কাতার বিএনপির সভাপতি আবু ছায়েদের পদ স্থগিত

দলীয় নীতি ও আদর্শের বিরুদ্ধে যাওয়ায় প্রবাসী নেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।রেহাই পাচ্ছেন না প্রবাসী শাখার সভাপতিসহ সিনিয়র নেতারাও।

সম্প্রতি এমনই ঘটনা ঘটেছে কাতার বিএনপির সভাপতি আবু ছায়েদের বেলায়। এখানেই শেষ নয়, তালিকায় আছেন আরও কয়েকজন, যদিও সেগুলো এখনই নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

গত বছর কাতারে শেখ রাসেল স্মরণে আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন কাতার বিএনপির সভাপতি আবু ছায়েদ। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে কাতার প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের সামাজিক মাধ্যমে। পরে এই নিয়ে চলে আলোচনা ও সমালোচনা।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ অক্টোবর আবু ছায়েদকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠান মধ্যপ্রাচ্য বিএনপির সমন্বয়ক আহমদ আলী মুকিব। ৭ নভেম্বর এর জবাব দেন আবু ছায়েদ।

জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ আগামী ৩ মাসের জন্য স্থগিত করে ২৯ ডিসেম্বর নোটিশ পাঠান বিএনপির সিনিয়র যুগÍ মহাসচিব অ্যাডভোকে রুহুল কবির রিজভী।

এমন স্থগিতাদেশের প্রতিক্রিয়ায় কাতার বিএনপির সভাপতি আবু ছায়েদ বলেন, আমার মনে হয় দলের হাইকমান্ডকে ভুল বুঝানো হয়েছে। ব্যাডমিন্টন খেলা দেখতে যাওয়া কোনো অপরাধ বা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের পর্যায়ে পড়ে না। দলের স্বার্থে আমাকে বাদ দিতে হলে ভিন্ন কথা ছিল, কিন্তু এটা তো ব্যক্তিস্বার্থে করা হয়েছে।

আবু ছায়েদ

আবু ছায়েদ আরও বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে আমি বাংলাদেশে যাচ্ছি। আমি বিএনপির মহাসচিবের সাথে দেখা করবো এবং বিষয়টি খোলাসা করবো। এরপরও যদি দলের কল্যাণে আমাকে বাদ দিতে হয়, তখন প্রয়োজনে আমি নিজেই পদত্যাগ করবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু বলেন, দলীয় আদর্শ ও নীতি এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে হাইকমান্ড। যারা এর ব্যতিক্রম করছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এরই প্রতিফলন এই অব্যাহতির ঘটনা। আমি মনে করি, এ থেকে আমাদের সবারই শিক্ষা নেওয়া উচিত।

শরিফুল হক সাজু

সাজু বলেন, আমি মনে করি, জাতীয়তাবাদী আদর্শের এই সংগঠনে পদের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হলে কারও স্বপদে থাকা উচিত নয়। নিকট এবং দূর অতীতে দেশে-বিদেশে এজন্যই দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমি এসব ব্যাপারে হাইকমান্ডের যে কোনো সিদ্ধান্তের সাথে একমত।

আবু ছায়েদের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আলোচনায় আছে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পেয়ার মোহাম্মদের নাম। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এই নেতা আবারও হাল ধরছেন কাতার বিএনপির।

তবে এর মধ্য দিয়ে আবারও কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে কাতার বিএনপি। সাবেক সভাপতি শহিদুল হকের নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা আলাদা হয়ে আছেন দীর্ঘদিন ধরে। এবার সদ্য পদ স্থগিত হওয়া নেতা আবু ছায়েদ এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজুর নেতৃত্বে দুটি ভিন্ন ভিন্ন ধারা সক্রিয় হচ্ছে প্রবাস রাজনীতিতে।

Loading...
,