ফ্রান্সের গির্জায় যৌন নিপীড়নের শিকার ২ লাখ শিশু, প্রকৃত ক্ষতিপূরণ দাবি

১৯৫০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্যাথলিক গির্জায় প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। নিপীড়নকারীর তালিকায় রয়েছেন ২,৯০০ থেকে ৩২০০ জন প্রাদ্রী।

এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিপীড়নের শিকার প্রত্যেককে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিপীড়নের শিকারদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন লা প্যারোল লিবারি’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক চার্চের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০১৫-১৬ সালে বেশ কয়েকটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ও মামলার জেরে ২০১৮ সালে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে ফরাসি ক্যাথলিক চার্চ।

আদালত, পুলিশ এবং চার্চের রেকর্ডের মাধ্যমে আড়াই বছরেরও বেশি সময় নিয়ে ভুক্তভোগী এবং সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায় নিপীড়নের শিকার শিশুদের অধিকাংশ ছেলে, যাদের অনেকের বয়স ১০-১৩ বছর। এ প্রতিবেদনে অনুসারে গির্জায় এখনো শিশু নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

গতকালের এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটির শীর্ষ ক্যাথলিক ধর্মগুরুরা ক্ষমা চেয়েছেন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভ্যাটিকানের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তের ফলাফল শুনে পোপ ফ্রান্সিস ‘ব্যথা অনুভব করেছেন’। সাহস করে এগিয়ে আসার জন্য নিপীড়নের শিকারদের প্রশংসা করেছেন পোপ। ভুক্তভোগীদের জন্য আগামী বছর থেকে ‘আর্থিক অনুদান’ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ফরাসি চার্চ।

এদিকে, নিপীড়নের শিকারদের অধিকার আদায়ে গড়া সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন লা প্যারোল লিবারি’ বলছে—দ্রুত নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কেবল কয়েক হাজার ইউরো অঙ্কের সামান্য অর্থ দিয়ে এ দায় মুছে ফেলা যাবে না। প্রত্যেকের কষ্ট-ভোগান্তির ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঙ্কোয়া ডেভাক্স বলেন, মানুষের বিশ্বাস, মনোবল এবং শিশুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। সমস্ত অপরাধের জন্য অবশ্যই মূল্য দিতে হবে।

নিপীড়নের শিকার এবং ভিকটিমস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পার্লার এট রেভিব্রে এই প্রতিবেদনকে ‘ভূমিকম্প’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনিও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ‘প্রকৃত ক্ষতিপূরণের’ আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গির্জার স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা তাঁর।

,