ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা

বাংলাদেশে ডলারের তেজ বেশ খানিকটা কমেছে। এক দিনের ব্যবধানে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে আমেরিকান মুদ্রা ডলারের দর সাড়ে ৫ টাকা কমেছে।

গত সোমবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ব্যবধান ৮ টাকা ৩৫ পয়সা।

মঙ্গলবার ডলারের সর্বোচ্চ দর ৫ টাকা ৪৪ টাকা কমে ১০২ টাকা ৫৬ পয়সায় নেমে এসেছে। আর সর্বনিম্ন দর ২ টাকা ১৩ পয়সা বেড়ে ১০১ টাকা ৭৮ পয়সায় উঠেছে। ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র ৭৮ পয়সায়।

আপনি কি হোয়াটসঅ্যাপে সব খবর পেতে চান? তবে ক্লিক করুন এখানে।

ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর (বাজারভিত্তিক) এই প্রথম ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে। অর্থাৎ ডলার দুর্বল হয়েছে; টাকা শক্তিশালী হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে ডলার আরও খানিকটা দর হারাবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম।

আমদের ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

তিনি বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘ডলারের বাজার অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আমদানি বেশ কমেছে; রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হতে শুরু করেছে। এটা অব্যাহত থাকবে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আমরা বাফেদার বৈঠক করব। ওই বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

আমরা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা থেকে ১ টাকা কমিয়ে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনব। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৯৯ টাকাই রাখব।’

‘নতুন দর নির্ধারণের পর আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর আরও কমে আসবে’ জানিয়ে আফজাল বলেন, ‘বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে।

এখন ডলারের কোনো সংকট নেই। আমরা আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

সংকট নিরসনে ডলারের দামের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়ে দাম বাজারভিত্তিক করে দেয়া হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছিল না ডলারের বাজার; উল্টো আগের মতোই চড়ছিল।

দুর্বল হচ্ছিল টাকা; শক্তিশালী হয়েই চলছিল ডলার। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। উল্টোপথে হাঁটতে শুরু করেছে ডলারের বাজার।

ডলারের দাম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর দামকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেই দরকেই আন্তব্যাংক লেনদেন দর বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগের দিনের লেনদেনের দরকে পরের দিন সকালে প্রকাশ করা হয়। এটাকেই বাজারভিত্তিক দর বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৩ সেপ্টেম্বরের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করছে না। জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি কেনাকাটার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ থেকে কত দামে কত ডলার বিক্রি করেছে, সে তথ্যও প্রকাশ করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০২ টাকা ৫৬ পয়সা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ১০১ টাকা ৭৮ পয়সা।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সোমবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা।

১৩ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল যথাক্রমে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা ও ১০১ টাকা ৫০ পয়সা।

তার আগে প্রায় দেড় মাস আন্তব্যাংকে ডলারের ক্রয়-বিক্রয় মূল্য ৯৫ টাকায় আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারভিত্তিক করার আগের দিন অবশ্য ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমিয়ে ৯৬ টাকা করা হয়েছিল।

কয়েক দিন ধরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেট এবং ব্যাংকগুলোতে একই দামে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বুধবার কার্ব মার্কেটে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে।

আর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১০৬ টাকা ২৫ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৬ টাকা ৯০ পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৭ টাকা।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। সিটি ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৪ টাকায়।

বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ব্যাংকে নগদ ডলারের দামও কমে আসবে।’

ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়ানোই যেখানে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল এতদিন, সেখানে ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের বাজার বাজারভিত্তিক করা হয়।

ওই দিন বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মুদ্রাটির বিনিময় হার ঠিক করে দেয় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। আগের দিন দাম এক টাকা বেড়ে হয়েছিল ৯৬ টাকা।

অর্থাৎ এক দিনে বাড়ল ১০ টাকা ১৫ পয়সা বা ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সিদ্ধান্তে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনের যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।

সাত মাসের কম সময়ে দেশের মুদ্রার দরপতন হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই যুদ্ধ শুরুর আগে দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।

ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ বা এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রার ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন বা বাফেদা ঠিক করে আন্তব্যাংকে ডলারের বিনিময় হার হবে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। সেই দরকেই আন্তব্যাংক দর হিসেবে বেছে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টাকা ও ডলারের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করেছে। জোগান ও চাহিদা এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) দামের ভিত্তিতে ডলারের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনন্দিন ভিত্তিতে ডলার কেনাবেচার মধ্যে নেই। তবে বাজার বিবেচনায় প্রয়োজন হলে কেনাবেচা করবে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে এখন এই দরে ডলার কেনাবেচা করছে। এটাকেই আন্তব্যাংক দাম বলা হচ্ছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দামে ডলার কেনাবেচা করত, সেটি আন্তব্যাংক দর হিসেবে উল্লেখ করা হতো। সেই দামই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

কাতারে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির খবর দেখুন এখানে ক্লিক করে

কাতারের আরও খবর

নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম

Loading...
,