কেন আন্তর্জাতিক বৈধতা পেতে যাচ্ছে তালেবান ‘সরকার’

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, তালেবানেরও কাবুল সরকারের অংশ হওয়া উচিত। তালেবানের সঙ্গে ব্রিটেন সরকারের কাজ করতে দ্বিধা নেই।

অপরদিকে তালেবান নেতা বলেছেন, আল কায়েদার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনকে তালেবান আফগানিস্তানের মাটিতে কখনোই প্রশ্রয় দেবে না। আফগানিস্তানের মাটিতে থেকে কাউকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না!

আফগানিস্তান নিয়ে ইঙ্গ–মার্কিন অবস্থান এবং তালেবানের ক্ষমতা দখলের খায়েশ ও আন্তর্জাতিক বৈধতা আদায়ের মরিয়া ভাব এতেই অনেকখানি স্পষ্ট।

বাইডেন প্রশাসনকে এরই মধ্যে ভয় দেখাতে শুরু করেছেন বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির নেতারা। ইরাক–আফগান যুদ্ধকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে সেনা প্রত্যাহার জো বাইডেনের বড় ভুল।

এতে নতুন করে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মওকা পেয়েছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল তালেবান। তারা সর্বশক্তি দিয়ে মরিয়া হয়ে সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে বলে দাবি করছেন তালেবান নেতারা।

পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তবে আফগানিস্তানের জনগণের ভেতর থেকে সেভাবে তালেবানবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হচ্ছে না। প্রধান শহরগুলোতে কিছু মানুষ বিশেষ করে কাবুলে নারীদের বিক্ষোভ এবং তালেবান শাসন নিয়ে নিজেদের ভীতি ও আশঙ্কার কথা উঠে এলেও সর্বাত্মক বিরোধিতার সুস্পষ্ট প্রকাশ নেই।

ফলে তালেবান ফের সরকারে এলে তারা আবার নব্বইয়ের দশকের লৌহ কঠিন শাসনে ফিরে যাবে কি–না, সেটি নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার কতখানি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, সেই হিসাব-নিকাশও চলছে।

অনেকে ঝুঁকি না নিয়ে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তেমন ইঙ্গিত মেলেনি।

ওদিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুসংহত করতে একের পর এক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে গোপনে প্রকাশ্যে বৈঠক করে যাচ্ছেন তালেবান নেতারা। এরই মধ্যে ইরানের মধ্যস্থতায় কাবুল সরকার ও তালেবানের সঙ্গে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই একটি সমঝোতা বৈঠক হয়ে গেছে। শনিবার (১৭ জুলাই) কাতারের রাজধানী দোহাতে আবার বসেছে তালেবান ও কাবুল সরকার।

এর মধ্যে আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রকের আসনে চলে যাচ্ছেন চীন। তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহীন গত ৯ জুলাই সাউথ চায় না মর্নিং পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চীনকে তাঁরা বন্ধু হিসেবে দেখছেন।

যত দ্রুত সম্ভব আফগানিস্তান পুনর্গঠনে বিনিয়োগের বিষয়ে বেইজিং আলোচনা করবে বলে তাঁদের আশা। আর এর জন্য চীনকে নিরাপত্তার গ্যারান্টিও দিচ্ছেন তারা।

সাক্ষাৎকারে সুহাইল দাবি করেছেন, বর্তমানে আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। এসব এলাকায় চীনা বিনিয়োগকারী ও কর্মীরা ফিরতে চাইলে তাঁদের নিরাপত্তা দেবেন তাঁরা।

সেই সঙ্গে সুহাইল এও বলেছেন যে, আফগানিস্তানে উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোনো স্থান নেই। আল কায়েদাসহ যেকোনো সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের আফগানিস্তানের মাটিতে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা তাঁরা প্রতিহত করবেন।

আফগানিস্তানে এখন সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ চীনের। তামা, কয়লা, লোহা, গ্যাস, কোবাল্ট, পারদ, স্বর্ণ, লিথিয়াম ও থোরিয়ামের মূল্যবান খনিজের সবচেয়ে বড় ভান্ডার আফগানিস্তান। এসব খনিজের অর্থমূল্য দাঁড়ায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারের বেশি।

২০১১ সালে চীনের ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আফগানিস্তানে ২৫ বছরের জন্য তিনটি তেলক্ষেত্র খননের ইজারা পেয়েছে। এর অর্থমূল্য ৪০ কোটি ডলার। এসব তেলক্ষেত্রে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল আছে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া লোগার প্রদেশের মেস আইনাকে তামার খনি খননের কাজও পেয়েছে চীনা কোম্পানি। রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এ খনির অবস্থান।

