জন্মনিবন্ধনের নাম জটিলতায় ২৪ লাখ সৌদি প্রবাসী

প্রবাসীর সন্তানরা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি বা এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করার সময় বাবার নাম যাচাইয়ের জন্য বাংলা বা ইংরেজিতে জন্মসনদ থাকা অত্যাবশ্যক; যা ব্যতীত ভর্তি বা রেজিস্ট্রিশন ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলা ও ইংরেজিতে সঠিক নিবন্ধন না থাকায় সন্তানের বিদ্যালয়ে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, নবজাতকের পাসপোর্ট, কভিড টিকা সবই প্রায় বন্ধ রয়েছে। তাই অনেক প্রবাসী জন্মসনদে তাদের বাংলা ও ইংরেজি নাম সংযোজনের জন্য আবেদন করেছেন।

জন্মসনদ সংযোজন সংক্রান্ত সব কাজ শেষ করে দূতাবাসের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন এসেছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তা নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

আর বিষয়টি ঝুলে থাকার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাই সংশোধন সংযোজন মডিউল অ্যাপ্রুভাল আইডিতে প্রবেশ করে দ্রুত সমাধান করতে চায় দূতাবাস।

চলতি মাসের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এসব বিষয় উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি দেন। এ চিঠি পেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত ২১ নভেম্বর রেজিস্ট্রার জেলারেলের কাছে সমস্যা সমাধানের জন্য পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সৌদি আরবে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে পেয়েছি। চিঠি পেয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সমাধান হয়ে যাবে।’

চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে প্রায় ২৪ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। সম্প্রতি জন্মনিবন্ধনের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে সব বাংলাদেশির বাংলা ও ইংরেজিতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সঠিক নিবন্ধন ছাড়া সন্তানের বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি বা এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করার সময় বাবার নাম যাচাইয়ের জন্য বাংলায় জন্মসনদ থাকা অত্যাবশ্যক; যা ব্যতীত ভর্তি কিংবা রেজিস্ট্রেশন ব্যাহত হচ্ছে।

এ কারণে সন্তানের বিদ্যালয়ে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, নবজাতকের পাসপোর্ট, কভিড টিকা সবই প্রায় বন্ধ রয়েছে জন্মনিবন্ধনের জন্য। তাই অনেক প্রবাসী জন্মসনদে তাদের বাংলা নাম সংযোজনের জন্য আবেদন করেছেন।

কিন্তু ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শুধু ইংরেজি ভাষায় জন্মসনদ ইস্যু করা হতো বিধায় দূতাবাস বাংলা ভাষায় কোনো জন্মসনদ ইস্যু করেনি। তাই বর্তমানে ওইসব প্রবাসী বাংলাদেশিকে বাংলা ভাষায় জন্মসনদ দেওয়ার জন্য নানা তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হচ্ছে। জন্মসদন সংশোধন সংক্রান্ত অনলাইন আবেদন দীর্ঘ সময় রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য ঝুলে থাকার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

রাষ্ট্রদূতের চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতি দুই বছর পরপর সৌদি কোম্পানি থেকে এক মাসের জন্য ছুটি পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশে এখন ই-পাসপোর্ট তৈরি করতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।

জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে হলে জন্মনিবন্ধন বাংলা ও ইংরেজি থাকা বাধ্যতামূলক। প্রবাসীরা এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। এ অনলাইন আবেদন দূতাবাসের পক্ষ থেকে যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু অ্যাপ্রুভাল মডিউলটি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে থাকায় এ কাজ ঝুলে রয়েছে। যার ফলে প্রবাসীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাই এ সমস্যা সমাধানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে মডিউলের অ্যাপ্রুভাল আইডির মাধ্যমে দূতাবাসের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন।

সেই সঙ্গে সেবা সহজীকরণের জন্য দূতাবাসের সঙ্গে জন্মনিবন্ধন কার্যালয়ের সর্বদা যোগাযোগ করার লক্ষ্যে একজন ফোকাল পারসন নিয়োগ করা প্রয়োজন।

,