চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরে তুলল রিয়াল মাদ্রিদ

রাজত্ব পুনরুদ্ধার করল রিয়াল মাদ্রিদ। আবারো চুমু আঁকল ইউরোপ সেরার ট্রফিটায়। এই নিয়ে ১৫তম বার। চ্যাম্পিয়নস লিগে মাদ্রিদই যে শেষ কথা, তা প্রমাণিত আরো একবার। ট্রফিটা যেন পরিণত হয়ে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে!

কাতারের সব আপডেট পেতে যুক্ত হোন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে

দুর্দান্ত প্রতাপ ধরে রেখেও ডর্টমুন্ড পারল না এই গল্পে বদল আনতে। সাথী হয়েছে ০-২ গোলের হার। অথচ ওয়েম্বলিতে ইতিহাস গড়তে যা করার তার সবটাই করল তারা। কিন্তু গোলের খেলা ফুটবলে দেখা দিলো না সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটাই। অন্য গল্প রিয়ালের, আধিপত্য না থাকলেও গোলটা তারা পেয়েছে ঠিকই।

শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদে ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। লণ্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে গড়ায় খেলা। যেখানে জার্মান জায়ান্টদের ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

অবশ্য শুরুটা ছিল রিয়ালের জন্য বেশ ভীতি জাগানিয়া। বল দখলে অনেক পিছিয়ে থাকলেও দুর্দান্ত সব আক্রমণে প্রতিপক্ষ শিবিরে কাঁপন ধরায় ডর্টমুন্ড। তবে গোল আসেনি। কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় থিবু কোর্তুয়া আবার কখনো গোলপোস্ট। বিপরীতে রিয়াল পায়নি বলার মতো বড় সুযোগ। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবে।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে নতুন চাকরির খবর

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। এবার আক্রমণে আসে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে টনি ক্রুসের বাঁকানো ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান ডর্টমুণ্ড গোলরক্ষক। আর সেই কর্নার থেকে দানি কারভাহালের হেড ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৬৩ ও ৬৫ মিনিটে ভিনিসিউস ও রদ্রিগোর আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয় ডর্টমুন্ডের রক্ষণভাগ। ৬৬ মিনিটে ক্রুসের নেওয়া কর্নার হ্যামেলস ঠেকিয়ে দিলে ফিরতি বলে ক্রস বাড়ান ক্রুস। কিন্তু হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ভিনি। ফলে গোলমুখ খোলা হয়নি। ৬৮ মিনিটের মাথায় আরো একটা সুযোগ মিস করে তারা।

অবশেষে গোল আসে ৭৪তম মিনিটে। টনি ক্রুসের করা কর্নার থেকে পাওয়া বল জালে জড়ান কারভাহাল। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে ‍যায় রিয়াল মাদ্রিদ। পেয়ে যায় শিরোপার ঘ্রাণ। বিপরীতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে শুরু করে ডর্টমুন্ডের রক্ষণ।

৭৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন বেলিংহ্যাম। ফাঁকায় বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ৮০তম মিনিটে ক্রুসের বাঁকানো ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে ফেরান ডর্টমুণ্ড গোলরক্ষক। পরের দু্ই মিনিটে আরো দুটি অসাধারণ সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি তিনি।

তবে ৮৩ মিনিটের মাথায় আর পেরে উঠেননি, ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। বেলিংহ্যামের বাড়ানো দুর্দান্ত পাস জালে পাঠান তিনি। ২০২২ এর ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে গোলের পর ফের ফাইনালে গোল করলেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।

৮৬ মিনিটে অবশ্য হেড থেকে একবার বল জালে জড়ান ফুলক্রুগ। কিন্তু অফসাইডের কারণে সে গোল বাতিল করেন রেফারি। ফলে ২-০ গোলের জয় নিয়েই শিরোপা নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ।

১১ বছর আগে এই মাঠেই অল জার্মান ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হেরেছিল ডর্টমুন্ড। সেখানেই আরো একবার দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরার মুকুট পরার স্বপ্ন চূর্ণ হলো তাদের।

এদিকে এই শিরোপা নিয়েই প্রিয় রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় জানালেন টনি ক্রুস। লস ব্লাঙ্কোজদের জার্সি গায়ে আর দেখা যাবে না তাকে। তবে শুধুই একবার নয়, টনি ক্রুস রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন ছয়বার। যেখানে সাথে আছে তার আরো ৪ সতীর্থ; লুকা মদরিচ, টনি ক্রুস, নাচো এবং দানি কারভাহাল।

এর আগে প্রথমবার ছয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন আরেক রিয়াল মাদ্রিদ তারলা পাকো হেন্তো।

আরো পড়ুন

Naya Diganta

Loading...
,