দুবাই যেতে প্রবাসীদের বিড়ম্বনা

করোনায় বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর  চালু হলো ঢাকা থেকে আবুধাবি-দুবাই ফ্লাইট। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় পদে পদে দুর্ভোগে পড়ছেন চট্টগ্রামের প্রবাসীরা।

জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর থেকে ঢাকা থেকে আবুধাবি  ও দুবাই ফ্লাইট চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ঢাকা- আবুধাবি রোডে সপ্তাহে ৪টি এবং ঢাকা-দুবাই রোডে সপ্তাহে ৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করছেন তারা।

বিমান অফিসে ফিরতি টিকিট  রি-কনফার্ম করার জন্য টোকেন  নিতে হচ্ছে ১০ দিন আগে। যাদের চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে টিকিট করা ছিল তারা  আবার  ঢাকা হয়ে দুবাই  যাওয়ার টিকিট করতে হচ্ছে।

কারণ ঢাকা  শাহজালাল  আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া আর  কোথাও পিসিআর টেস্ট হচ্ছে না। তাই  প্রবাসীদের যোগাযোগ করতে হচ্ছে বিমান অফিসে। এতেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেটে বিমান অফিসের সামনে গতকাল রোববার দুপুরে প্রবাসীদের জটলা চোখে পড়ে। কয়েজন প্রবাসী জানান, বিমান অফিসে এসেই নানা হয়রানির কথা।

রাউজান উপজেলা থেকে এসেছেন মোহাম্মদ  সেলিম উদ্দিন।  তিনি দুবাই প্রবাসী। ৬ মাসের ছুটি নিয়ে দুবাই থেকে দেশে এসেই আটকে যান করোনার ফাঁদে। তিনি বলেন, ‘সকালে বিমান অফিসে এসেছি দুবাই  যাওয়ার টিকিট রি-কনফার্ম করতে। কিন্তু আমাদের টোকেন দিচ্ছেন আগামী ১৯ তারিখের। বলছেন সেদিন দেখা করতে হবে। ১৯ তারিখের আগেই আমাকে চলে যেতে হবে দুবাইয়ে। আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার  অবস্থা।  মাত্র কয়েক দিন সময়  আছে।’

হাটহাজারী উপজেলা থেকে সকালে এসেছেন আনোয়ার হোসেন। তিনিও দুবাই প্রবাসী। বিমান অফিসের বাইরে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন । বললেন, ‘সকাল থেকে বসে আছি। কি করব কিছুই  বলতে পারছি না। বিমান অফিসে থেকেই আমাদের দুর দুর তরে তাড়িয়ে দিতে চাইছে ।’

বাঁশখালীর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিমান অফিসে বাইরেই দাঁড় করিয়ে রাখছে। অথচ আমাদের সেবা দেওয়ার কথা অতিথির মতো। অনেকেই অনৈতিক ভাবে সুবিধা নিয়ে কাজ আগে করে দিচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসেছে পিসিআর ল্যাব। বিমানবন্দরে ফ্লাইট ছাড়ার ৬ ঘণ্টা আগে পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্টপ্রাপ্ত যাত্রীরা আরব আমিরাতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে তারা আরব আমিরাতে প্রবেশ করার পর আবার দ্বিতীয় দফা করোনা টেস্ট করা হবে।

এদিকে বিমান অফিসের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একজন  কর্মকর্তা  বলেন,  ফ্লাইট চালু হওয়ার পর  হুমড়ি খেয়ে  পড়েছেন  সব প্রবাসী। ফলে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন ৩০০ প্রবাসীকে তাদের সমস্যা সমাধান করে দিতে সেবা দিচ্ছি। অতিরিক্তদের পরবর্তী সেবার জন্য সময়  দিয়ে টোকেন দেওয়া হচ্ছে।

বিমান  বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  দিয়ে আবুধাবি-দুবাইতে বা মধ্যপ্রাচ্যে যাদের সরাসরি ফ্লাইট শিডিউল করা ছিল তাঁদের ঢাকা হয়ে যেতে  হচ্ছে। ফলে একটু কাজের চাপ পড়েছে। আটকে থাকা প্রবাসীরা চলে গেলেই এ চাপ আর  থাকবে না।

,