প্রবাসী স্ত্রীর পরকীয়া সইতে না পেরে স্বামীর আত্মহত্যা

সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের হাটজয়পুর গ্রামে প্রবাসী স্ত্রী নাজমা বেগমের (৩৫) পরকীয়া এবং মানসিক অত্যাচার সইতে না পেরে সিরাজ খাঁ (৪০) নামে এক নসিমন চালক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের হাটজয়পুর গ্রামের মৃত তোরাব খাঁর ছেলে।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) আদালতে প্রবাসী স্ত্রীসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন মৃত সিরাজের বড় ভাই। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন: নাজমার পরকীয়া প্রেমিক আল আমিন, তার বন্ধু ওমান প্রবাসী আশসাদ, নাজমার মা সোনাই বেগম, বড় ভাই বিল্লাল এবং তার স্ত্রী মাজেদা বেগম।

সিরাজের ভাই মিরাজ খাঁ জানান, তার ভাই সিরাজ ও নাজমার ঘরে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। একটু সুখের আশায় নিজের কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে দুই বছর আগে স্ত্রীকে ওমান পাঠান সিরাজ।

কিন্ত প্রবাসে গিয়েই রুপ পাল্টে ফেলেন সিরাজের স্ত্রী নাজমা। নিজের চেয়ে বয়সে প্রায় ১৩ বছরের ছোট প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে খারাপ আচরণ শুরু করেন তিনি।

প্রায়ই পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে নিজের অবৈধ মেলামেশার দৃশ্য সিরাজকে ভিডিও কলে দেখিয়ে সিরাজকে আত্মহত্যা করতে বলতেন নাজমা। মেলামেশার দৃশ্য ভিডিও করে এবং ছবি তুলেও সিরাজের কাছে পাঠাতেন তিনি। এসব বিষয় নিয়ে সিরাজ সবসময় মানসিক কষ্টে থাকতেন।

তিনি আরও জানান, দুই মাস আগে নাজমা ওমান থেকে দেশে ফিরে এসে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সিরাজ নাজমাকে আনতে গেলে নাজমা এবং তার মা সোনাই, ভাই বিল্লাল ও ভাবী মাজেদা সিরাজকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন।

এসব ঘটনা সইতে না পেরে ৩ নভেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে বাড়ির পাশে আম গাছের সাথে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন সিরাজ। আত্মহত্যার আগে দুই পাতার একটি চিরকুট লিখে যান তিনি। পরে পুলিশ এসে সিরাজের লাশ উদ্ধার ও তার পকেট থেকে চিরকুটটি উদ্ধার করেন।

সিরাজের লিখে যাওয়া চিরকুটটি গনমাধ্যম কর্মীদের হাতে এসেছে। চিরকুটের শুরুতেই লিখা রয়েছে ‘আমি সিরাজ। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী নাজমা, নাজমার ভাই বিল্লাল, ভাবী মাজেদা বেগম ও মা সোনাই বেগম আর ওমানে থাকে একটা ছেলে নাম তার আল আমিন। আল আমিনের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে নাজমা আমারে মৃত্যুর দুয়ারে পাঠাইছে। আমি বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করেছি।’

এছাড়াও দীর্ঘ চিরকুটটিতে আলামিন ও নাজমার পরকীয়ার সম্পর্কের বিভিন্ন প্রমাণাদি, মেমোরিকার্ড, ফোনকল রেকর্ডিং, ভিডিও এবং ছবি কোথায় কোথায় রয়েছে সেসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মিরাজ খাঁ আরও বলেন, তার ভাইকে মানসিক যন্ত্রণা দিতে দিতে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছেন নাজমা এবং তার পরকীয়া প্রেমিক আল আমিন। তাদেরকে সহযোগিতা করেছেন আশসাদ, নাজমার মা সোনাই বেগম, বড়ভাই বিল্লাল ও বিল্লালের স্ত্রী মাজেদা।

তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। যে কারণে তিনি রাজবাড়ীর আমলী আদালতে মামলা করেন। তার ভাইকে যারা মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে তিনি তাদের বিচার দাবি করেন।

,