চট্টগ্রামে সৌদি ও কাতার এয়ারের ফ্লাইট এ বছর

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যে সক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দিনের বেশির ভাগ সময় বিমানবন্দর প্রায় ফাঁকা থাকে। মূলত বড় এয়ারলাইন্সগুলো এখান থেকে ফ্লাইট পরিচালনা না করায় সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

কাতারের সব আপডেট পেতে যুক্ত হোন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে

তবে সৌদি ও কাতার এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, বিমানবন্দরে ব্যস্ততা অনেক বাড়বে। এতে এ অঞ্চলের যাত্রীদের ঢাকা হয়ে বিদেশ যাতায়াতের ঝামেলা কমবে। এর মধ্য দিয়ে পূরণ হবে চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ঈদুল ফিতরের আগেই সৌদি এয়ারলাইন্সের চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু শিডিউল সমস্যার কারণে তারা তা করতে পারেনি।

আগামী সেপ্টেম্বরে ফ্লাইট চালু করতে পারে তারা। প্রাথমিকভাবে শাহ আমানত থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। কাতার এয়ারলাইন্সের সঙ্গেও আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

ফ্লাইট চালু করতে আগ্রহী হলেও তারা দিনক্ষণ ঠিক করতে পারেনি। তবে চলতি বছরেই ফ্লাইট চালু করবে। দুটি এয়ারলাইন্সই ইতোমধ্যে বেসরকারি বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। চীন, সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক রুটেও ফ্লাইট চালু করার চেষ্টা চলছে।

সরকার চট্টগ্রাম অঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বড় ইপিজেডসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতে বিভিন্ন দেশের মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হিসেবে কাজ করছেন।

ফলে দিন দিন উড়োজাহাজের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাত্রীদের ঢাকা হয়ে চলাচল করতে হয়। তাই চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে নতুন নতুন রুট ও ফ্লাইট চালুর দাবি দীর্ঘদিনের।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েক দফা চট্টগ্রাম চেম্বার থেকে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। সৌদি ও কাতার এয়ারলাইন্স এগিয়ে আসায় চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হবে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাসলিম আহমেদ সমকালকে বলেন, ‘কাতার ও সৌদি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করতে ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে।

গত ঈদুল ফিতরের আগে সৌদি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট চালু করার কথা থাকলেও সেটা হয়নি। তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে তারা কার্যক্রম শুরু করতে পারে। চলতি বছরের মধ্যেই ফ্লাইট চালু করতে পারে কাতার এয়ারলাইন্সও।’

তিনি বলেন, ‘বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য রানওয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণে চাপ এবং ওজন ধারণক্ষমতা থাকতে হয়। এই বিমানবন্দরে ধারণক্ষমতা একসময় ৬৪ পিসিএম থাকলেও তা বাড়িয়ে ৯০ পিসিএম করা হয়েছে। ফলে বড় উড়োজাহাজ ওঠানামায় কোনো সমস্যা নেই।’

সৌদি এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী। এ নিয়ে কাজ চলছে। সুনির্দিষ্ট সময় বলা না গেলেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে ফ্লাইট চালু করা যায় কিনা, সে চেষ্টা চলছে।’

সকাল ও সন্ধ্যা ছাড়া শাহ আমানত বিমানবন্দর প্রায় ফাঁকা থাকে। যেসব ফ্লাইট ওঠানামা করে, এর বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের। গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাসলিম আহমেদ জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টায় দুটি করে ফ্লাইট হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে।

কিন্তু এখানে সকাল ৮টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামার চাপ থাকে। এ সময় বেশি ফ্লাইট ওঠানামার ফলে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়।

তবে বিদেশগামী ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রলির সংখ্যা ৪৬০ থেকে ৭০০-তে উন্নীত করা হয়েছে। আরও ৫০০ ট্রলি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘মে আই হেল্প ইউ’ নামে একটি হেল্প ডেস্ক খোলা হচ্ছে।

গত তিন মাসে এখানে ২ হাজার ৩৪১টি ফ্লাইট ওঠানামা করেছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে টিকিট কাউন্টার বাড়ানো হচ্ছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে কর্মচারীদের মন্দ কাজের জন্য শাস্তির পাশাপাশি ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এভাবে বিমানবন্দরের চেহারা বদলে দিতে কাজ চলছে।

আরো পড়ুন

Samakal

Loading...
,