে দেখতে লন্ডন থেকে কাতার আসেন তাছমিনা। পরে কাতারেই তাদের বাগদান (এনগেজমেন্ট) সম্পন্ন হয়।

কাতার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর দেখুন এখানে ক্লিক করে

গত বছরের এপ্রিলে সাইফ দেশে আসলে একই বছরের ১৩ জুন তাছমিনা আহমেদ এর সাথে ১৫ লাখ টাকায় দেন মোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সাইফ। বিয়ে সম্পন্ন হয় তাছমিনার নানা মুক্তার মিয়ার নিজ বাড়ি সিলেটের উসমানীনগরের গলমুকাপন গ্রামে।

সাইফ বিন করিম এর মাতা শাহানারা করিম রোববার বিকালে ছেলে সাইফের সাথে শেষ কথা বলেন। তখন সাইফ তাকে বলে আম্মু আমি ঘুমাচ্ছি। পুতের এই ঘুম যে আর ভাঙ্গবে না বলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন তিনি।

সাইফের মৃত্যুর সংবাদ রোববার রাতেই তার বাড়িতে পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মা বাবা সহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজন প্রতিবেশীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

সদা হাসোজ্জল টকবগে যুবকের এ মৃত্যু সহজে কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তার বন্ধু ও সহপাঠীরা জানান, আগামী সাপ্তাহে লন্ডন যাবার কথা ছিলো সাইফের। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে রোববার রাতেই ওসমানীনগরের গলমুকাপন থেকে নিহত সাইফের মরহেদ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ওসমানীর থানা পুলিশ।

সাইফের পরিবারের সদস্যরা জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর থেকে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার স্ত্রী তাছমিনার পরিবার।

মানব জমিন

Loading...
,