চীন দাবি করে আসছে, ইস্ট ‍তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট নামে একটি উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ জিনজিয়াং প্রদেশে অস্থিরতার জন্য দায়ী। এমন গ্রুপের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সন্দেহ করেন। তবে নব্বইয়ের দশকে কিছু উইঘুর গেরিলা হামলার প্রস্তুতি নিতে আফগানিস্তানে গিয়েছিল বলে জানা যায়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এই গ্রুপটিকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় বেজায় ক্ষুব্ধ হয় চীন।

এ ব্যাপারে তালেবান মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আফগানিস্তানের মাটিকে অন্য কোনো দেশে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তাঁরা দোহার চুক্তির প্রতি অকুণ্ঠভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দোহা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে। এ চুক্তিই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পথ তৈরি করে।

আল কায়েদার ব্যাপারে তালেবানের অবস্থান সম্পর্কে সুহাইল বলেন, আল কায়েদার একটি ‘অতীত যুগ’ আছে। তাদের আর এ দেশে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তালেবান আল কায়েদাকে পেয়েছে বুরহানুদ্দিন রাব্বানি সরকারের কাছ থেকে। তখনই আল কায়েদা আফগানিস্তানে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সালে তালেবান বুরহানুদ্দিন সরকারকে উচ্ছেদ করে। আমরা আল কায়েদাকে থাকতে দিয়েছিলাম, কারণ তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিন্তু এখন আফগানিস্তানে কোনো আল কায়েদা নেই। আর দোহা শান্তিচুক্তি অনুযায়ী তাঁরা তাদের প্রশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না।

উল্লেখ্য, মার্কিন আগ্রাসনের আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল অবধি আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান সরকার। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে বেকায়দায় পড়ে পিছু হটা শুরু করলে সেখানে ঢুকে পড়ে চীন। তালেবানের বক্তব্য অনুযায়ী, চীন তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সম্ভাব্য তালেবান যোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল চীন। কিন্তু তৎকালীন নেতা মোল্লা ওমরের (২০১৩ সালে প্রয়াত) সঙ্গে আলোচনার পর বেশ আশ্বস্ত হয়েছে বেইজিং। (অ্যান্ড্রু স্মল, সিনিয়র ফেলো, জার্মান মার্শাল ফান্ড, এশিয়া প্রোগ্রাম)।

ওই সময় চীন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিল। যেখানে আফগানিস্তানের সঙ্গে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, আফগানিস্তানে চীন ও পাকিস্তানের জন্য বাস্তবিক কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে চীন আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে, যাতে দেশটিতে গোষ্ঠীগত সংহতি এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলোয় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা তালেবানদের সঙ্গে দেশটির সরকারি বাহিনীর সংঘাত হচ্ছে প্রায়ই

আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলোয় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা তালেবানদের সঙ্গে দেশটির সরকারি বাহিনীর সংঘাত হচ্ছে প্রায়ই। ছবি: রয়টার্স

এদিকে আফগানিস্তান থেকে এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ সেনা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগান সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ন্যাটো সেনারাও আর নেই। ফলে রাজধানীর দখল আর কতক্ষণ তারা রাখতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও।

মার্কিন থিংক ট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফেলো এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাধিহা আফজাল বলেন, তালেবান ও কাবুলে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তি ছাড়াই অন্য রাষ্ট্রগুলোর সেনা প্রত্যাহার একটা ভুল। এই ভুল আফগানিস্তানকে এক প্রকার গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই গৃহযুদ্ধই হয়তো শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের শাসক নির্ধারণ করবে। (ভক্স, ১১ জুলাই, ২০২১)।

আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠন করুক বা কোনো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করুক—সেটি সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতখানি হুমকি হয়ে উঠবে তা নিয়ে চিন্তিত মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা। বিষয়টি জো বাইডেনও বারবার বলেছেন। তবে সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দেখুন, সন্ত্রাসী হুমকির বিষয়টি পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এটি চলে গেছে অন্য কোথাও। ফলে ক্ষমতা পেলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তালেবান পক্ষ থেকে হুমকি তৈরির উদ্বেগটা থেকেই যাচ্ছে।

