প্রবাসীর মেয়ের লাশ হাসপাতালে রেখে পালালো স্বামী, আটক শাশুড়ি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় হাসপাতালে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর লাশ রেখে পালিয়েছেন তার স্বামী।

এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে সিএনজি যোগে পালানোর সময় শাশুড়ি ও সিএনজিচালককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই গৃহবধূর গলায় কালো দাগ রয়েছে।

তবে শ্বশুর পক্ষের লোকজন বলছেন, ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত ফরজানা ইয়াছমিন কলি (২০) ওই এলাকার জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের আতিয়ার পাড়ার প্রবাসী আজিজ মাস্টারের মেয়ে।

ফরজানা ইয়াছমিন কলির চাচা মতিউর রহমান জানান, বিগত দুই বছর আগে মাইজবিলা এলাকার মৃত এনায়েত উল্লাহর ছেলে জিয়াউর রহমানের সাথে আমার ভাতিজি কলির বিয়ে হয়। কলি বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ভাতিজি আহত হয়েছে বলে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসেছি। এসে দেখি, আমার ভাতিজির লাশ পড়ে আছে হাসপাতালে। স্বামী- শাশুড়িসহ সবাই পালিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিহতের শাশুড়ি ও সিএনজিচালক সাদেককে আমরা আটক করেছি।

নিহতের মা রিজিয়া বেগম কান্না করতে করতে সাংবাদিকদের জানান, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ে এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে পারেনি। বিভিন্ন অজুহাতে স্বামী-শাশুড়ি নির্যাতন করে আসছিল। তার মেয়েকে স্বামী জিয়াউর রহমান এবং তার মা মিলে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্য দিকে নিহতের শাশুড়ি রাজিয়া বেগমের দাবি, ঘটনার দিন বাড়ির টয়লেটে অজ্ঞান অবস্থায় কলিকে দেখতে পান। সাথে সাথে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জাকারিয়া রহমান জিকু।

এ ব্যাপারে সোমবার সকালে লোহাগাড়া থানার এসআই ভক্ত চন্দ্র নয়া দিগন্তকে বলেন, গৃহবধূ কলির শাশুড়ি রাজিয়ে বেগম আমাদের হেফাজতে আছে এবং তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু বলেন, ‘ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

,