কাতার বিশ্বকাপ ‘এশিয়ান ফুটবলের ভোর’

ছয় মাসও নেই কাতার বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে। কোমর বেঁধে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার এশিয়ায় হতে যাওয়া এই আসরে আলোচনায় এশিয়ান দল।

এই মহাদেশ থেকে যে ছয় দল অংশ নিতে যাচ্ছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) অধিভুক্ত এত বেশি দল নিয়ে যে কখনও হয়নি বিশ্বকাপ!

ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব ও জাপান এএফসি বিশ্বকাপ বাছাই খেলে মূল পর্বের টিকিট পেয়েছে। কাতার খেলবে স্বাগতিক হিসেবে। সোমবার আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফে পেরুকে হারিয়ে ষষ্ঠ এশিয়ান দল হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

এশিয়ান দলগুলোর এমন সময়ে জাগরণ হয়েছে, যখন বিশ্বকাপ দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হচ্ছে এশিয়ায়।

অনেকভাবেই কাতার ২০২২ হতে পারে এশিয়ান ফুটবলের ভোর। এশিয়ায় আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপের কথাই ধরুন। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ছিল যৌথ আয়োজক।

এশিয়ান দলগুলোর জন্য ওই টুর্নামেন্ট ছিল নিজেদের জানান দেওয়ার মঞ্চ। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফল, নজর কেড়েছে তাদের প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল দিয়ে।

ওইবার তারা কাঁপিয়ে দিয়েছিল ফুটবল বিশ্বকে। জাপান অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব পার করে, যে গ্রুপে ছিল রাশিয়া, তিউনিসিয়া ও বেলজিয়ামের মতো দল।

সাত পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে পা রাখে, তবে প্রথম নকআউট ম্যাচেই হেরে যায় তুরস্কের কাছে, যারা পরে খেলেছিল সেমিফাইনাল।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া রূপকথার মতো এক বিশ্বকাপ কাটায় ওইবার। পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও পোল্যান্ডের গ্রুপে তারা ছিল সেরা।

তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ছিল পর্তুগালের বিপক্ষে বিখ্যাত জয়। গাস হিডিংকের কোরিয়ানরা শেষ ষোলোতে ইতালিকে হারায় এবং পরে কোয়ার্টার ফাইনালে চমকে দেয় স্পেনকে হারিয়ে। সেমিফাইনালে অল্পের জন্য জার্মানির কাছে হেরে যায় কোরিয়ানরা।

২০০২ সালের বিশ্বকাপ প্রমাণ করেছিল এশিয়ান দলগুলো বৈশ্বিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। পরের আসরগুলোতেও একই প্রমাণ মিলেছে।

২০১০ সালের বিশ্বকাপে ফিরে যাওয়া যাক। ওইবার আবারও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নকআউটে পৌঁছায়। ২০১৮ বিশ্বকাপেও জাপান শেষ ষোলোতে উঠেছিল, যে ম্যাচে এক সময় ২-০ গোলে বেলজিয়ামকে পেছনে ফেলে তারা। কিন্তু হেরে যায় ৩-২ গোলে।

এশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে এশিয়ান ফুটবল নতুনভাবে পরিচিতি পেয়েছিল। আগামী ২১ নভেম্বর থেকে এশিয়ায় শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় বিশ্বকাপে এশিয়ান ফুটবলের উত্থান দেখা যেতে পারে।

এশিয়ান দলগুলোর এমন কিছু খেলোয়াড় রয়েছে, যারা শীর্ষ ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোতে খেলছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং-মিন সম্প্রতি টটেনহ্যাম হটস্পারে দারুণ ফর্মে ছিলেন, জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ গোল্ডেন বুট।

সম্প্রতি এশিয়ান দলগুলোও ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে যাওয়া কাতার গত বছর কনকাকাফ গোল্ড কাপের সেমিফাইনাল খেলেছিল।

তারা ২০১৯ কোপা আমেরিকাতে প্যারাগুয়েকে রুখে দেয় এবং আর্জেন্টিনার কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে যায়। এছাড়া লুক্সেমবার্গ ও আজারবাইজানের মতো ইউরোপিয়ান দলগুলোকেও হারিয়েছে তারা। প্রীতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকেও জিততে দেয়নি কাতার।

শুধু কাতার কেন! সাম্প্রতিক প্রাক বিশ্বকাপ প্রীতি ম্যাচে জাপান ৪-১ গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল এবং ব্রাজিলে কাছে হারে অল্প ব্যবধানে (১-০)। দক্ষিণ কোরিয়া তো ২-০ গোলে হারিয়েছে চিলিকে।

এশিয়ান ফুটবলের জন্য এসব অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক লক্ষণ। প্রথমবার এই মহাদেশ থেকে ছয়টি দল বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে।

এশিয়ান ফুটবল ফের চমকে দেবে বিশ্বকে, এমন প্রত্যাশা তো থাকছেই। আর মঞ্চ যখন এশিয়াতেই, তখন এমন আশা অবাঞ্ছনীয় নয়। এশিয়ান ফুটবলের ভোর কত সুন্দর আর স্নিগ্ধ হয়, সেটাই দেখার।

গালফ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপে এড হোন এখানে ক্লিক করে

আজকের আরও খবর

রাইজিং বিডি

Loading...
,