প্রবাসী পরিচয়ে এক প্রতারকের খপ্পড়ে অজ্ঞান হয়ে সব হারালেন কাতার প্রবাসী রাশেদ

গত ২৪ জুন শুক্রবার চট্টগ্রাম চন্দনাইশের কাতার প্রবাসী মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম কাতার থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ৮টায় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পর্ব সমাপ্ত করে একটি সিএনজি নিয়ে ঢাকা আব্দুল্লাহপুর বিআরটিসি বাস কাউন্টারে নিয়ে যান এবং ঢাকা টু চট্টগ্রাম এর বিআরটিসি এসি বাসের টিকেট করে দিয়ে সকাল ১১টার বাসে রওয়ানা হন।

বাসটি ছাড়ার মুহূর্তে রাশেদের পাশের সিটে আরেকজন যাত্রী চট্টগ্রাম যাবে বলে পাশে বসেন এবং তিনি নিজেকেও প্রবাসী পরিচয় দেন।

পথিমধ্যে বাস কুমিল্লা খন্দকার হোটেলে যাত্রা বিরতি করলে ওই সময় রাশেদসহ তার পাশের যাত্রী দুপুরের খাওয়া শেষে পুনরায় বাসে চড়ে বসেন।

এরই মধ্যে মলম পার্টির সদস্য উক্ত প্রতারক পাশের সিটের যাত্রী রাশেদকে বেহুশ করে তার কাতারে ভিসা লাগানো পাসপোর্ট, ব্যাগের দোকান ও বিমান টিকেট নিয়ে কুমিল্লা পদুয়া বিশ্ব বাজার এলাকায় নেমে পড়েন।

এ সময় বাসের সুপারভাইজার হঠাৎ কুমিল্লা নেমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রতারক যাত্রী নাকি জানান তার শাশুড়ির ব্রেইন স্ট্রোক করেছে, তাকে সেখানে যেতে হবে।

প্রতারক যাত্রী এ সময় কাতার প্রবাসী রাশেদের পাসপোর্টও বিমান এবং বাস টিকেটসহ কতারের আকামা, ইন্সুরেন্স কার্ড ও ব্যাগেজ টোকেন বদল করে সব মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান।

বাসটি যখন সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম বিআরটিসি কদমতলী স্টেশনে পৌঁছে তখন সকল যাত্রী নেমে পড়লেও বাসের সুপারভাইজার আলম বাস চেক করতে উঠে দেখেন, কাতার প্রবাসী রাশেদ নিজের সিটে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।

সুপারভাইজার আলম জানান, তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য কোন ধরনের মোবাইল নাম্বার বা ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে আধা ঘন্টা পর রাশেদের ভাই মো. শাহেদ কাউন্টারে এসে দেখেন তার ভাই অচেতন হয়ে পড়ে আছেন।

এ বিষয়ে কাতার প্রবাসী রাশেদের ভাই শাহেদ জানান, আমার ভাই ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে বাহির হয়ে যখন আব্দুল্লাহপুর বিআরটিসি বাস কাউন্টারে এসে পৌঁছায় তার কিছুক্ষণ পর আমাকে ওই প্রতারক যাত্রীর নাম্বার থেকে কল দিয়ে জানান বাস ছেড়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছে যাব।

পরবর্তীতে উক্ত নাম্বারে বারবার কল দেওয়ার সত্বেও নাম্বারটি বন্ধ পাই। কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ভাইয়ের খোঁজ নেওয়ার জন্য আমি সোজা চট্টগ্রাম বিআরটিসি বাস কাউন্টারে এসে আমার ভাইয়ের খোঁজ নিতে গেলে বাসে সুপারভাইজার আমাকে বিস্তারিত জানান।

পরবর্তীতে আমার ভাইকে আমি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে পাগলের প্রলাপ বকছেন।

শাহেদ আরো জানান, তার ভাইয়ের হাত ব্যাগে ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণ, পকেটে থাকা ২ টি মোবাইল সেট, ও ৪০ কেজি ওজনের ব্যাগেজে থাকা ট্যাং, নিডো দুধসহ উপহারের সবকিছু নিয়ে গিয়ে আমার ভাইকে শেষ করে দিয়েছে ওই প্রতারক।

একজন প্রবাসী যদি নিজ দেশে এসে নিজের নিরাপত্তা না পায় তাহলে প্রবাসীরা কেমনে প্রবাস জীবন করবে।

Loading...
,