তালেবান মুখপাত্র তাঁর সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, তাতে মনে হয় তালেবান আর আগের মতো সন্ত্রাসবাদে জড়াবে না বা সন্ত্রাসীদের মদদ দেবে না। যদিও মাধিহা আফজাল বলছেন, এটা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। কারণ, তালেবানেরা অপপ্রচার এবং কথায় অলংকার ব্যবহারে ওস্তাদ। এখানে একটা বিষয়ের দিকে সতর্ক নজর দেওয়া উচিত—তালেবান রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দুটি ভাগ আছে। একটি ভাগ জানে কীভাবে অলংকার এবং অপপ্রচারের অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। আর আরেক ভাগ হলো গ্রামীণ তালেবান পদাতিক যোদ্ধা। তাঁরা এখনো সেই নব্বইয়ের দশকের উগ্র রক্ষণশীল তালেবান আদর্শই ধারণ করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন আফগানিস্তানে জিহাদিদের বিজয় হয়েছে। ফলে প্রথম অংশ আন্তরিক হলেও এটি নিয়ে একটা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

নব্বইয়ের দশকের তালেবানি শাসনের স্মৃতি যাদের এখনো দগদগে, তাঁরা ভয় পাচ্ছেন—আবার নারীদের নিপীড়নের শিকার হতে হবে। তাঁদের বাইরে কাজ করতে দেওয়া হবে না, মেয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হবে। ফলে নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

তবে মুখপাত্র সুহাইল বলছেন, মেয়েদের স্কুলে যেতে দেওয়া হবে। তাঁরা যেসব জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন, সেখানে স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে এবং মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন তাঁরা। তিনি বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব স্কুলের শিক্ষকদের বেতন–ভাতার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, কাবুল সরকার সেসব স্কুলের বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

মাধিহা আফজাল বলছেন, এটি বিনা–তর্কে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, তালেবান নেতারা নারী শিক্ষা, নারীদের বাইরে কাজ করা এবং এ ধরনের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিজেরাই স্পষ্ট নন। তাঁরা শুরু থেকেই বলছেন যে, শরিয়তের বিধান অনুযায়ীই তাঁরা সবকিছু করবেন।

এখন কথা হলো, তালেবান আন্তরিকতার সঙ্গেই এসব বলছে, নাকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বৈধতা পেতে চালাকি করছে? এসব কথাবার্তা বলে হয়তো তারা শুরুতে বৈধতা আদায় করে নেবে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর আবার নব্বইয়ের দশকে ফিরবে না, সেটির কোনো নিশ্চয়তা আছে কি?

আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে জোরদার হচ্ছে তালেবান ও তালেবানপন্থী গোষ্ঠীগুলো

আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে জোরদার হচ্ছে তালেবান ও তালেবানপন্থী গোষ্ঠীগুলো। ছবি: রয়টার্স

তালেবান নেতারা এরই মধ্যে ইরানে গিয়ে প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে। পাকিস্তান সফর করেছে বহুবার। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও তারা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। নব্বইয়ের দশকে যেসব দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল, তার বাইরেও তারা যোগাযোগ করছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে তালেবানের একটি উদারনৈতিক অবস্থান প্রকাশ্যে আসছে। তবে সেটি যদি হয় শুধুই বৈধতা আদায়ের কৌশল, তাহলেই তা বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের টানা রক্তক্ষয় ও অর্থ অপচয়ের সঙ্গে স্নায়ু চাপে এখন ক্লান্ত। বাইডেন প্রশাসন আফগানিস্তানের দায় নেওয়াকে একটা বোঝা মনে করছে। পরোক্ষভাবে তারা বলতে চাইছে, প্রতিবেশী দেশগুলোরও সেখানে একটা দায়িত্ব আছে। নিশ্চিতভাবে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ভারতের দিকে ইঙ্গিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। এক সময় সৌদি আরবের আর্থিক ও মার্কিন সামরিক সহযোগিতায় সোভিয়েত খেদানো তালেবানকে আবার রাশিয়ার কোলেই ঠেলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটা ভাবা অমূলক নয়।

আফগানিস্তানকে ঘিরে এখানে যে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি দানা বেঁধে উঠছে, সেটি সামলানোর মতো ক্ষমতা এসব দেশের একটিরও আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আপাতত যুক্তরাষ্ট্র এখানে নেতৃত্বের আসনে থাকতে স্বস্তিবোধ করছে না বলেই মনে হয়।

এ ছাড়া মহামারির কয়েক বছর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে আর্থ–সামাজিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তাতে পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি থেকে জো বাইডেনের সহসা বিচ্যুতি হবে আত্মঘাতী। এ বিষয়ে মার্কিন নীতি নির্ধারকেরা নিঃসন্দেহে সচেতন। ফলে আফগানিস্তানে প্রধান ভূমিকা রাখছে রাশিয়া, চীন আর পাকিস্তান। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি ভারত এবার অন্তত আফগানিস্তানে অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক বলেই ধরে নেওয়া যায়।

,